সিকের উদ্ভট শিক্ষা নীতিমালা হ-য-ব-র-ল

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল , ২০১৭ সময় ১১:১৫ অপরাহ্ণ

জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর সাথে সাংঘর্ষিক ও এখতিয়ার বহির্ভূত দাবি করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) প্রণীত শিক্ষানীতি প্রত্যাখ্যান করেছে নগর ছাত্রলীগ। অনতিবিলম্বে চসিকের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষানীতির পূর্ণ বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সরকারি দলের অঙ্গসংগঠনটি।  

মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ ‘পরিপন্থী ও সাংঘর্ষিক’ চসিকের ‘উদ্ভট’ শিক্ষানীতি বাতিলের দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন নগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমেদ ইমু। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নগর ছাত্রলীগের সহসভাপতি নাজমুল ‍হাসান রুমি, ইয়াছিন আরাফাত কচি, রাহুল বড়ুয়া, একরামুল হক রাসেল, সৌমেন বড়ুয়া, নোমান চৌধুরী, জয়নাল উদ্দিন জাহেদ, নাঈম রনি, শাহীন মোল্লা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া দস্তগীর, গোলাম সামদানি জনি, উপ-প্রচার সম্পাদক এমএ হালিম সিকদার, সহসম্পাদক শেখর দাশ, সুমন দাশ, কায়সার মাহমুদ রাজু, নগর ছাত্রলীগ নেতা বিকাশ দাশ প্রমুখ।

জাতীয় শিক্ষা নীতিমালাকে পরিপূর্ণ আখ্যা দিয়ে লিখিত বক্তব্যে বলা হয, যাতে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি এমনকি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নিয়ম উল্লেখ রয়েছে। এরপরও কী কারণে চসিকের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনায় আলাদা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে তা আজ ছাত্রসমাজের কাছে প্রশ্ন।

স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইন ২০০৯ এর ধারা ১২০ অনুযায়ী ষষ্ঠ তফসিলে বর্ণিত বিষয়গুলোর ওপর সরকার (স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়) বিধি প্রণয়ন করতে পারবে বলা আছে। ধারা ১২১ এর (সিটি করপোরেশন আইনের) উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সিটি করপোরেশন সরকারের পূর্ব অনুমোদনক্রমে এবং সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপনে এই আইন ও বিধির সাথে অসামাঞ্জস্যপূর্ণ নয় এরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করতে পারবে বলে উল্লেখ রয়েছে। উক্ত প্রজ্ঞাপনের ধারা ১২২ এর অধীনে সরকারের নির্দেশক্রমে উপআইন গেজেটে প্রজ্ঞাপন ধারা প্রণয়ন করতে পারবে বলা আছে। কিন্তু শিক্ষা বিষয়ে কোনো আলাদা নীতিমালা করার এখতিয়ার সিটি করপোরেশন থাকার কথা উল্লেখ নেই।

ধারা ৪১ এ বর্ণিত বিস্তারিত কাজের তফসিলের (তৃতীয় তফসিল) ২৬ অনুচ্ছেদে নির্ধারিত শিক্ষাবিষয়ক নির্দেশনার বাইরে ও জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর বাইরে কোনো আলাদা নীতিমালা তৈরির সুযোগও নেই সিটি করপোরেশনের। সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট কিছু বিষয় ধারা ১২১ এর অনুসারে সরকারের অনুমোদনক্রমে অষ্টম তফসিলে বর্ণিত বিষয়ে গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা প্রবিধান করতে পারলেও কোনো স্বতন্ত্র নীতিমালা করার এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের নেই। কিন্তু চসিক জাতীয় শিক্ষানীতিমালা ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গেজেট অমান্য করে নিয়ম বহির্ভূত ভাবে চসিক পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে যা জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০ এর বিরুদ্ধাচরণ ও জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এর সাথে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক হয়েছে বলে দৃশ্যমান।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চসিকের ‘শিক্ষানীতি’ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে স্থানীয় সরকারের বিধি অনুযায়ী অবসরের সময় ৫৯ বছর থাকলেও এখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর, ভবিষ্য তহবিল, পেনশন সুবিধাদি অংশে (১৩ অনুচ্ছেদ পৃষ্ঠা ৬৪-৬৫) অবসরের বয়স এবং অবসরজনিত সুবিধাদিতে শিক্ষক কর্মচারীদের বয়স ৬০ বছর করা হবে বলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য সরকারের প্রণীত আইনের চরম লংঘন হয়েছে।

চাকরিতে এক বছরের বেশি সময়ের কথা উল্লেখ করা হলেও, চসিক কী সুযোগ-সুবিধা এ সময়ে দেবে তা নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়নি। নীতিমালার ২১ পৃষ্ঠায় সহকারী শিক্ষক এর ক্ষেত্রে বেতন স্কেল (গ্রেড ১১) এর বিপরীতে ১২ হাজার টাকা উল্লেখ থাকলেও একই নীতিমালায় ৩২ পৃষ্ঠায় সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রে (গ্রেড ১১) ১২ হাজার ৫০০ টাকার কথা উল্লেখ আছে।চসিকের উদ্ভট শিক্ষা নীতিমালার এই হলো হ-য-ব-র-ল অবস্থা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আগে সিটি করপোরেশন কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করলেও, নতুন নীতিমালা (পৃষ্ঠা ৩৪) সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি কর্তৃক এ নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে। এতে করে ভবিষ্যতে নিয়োগকৃত নতুন শিক্ষকদেরও মান নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠবে এবং শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ওপর দায়িত্ব দেওয়ার ফলে চরম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতির সম্ভাবনা প্রকট আকার ধারণ করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।

ছাত্রলীগ নতুন নীতিমালার কারণে চসিক পরিচালিত প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অতীতের প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিলুট করার চক্রান্ত এবং চসিক শিক্ষকদের একধাপ অবনমন করার অভিযোগ এনেছে।