সিটি গর্ভমেন্টের বিকল্প নেই- নোমান

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ জুন , ২০১৩ সময় ০৬:২১ অপরাহ্ণ

ccc 150yবিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে কোনো আপস নেই। কিন্তু মন্ত্রীদের দেখলে কথা বলব না, তা হবে না। আমাদের সামাজিকতা রক্ষা করার প্রচেষ্টা থাকতে হবে। এটা যদি করতে না পারি, তাহলে আমরা আরও বিভক্ত হয়ে পড়ব। এতে সংকট সমাধান হবে না।’

চট্টগ্রাম পৌরসভার ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত সমাপনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক মৎস্য ও পশু সম্পদমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান একথা বলেন।

রোববার তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী অনুষ্ঠান নগরীর কমিউনিটি সেন্টার দি কিং অব চিটাগং এ অনুষ্ঠিত হয়। শেষ দিনের অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতারা আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘নগরীর উন্নয়নে সিটি গর্ভমেন্টের বিকল্প নেই। মেয়রকে সমন্বয় করে সিটি কর্পোরেশন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াসাসহ সব সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করে সিটি গর্ভমেন্ট গঠন করা প্রয়োজন। এতে জবাবদিহিতা বাড়বে।’

সমন্বয়হীনভাবে উন্নয়ন করে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বন্দরনগরীর উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহবান জানান বর্ষীয়ান এ রাজনীতিবিদ।

বিরোধীদলীয় নেতা আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। আমরা আশ্বস্ত হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম এবার আমাদের অবস্থার পরিবর্তন হবে। কিন্তু চট্টগ্রামের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। হয়ত প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় ব্যস্ততার কারণে দায়িত্ব নেওয়ার কথা ভুলে গেছেন।’

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রসঙ্গে সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, ‘কর্পোরেশনের বার্ষিক বাজেট দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব না। এতে প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন। সামগ্রিক পরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করলে জলাবদ্ধতা সংকট নিরসন সম্ভব হবে।’

কর্ণফুলী নদী ভরাট প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, ‘কর্ণফুলী ভরাটের বিরুদ্ধে সাবেক মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী আন্দোলন করছেন। এ ব্যাপারে এমপি নুরুল ইসলাম বিএসসি সংসদে কথা বলেছেন। তারপরেও কর্ণফুলী ভরাট অব্যাহত আছে। যারা এ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে তারা স্বার্থান্বেষী মহল। তাদের শক্তির উৎস কী, তা চট্টগ্রামবাসী জানতে চায়।’

তিনি বলেন, ‘কর্ণফুলী ভরাট হয়ে গেলে চট্টগ্রামের পরিবেশ ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই এ ভরাট কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আমাদের সচেতন হতে হবে।’

চট্টগ্রাম নগরীর শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নে বর্তমান মেয়রের পাশাপাশি সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর উদ্যোগের প্রশংসা করেন বিএনপির সহ সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমান। চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে ব্যয় হওয়া অর্থ যাতে যথাযথভাবে খরচ হয় এজন্য নজরদারী রাখতে মেয়রের প্রতি আহবান জানান। পাশাপাশি চট্টগ্রামের উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান আবদুল্লাহ আল নোমান।

চট্টগ্রামের মেয়র এম মনজুর আলমের সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক বন ও পরিবেশমন্ত্রী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি এবং সাবেক হুইপ ওয়াহিদুল আলম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমদ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মহিলা কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণি।

অনুষ্ঠানে বক্তারা নগরীর জলাবদ্ধতা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে নজর দিতে মেয়রের প্রতি আহবান জানান। তারা শিক্ষা খাতের উন্নয়নে নেওয়া মেয়রের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে স্মতিচারণা করেন কর্পোরেশনের সাবেক লাইট সুপারভাইজার সিরাজুল মাওলা, সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা এম এ বারী, শ্রমিক সংস্থার সহ সাধারণ সম্পাদক মো. শরীয়ত উল্লাহ, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি কাজী আবু তৈয়ব ও জাতীয় শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি দোস্ত মোহাম্মদ প্রমুখ।

তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সমাপনী দিনে কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হয়।


আরোও সংবাদ