সিআইইউ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা উপলক্ষে আলোচনা সভা

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৯:১২ অপরাহ্ণ

১৯৫২ সালকে ভাষা আন্দোলনের বছর হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও মূলত ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পরিকল্পনার মধ্যেই ভাষা আন্দোলনের বীজ নিহিত ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং চিটাগং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির (সিআইইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকালে সিআইইউর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন তিনি। সিআইইউর শিক্ষার্থীভিত্তিক ক্লাব ‘ডোসা’ এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

অধ্যাপক মাহফুজুল হক চৌধুরী বলেন, পাকিস্তান সৃষ্টির সময় ১৯৪৭ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ৫২ শতাংশ মানুষই ছিল বাঙ্গালী, যাদের ভাষা ছিল বাংলা। তাই তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে তা নিয়ে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহর মত বাঙ্গালী মুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মনে প্রশ্নের উদয় হয়েছিল।

১৯৪৮ সালে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ কার্জন হলে উর্দুকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা দিলে সেখানে উপস্থিত অলি আহাদের নের্তৃত্বে ছাত্ররা জিন্নাহ্র মুখের উপর ‘না’ বলে দেয়। এটিই ছিল জিন্নাহর জীবনে সম্ভবত প্রথম তিনি প্রকাশ্যে এভাবে ‘না’ শুনেছেন। এ ঘটনার শিক্ষা হলো বাঙ্গালী  মাথা নত করে না, তাঁরা মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারে, প্রতিবাদ করতে জানে।

বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলনে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, এই  আন্দোলনের নের্তৃত্বে ছিল ছাত্ররা। এটি কোন রাজনৈতিক দলের হাত ধরে হয়নি, ছাত্রসমাজই নেতৃত্ব দিয়েছিল।

তখনকার ছাত্রসমাজ আর আজকের ছাত্রসমাজের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকাল পত্রিকা খুললেই দেখা যায় ছাত্ররা টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম নেই, তারা নাগরিক দায়িত্ব ভুলে গেছে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হলে বায়ান্ন’র সেই ভাষা আন্দোলনে ফিরে যেতে হবে।

অনুষ্ঠানে  সিআইইউর ব্যবসায় অনুষদের উপদেষ্টা ড. এম. আইয়ূব ইসলাম বলেন, দু’টি বিশেষ কারণে বায়ান্ন’র ভাষা আন্দোলন জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ। এর একটি হলো রাজনৈতিক অপরটি মাতৃভাষা সংশ্লিষ্ট। এই আন্দোলন যতটা না ছিল  ভাষার দাবিতে, ততটা ছিল তৎকালীন স্বৈরাচারী পাকিস্তান সরকারের একগুয়েমীর বিরুদ্ধে।

জাতি যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন একুশে ফেব্রুয়ারিকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে বলে  উল্লেখ করে সিআইইউর ব্যবস্থাপনা বিভাগের সভাপতি প্রকৌশলী রশিদ চৌধুরী বলেন, এই দিনে বাঙ্গালী আনুষ্ঠানিকভাবে ভাষার জন্য প্রতিবাদ করেছিল। ফলে, বাংলা মাতৃভাষা হিসেবে শুধু স্বীকৃতিই লাভ করেনি, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছে।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপণন বিভাগের প্রধান ড. মাহমুদ হাসান, তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের প্রধান রুবেল সেন গুপ্ত, ব্যবসায় অনুষদের শিক্ষক ড. মো. নাঈম আব্দুল্লাহ, রাহাত বারী তুহিন, প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষক মো. সাজ্জাতুল ইসলাম, ড. আসিফ ইকবাল, গোলাপ কান্তি দে, প্রশাসন বিভাগের সহকারী পরিচালক কুমার দোয়েল দে প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


আরোও সংবাদ