সিএমপিতে জঙ্গি বিরোধী এসটিজি

প্রকাশ:| বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর , ২০১৫ সময় ১০:৫৯ অপরাহ্ণ

সিএমপিতে জঙ্গি বিরোধী ‘স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ’ (এসটিজি) গঠন করা হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাথে নতুন করে আত্মপ্রকাশ করা জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতারোধে প্রথমবারের মত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-সিএমপিতে জঙ্গি বিরোধী ‘স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ’ (এসটিজি) গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে গত ১৮ আগস্ট থেকে সাত সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি কাজ করছে। আর সার্বিক বিষয়টি মনিটরিং করছেন সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য।

বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর ছাড়া চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে অন্য কোনো উগ্রপন্থি জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা মিলছেনা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তালিকা করে চট্টগ্রামের বাইরে ‘ব্লগারদের’ যেভাবে হত্যা করা হচ্ছে বিষয়টি নিয়ে সিএমপির শীর্ষ কর্মকর্তাদেরও ভাবিয়ে তুলছে। এছাড়া নগরীর অলিতে গলিতে হিযবুত তাহরীরের পোস্টার সাটানো কিংবা র‌্যাব কর্তৃক আবিস্কৃত চট্টগ্রামভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘শহীদ হামজা ব্রিগেড’ এর কার্যক্রমও গোয়েন্দাদের নজরে এসেছে।

বিশেষ করে বুধবার সকালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নাম করে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট অশোক কুমার দাশকে হত্যার হুমকি দিয়ে এসএমএস বার্তা দেয়ায় বিষয়টি নতুন করে সামনে চলে এসেছে। ওই বার্তায় আওয়ামী লীগের উপদেষ্ঠা মন্ডলীর সদস্য ও সমাজ বিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্তকেও ভারতের দালাল উল্লেখ করে হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। এঘটনায় হুমকিপ্রাপ্ত অশোক দাশ কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

বিষয়টি স্বীকার করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য বাংলামেইলকে বলেন, ‘জঙ্গি তৎপরতারোধে তথ্য সংগ্রহ ও করণীয় নির্ধারণের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে সাত সদস্যের ‘স্পেশাল টাস্ক গ্রুপ’ (এসটিজি) গঠন করা হয়েছে। নগর বিশেষ শাখার অতিরিক্ত উপ কমিশনার (এডিসি) রবিউল হোসেন ভূইয়াকে প্রধান করে বিশেষ শাখার সাতজন সদস্যকে এই গ্রুপে রাখা হয়েছে। গত মাসের ১৮ আগস্ট থেকে এই কমিটি তাদের কাজ শুরু করেছে।’

সিএমপি সূত্র জানায়, জঙ্গিদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা, তাদের কার্যক্রম, অবস্থান ইত্যাদির তথ্য সংগ্রহ করে কর্র্র্র্তৃপক্ষকে দেয়াটাই হচ্ছে এই কমিটির প্রধান কাজ। রাজনৈতিক সহিংসতা, সামাজিক অপরাধ দমনে ব্যস্ত সময় পার করা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষে বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠা জঙ্গি সংগঠনগুলো সম্পর্কে তেমন বেশি তথ্য থাকেনা। সেজন্য বিশেষ করে জঙ্গি দমনে  ‘স্পেশাল টাস্ক  গ্রুপ’ (এসটিজি) গঠন করা হয়েছে।

 

গত মাস থেকে কাজ করতে গিয়ে ‘এসটিজি’ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা নিজেদের নজরে আনতে পেরেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব জঙ্গি সংগঠনগুলো কোথায় কিভাবে কাজ করছে সেটি আরো পর্যবেক্ষণ করে তা প্রকাশ্যে আনা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বাইরে বেশ কয়েকজন ব্লগারকে খুন করার পর চট্টগ্রামের কয়েকজন ব্লগারকে নিরাপত্তার জন্য নিজেদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে জানান কমিটির সদস্য সহকারি কমিশনার (বিশেষ শাখা) কাজেমুর রশীদ।

তিনি বাংলামেইলকে বলেন, ‘নগরীতে হিযবুত তাহরীরসহ বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠনের তৎপরতা আমাদের নজর এসেছে। আমরা জঙ্গিবাদের মূল উৎপাটনে কাজ করছি। বিশেষ করে তথ্য দিয়ে সিএমপির পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশকে সহযোহিতা করাটাই আমাদের মূল কাজ। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে ব্লগারকে হত্যা করা হতে পারে এমন আশংকায় আমরা তাদের ওপর নজরদারি বাড়িয়েছি।’

সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ব্লগার হত্যার ঘটনার পর পুলিশ সদর দপ্তার থেকে আগস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। স্পেশাল টাস্ক গ্রুপকে ব্লগে লেখালেখির মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত প্রদানকারীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকসহ সামাজিক যোগযোগমাধ্যমগুলোও নিয়মিত নিবিড় মনিটরিংয়ে রাখতে বলেছে পুলিশ সদর দপ্তর।

এছাড়া ব্লগারদের লেখা বিশ্লেষণ করে তাদের কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে যেসব ব্লগার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ধর্মীয় উসকানিমূলক লেখালেখি প্রকাশ বা প্রচার করবেন তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া প্রত্যেক জেলা ও মহানগরে সংশ্লিষ্ট অপারেশনাল ইউনিটের আওতাধীন এলাকায় ব্লগার, জঙ্গি ও উগ্রপন্থীদের চিহ্নিত করে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতেও নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।