সিএমপির অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও পরিছন্ন অভিযানকে স্বাগত জানালো ক্যাব

প্রকাশ:| রবিবার, ২৬ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:২১ অপরাহ্ণ

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী, দক্ষিন এশিয়ার বৃহত্তম বন্দর, শিল্প, ব্যবসা বানিজ্যের প্রাণ এবং প্রবেশ ধার হলেও নগরীর প্রতিটি সড়কে অবৈধ হকার্স, ভাসমান, দোকান, গাড়ীর স্ট্যান্ড, ময়লা আবর্জনার স্তুুপ, নির্মান সামগ্রীর স্তুপ, ড্রেনের ময়লা তুলে স্তুপ করে রাখা, দোকান, মার্কেট গড়ে তুলে সাধারন পথচারী ও জনগন ও যানবাহনের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্ঠি করে পুরো নগরীকে ফুটপাতে পরিনত করা হয়েছিল। এই দুঃসহ যন্ত্রনা ও নরক দশা থেকে মুক্তিদানের জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ এবং যত্রতত্র ময়লা ফেলার অভ্যাস পরিবর্তনে নগরবসাীকে উদ্ধুদ্ধ করার জন্য পরিছন্ন অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ গ্রহন করে নবাগত পুলিশ কমিশনার আবদুল জলিল চট্টগ্রামকে একটি নিশ্চিত অবসবাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরের হাত থেকে রক্ষা করেছেন বলে মত প্রকাশ করে এ ধরনের সাহসী উদ্যোগ পরিচালনা অব্যাহত রাখার দাবী জানিয়েছেন করে দেশে ক্রেতা-ভোক্তাদের স্বার্থসংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ(ক্যাব) চট্টগ্রাম মহানগর ও বিভাগীয় কমিটি। ২৫ অক্টোবর নগরীর চান্দগাঁওস্থ ক্যাব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিশেষ সভায় এ আহবান জানানো হয়।

ক্যাব কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারন সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সদস্য সচিব অজয় মিত্র শংকু, ক্যাব নেতা আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, আবিদা আজাদ, উম্মে কুলসুম আরজু, শাহাদৎ হোসেন, ক্যাব নেতা তৌহিদুল ইসলাম, জানে আলম, ইসমাইল ফারুকী, আবু ইউনুচ, মোনায়েম বাপ্পী, নারী নেত্রী সায়মা হক, দীপিকা বড়–য়া, ঝর্না বড়–য়া, নাসিমা বুলবুল, রুখসানা আখতারুন্নবী, শাহীন আকতার বিউটি, ফারহানা আকতার, মোঃ আবু ইউনুচ, রুবি খান, জিকারুল হাবিব ওয়াহেদ প্রমুখ।

বক্তাগন অভিযোগ করে বলেন নগরীর ফুটপাতগুলি দখলমুক্ত করা গেলে নগরীতে প্রতিদিন সংগঠিত অপরাধের মাত্রা কমানো যাবে, জনগন রাস্তাঘাটে অবাধে চলাফেরা করতে পারবে, হাঁটার অভ্যাস সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্যবান জাতি গঠন প্রক্রিয়া জোরদার হবে, রাস্তায় যানজটের কারনে কোটিকোটি শ্রম ঘন্টা নষ্ট হবার মাত্রা কমবে, রাস্তাঘাটে অস্বাস্থ্যকর ও খোলা খাবার বিক্রি কমবে, যাতে করে নগরজীবনে স্বাভাবিক জনস্বাস্থ্য উন্নতি ঘটবে, যানজট কমবে, দুর্ঘটনা হ্রাস পাবে এবং সর্বোপরি ফুটপাতে দোকানের নামে চাঁদাবাজি, বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ দিয়ে কোটি কোটির বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে যা জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির বর্তমান গতিকে আরো ত্বরান্বিত করবে। এছাড়াও ফুটপাতে অবৈধ ভাবে এভাবে দোকান, স্থাপনা, ইট বালি, কংকর দিয়ে রাস্তা দখল করে রাখার কারনে মানুষের সুশৃংখল জীবন যাপন বাধাগ্রস্থ হয়। যা পৃথীবির কোন সভ্য দেশে হয় না।

বক্তাগন আরো বলেন পৃথিবীর কোন দেশ পাওয়া যাবে না যেখানে মানুষ প্রতিদিন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার সদাই করার জন্য নিকস্থ মার্কেটে না গিয়ে রাস্তায়, ফুটপাতে, নালার উপর ধুলাবালি ও অপরিছন্ন স্থানে কেনাকাটা করে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও খাদ্য পণ্যের কেনাকাটায় মানব সভ্যতার মাপকাটি উন্নত বিশ্বে প্রতিনিয়ত দ্রুত উন্নয়ন সাধিত ও আধুনিকায়ন হলেও বাংলাদেশ প্রতিদিন রাস্তায়, নালা নর্দমায় অস্বাস্থ্যকর স্থানে দোকানপাট, দখল, আবর্জনার স্তুুপে পরিনত হচ্ছে, কেনাকাটা ও বাজার ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশ সম্মত হচ্ছে না, এটা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। অথচ সরকার ইতিমধ্যেই প্যাকেটিং আইন করেছে আর নগরীর বাজার ও মাছ মাংশের দোকানগুলিকে স্বাস্থ্য সম্মত করার কোন দৃশ্যমান কর্মতৎপরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

বক্তাগন বলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নগরবাসীর চাহিদার কথা বিবেচনা করে চট্টগ্রামকে একটি অবসবাসযোগ্য নগরীতে পরিনত হবার চক্রান্ত থেকে রক্ষা করে একটি আধুনিক ও সভ্য নগরী হিসাবে গড়ে তোলার কথা বিবেচনা করে সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীতে অবৈধ ফুটপাত দখলমুক্ত করা ও পরিছন্ন অভিযান পরিচালনায় যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ হয়ে থাকবে। বক্তাগন আরো বলেন ইতিপুর্বে সিএমপি ফরমালিন বিরোধী অভিযানের অংশ হিসাবে নগরী ৩টি বাজারে ফরমালিন পরীক্ষা মেশিন স্থাপন, ফরমালিন বিরোধী প্রচারনা, নগরীর প্রবেশধারে ফলমুলে ফরমালিন পরীক্ষা, যৌণহয়রানি প্রতিরোধ(ইভটিজিং বিরোধী) প্রচারনাসহ নানা উদ্যোগ পরিচালনা করে নগরবাসীর আস্থা অর্জন করেছে। বক্তাগন সিএমপির নবাগত কমিশনারের এ সাহসী উদ্যোগের জন্য তাকে অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানানো হয়।

বক্তাগন আশা প্রকাশ করে নগর পুলিশের এ ধরনের ব্যাতিক্রমর্ধী উদ্যোগে আরো বেশী করে স্থানীয় সাধারন জনগনকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগে নেয়া, পুলিশের সাথে দাগী আসামী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠির সাথে সংযোগের পাশাপাশি স্থানীয় নাগরিক সমাজ, নিঃস্বার্থ সমাজ পরিবতর্নকামী মানুষগুলোর কার্যকর সংযোগ স্থাপন জোরদার হলে পুলিশের এ ধরনের ব্যাতিক্রমধর্মী উদ্যোগ গুলো স্থায়িত্ব লাভ করবে এবং জনগন সত্যিকার অর্থে এ সমস্ত উদ্যোগ থেকে উপকৃত হবে। নতুবা স্বার্থান্বেশী মহল এখানেও তাদের স্বার্থ হাসিলের অপপ্রয়াস চালাতে পারে।