‘‘সাহিত্যের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান’’

প্রকাশ:| সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৬ সময় ০৮:৩৭ অপরাহ্ণ

শেখ হাসিনা একুশে বই মেলাপ্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে পর্দা উঠল মাসব্যাপী অমর একুশে গ্রন্থমেলা।

প্রতি বছরের মতো এবারও ১ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলার’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সাহিত্যের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে সারা বিশ্বের কাছে পৌঁছে দেয়ার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানান। বিশ্বের খুব কম দেশই মায়ের ভাষার জন্য জীবন দিয়েছে এ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সময় ভাষা শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, এ গ্রন্থমেলাকে কেন্দ্র করে দেশের নানাপ্রান্তের মানুষ এবং প্রবাসী বাঙালিদের বিপুল সমাগম ঘটে। এই মেলা এখন পরিণত হয়েছে বৃহত্তর বাঙালির মিলনমেলায়।

শেখ হাসিনা বলেন, এখানে আসতে আমার খুব ভালো লাগে। তবে অনেক নিয়মে বন্দি থাকতে হয় এখন। সরকারি কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। আবার কবে বইমেলায় আগের মতো ঘুরে বেড়াতে পারবো! মুক্ত হয়ে বইমেলায় ঘুরে বেড়ানোর প্রত্যাশায় থাকলাম।

তিনি আরও বলেন, সারা বছরই এখন অনেক আকাঙ্ক্ষা নিয়ে বসে থাকি বইমেলা কখন আসবে। ফেব্রুয়ারি আমাদের প্রেরণা দেয়। প্রতিবাদের ভাষা শেখায় এই মাস। বিজয়ের পথ দেখায় এই মাস।

বাঙালি জাতি কোনো দিন মাথা নত করেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেছেন, এই জাতিকে সব সময় আন্দোলন-সংগ্রাম করে, বুকের রক্ত দিয়ে যুগে যুগে ন্যায্য দাবি আদায় করতে হয়েছে। যারই মহত্তম প্রকাশ ঘটেছিল ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি।

তিনি বলেন, “কবে আবার মুক্ত হতে পারব, ঘুরে বেড়াতে পারব…।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একুশের গ্রন্থমেলা ঘিরে দেশি-বিদেশি লেখকদের আগমনে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়। গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত মাসব্যাপী সেমিনার ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সৃষ্টি করে নবতর চাঞ্চল্য।

শেখ হাসিনা বাংলা সাহিত্যের অনুবাদ প্রকাশের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এ দেশের ধ্রুপদী ও সাম্প্রতিক সাহিত্যের নির্বাচিত সম্ভার বিশ্বপাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তাগিদ দেন।

এর আগে দুপুর ৩টার দিকে প্রধানমন্ত্রী মেলা প্রাঙ্গণ বাংলা একাডেমি চত্বরে এসে পৌঁছান। এরপর তিনি ২০১৫ সালের বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।