‘সিটিভি জনগণের সম্পদ, এ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না’

প্রকাশ:| রবিবার, ২৯ মে , ২০১৬ সময় ০৮:৪৫ অপরাহ্ণ

সিটিভিবাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের (সিটিভি) বার্তা সম্পাদক হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ, খালেদা জিয়ার সংবাদ পরিবেশনকারী নুরুল আজম পবন, মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আসাদুজ্জামান মিঠু, আমান উল্লাহ আমানের সহযোগী মাসুদুর রহমান কাজলসহ জামায়াত-বিএনপি কুচক্রী মহলের অপসারণের দাবিতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে ‍মানববন্ধন করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর শাখা।

রোববার (২৯ মে) বিকেলে এ মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক, মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা সাহেদ মুরাদ সাকুর সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব হোসেন সরওয়ারদীর সঞ্চালনায় সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা পরিষদের মহাসচিব মুক্তিযোদ্ধা মো. ইউনুছ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক, সাবেক কাউন্সিলর মো. আবু তাহের, নগর আওয়ামী লীগের সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অমল মিত্র, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগর কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির চৌধুরী, নগর ১৪ দলীয় নেতা মিটুল দাশগুপ্ত, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সরোয়ার আলম চৌধুরী মনি, চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক রাসেল, সদস্য কাজী রাজিশ ইমরান, মিজানুর রহমান সজীব, সাজেদ আনোয়ার, আশরাফুল ইসলাম, মো. হায়দার, মো. আবদুল আহাদ রিপন, যুব নেতা জহিরুল ইসলাম সুমন, দেলোয়ার হোসেন সুমন, কামরুল ইসলাম, রিয়াজুর রহমান, মহানগর ছাত্রলীগ নেতা শহীদুল ইসলাম শহিদ, যুবনেতা আমিনুল ইসলাম আজাদ, জিয়ানুল ইসলাম জ্যাকব, মো. ইউনুছ, মো. মোমিন প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বার বার দাবি জানানোর পরও বিএনপি-জামায়াত সমর্থক এই তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও বহাল তবিয়তে থেকে যাওয়ার কারণে চট্টগ্রামের প্রগতিশীল অঙ্গনে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। এক কেন্দ্র তিন বছরের বেশি থাকার নিয়ম না থাকলেও তারা তিনজন রয়ে গেছেন পাঁচ-সাত বছর। কেন্দ্রের ভেতরে সপরিবারে থাকার নিয়ম না থাকলেও অবৈধভাবে সপরিবারে বসবাস করছেন বছরের পর বছর। বর্তমান সিটিভি চলছে জামায়াত-বিএনপির প্রেসক্রিপশনে।

তারা বলেন, জামায়াত বিএনপির চিহ্নিত এই তিন কর্মকর্তা-কর্মচারী পিঠ বাঁচানোর জন্য কয়েকজন অনুষ্ঠান আয়োজনের দালালদের সহায়তায় ভোল পাল্টানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারি গণমাধ্যম হলেও সিটিভির সংবাদে সরকারের উন্নয়নের চিত্র প্রচার করা হয় না। সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সরকারি রাজনৈতিক সংগঠন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা শাখার কোনো সংবাদ প্রচার করা হয় না। অত্যন্ত সুকৌশলে এসব সংবাদ এড়িয়ে যায়। নুরুল আজম পবন সিটিভির বার্তার দায়িত্বে থাকলেও অবৈধ প্রভাব দেখিয়ে তিনি নিজে অনুষ্ঠানও নির্মাণ করেন। তার পছন্দের শিল্পী আলোচকদের মাঝে অনুষ্ঠান বণ্টন করে দেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা এক সপ্তাহের মধ্যে মিঠু-কাজল-পবনের অপসারণ দাবি করেন। অন্যথায় আগামী ৬ জুন সিটিভি ঘেরাও করা হবে বলে ঘোষণা দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে সিটিভি কেন্দ্রের তেতরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের প্রতিনিয়ত নাজেহাল, অপদস্ত, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হচ্ছে। সিটিভির অতিথি প্রযোজক শাহিনুল ইসলাম বাবলুর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যান্ত্রিক শাখার কর্মচারী মোস্তাফিজুর রহমানকে অযৌক্তিক ও হয়রানিমূলক টিঅ্যান্ডটি কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে। শিল্পী সম্মানী খাতে নিয়োজিত কর্মচারীদের শিল্পী সম্মানী বেতন আটকে দেওয়া হয়েছে। স্বৈরচারী পন্থায় এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে শুধু জামায়াত-বিএনপি সমর্থিত কর্মচারীরা এবং অনুষ্ঠান আয়োজক সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের জন্য।

তারা বলেন, সিটিভি জনগণের সম্পদ। জনগণের সম্পদ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।

মানববন্ধন থেকে শাহীনুল ইসলাম বাবলুর ওপর হামলার বিচার, মোস্তাফিজুর রহমানকে স্বপদে বহাল, শিল্পী, কর্মচারীদের শিল্পী সম্মানী, বেতন আটকানোর কূটকৌশল অবলম্বন থেকে বিরত থাকার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি প্রযোজক শিল্পী কর্মচারীদের অহেতুক হয়ারানি নির্যাতন বন্ধেরও জোর দাবি জানান।