সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রায় নিয়ে চিন্তিত তার অনুসারীরা

প্রকাশ:| বুধবার, ১৪ আগস্ট , ২০১৩ সময় ০৬:২৫ অপরাহ্ণ

শফিউল আলম রাউজান >> saka৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের দ্বায়ে আদালতে বিচারাধীন মামলার আসামী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় কি হয় তা নিয়ে চিন্তিত তার অনুসারীরা । বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গত ২০১০ সালের ১৬ ডিস্মেবর রাতে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে বাস পোড়ানো মামলায় । পরে আন্তজাতিক যুদ্বপরাধ ট্রাইবুনাল ১৯৭১ সালে হত্যা অপহরণ, অগ্নিসংযোগ সহ মানকতা বিরোধী অপরাধের তদন্ত করে তার বিরুদ্বে আন্তজাতিক যুদ্বপরাধ ট্রাইবুনাল আদালতেমামলা দায়ের করেন । ৭১ সালের মানবতা বিরোধী অপরাধের জন্য দায়েরকৃত মামলার বিচার চলছে আদালতে । গ্রেফতার হওয়ার বত্রিশ মাস অতিবাহিত হলে ও বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মুক্তির দাবীতে চট্টগ্রামের রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িতে বিএনপি কোন সভা সমাবেশ করেনি । যুদ্বপরাধী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মামলার রায় কি হবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে তার অনুসারীরা । অপর দিকে ৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময়ে যে সব পরিবার তাদেও স্বজন হারিয়েছে সে সব পরিবারের সদস্যরা যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্বে বিচারাধীন মামলার রায় কি হবে তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছে । যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মুক্তির দাবীতে কোন সভা সমাবেশ না হলে ও তার ফাঁসীর দাবীতে মুক্তিযোদ্বা সংসদ, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ মানববন্দন ও প্রতিবাদ সভা করে, রাউজান রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে । ৭১ সালের ১৩ এপ্রিল দুপুরে রাউজানের সুলতানপুর, জগৎমল্ল পাড়া, সুলতান পুর ছিটিয়া পাড়া, গহিরা বিশ্বাসের বাড়ীতে হানা দিয়ে পাকহানাদার বাহিনী ও রাজাকার, আলবদর বাহিনীর সদস্য অধ্যক্ষ নতুন চন্দ্র সিংহ সহ অর্ধশতাধিক নারী পুরুষকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করে। বাড়ীঘর জ্বালিয়ে দিয়ে মালামাল লুট করে। এসময়ে তারা যুবতী মহিলাদের ধর্ষন করে হত্যা করার ব্যাপক অভিয়োগ রয়েছে । ৭১ সালের ১৩ এপ্রিল ও ১৪ এপ্রিল রাউজানের উনসত্তর পাড়া ও পাহাড়তলী চুয়েটর সামনে সাবেক মন্ত্রী মরহুম জহুর আহাম্মদ চৌধুরীর ছেলে সাইফুউদ্দিন খালেদ চৌধুরী সহ ৭৩ জন নারী পুরুষকে নির্বিচারে হত্যা করে । বাড়ীঘরে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দেয় । এই সব অপরাধের সাথে বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী জড়িত রয়েছে বলে স্বজনহারানো পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে । যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্বে সাক্ষ্য দেওয়ার পর ফটিকছড়ির বাসিন্দ্বা শিল্পি ওয়াহিদুল আলম জুনু নির্মমভাবে খুন হয় । ওয়াহিদুল আলম জুনুর হত্যা রহস্য এখনো উদঘাটিত হয়নি । সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারী রাউজানের পশ্চিম রাউজান এলাকার বাসিন্দ্বা নুরুল আলম বলেন, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এদেশের একজন বড় মাপের নেতা তার বিরুদ্বে মামলার রায় কি হয় তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছি । রাউজান উপজেলার পুর্ব রাউজান এলাকার বাসিন্দ্বা আনোয়ার মিয়া বলেন, দেশে অনেক নেতা রয়েছে, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো সৎ নেতার সংখ্যা কম, সে যদি ৭১ সালে হত্যা অপহরণ. অগ্নিসংযোগের ঘটনার সাথে জড়িত থাকে তার বিচার হওয়া উচিত বলে জানান, আনোয়ার মিয়া । সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যদের নির্যাতনের শিকার রাউজানের ডাবুয়ার মানিক ধরের পুত্র, সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্বে আদালতে নবম সাক্ষ্য প্রদানকারী পরাগ ধর তপু বলেন, যুদ্বপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে কঠোর শাস্তি প্রদান করলে জাতি কলংকমুক্ত হবে । স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী মুসলিম লীগের প্রার্থী হয়ে ১৭৭৯ সালে রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । পরবর্তী জাতীয় পাটিতে যোগাদান করে তৎকালিন ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী সভার ত্রাণ ও পুর্ণবাসন মন্ত্রী, গৃহায়ন ও গণপুর্ত মন্ত্রী, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন । ১৯৮৬ সালের সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিও প্রার্থী হয়ে রাউজান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৮৮ সালে স্বৈরচার বিরোধী আন্দোলনের সময়ে এরশাদেও মন্ত্রী সভা থেকে পদত্যাগ করে সালাউদ্নি কাদের চৌধুরী নিজেই ন্যাশনাল ডেমোক্রটিক পাটি ( এনডিপি) গঠন করেন । ১৯৯১ সালে এনডিপির প্রার্থী হয়ে রাউজান আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগদান করে সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়। ২০০১ সালে ও একই আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হয়ে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয় । ২০০১ সালের নির্বাচনের পর বিএনপি ক্ষমতায় আসিন হলে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন । গত সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে প্রার্থী হয়ে ফটিকছড়ি আসন থেকে জয়লাভ করলে ও রাঙ্গৃনিয়া আসনে বর্তমান বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ডঃ হাসান মাহমুদের কাছে পরাজিত হয়ে রাঙ্গুনিয়া আসন থেকে বিদায় নিতে হয় সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে । এক সময়ের বাঘা রাজনৈতিক নেতা হিসাবে পরিচিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ৩২ মাস কারাগারে বন্দী থাকলে ও তার জম্মভুমি রাউজান রাজনৈতিক বিচরণ ভুমি রাঙ্গুনিয়া, ফটিকছড়িতে তার মুক্তির দাবীতে তার রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তার অনুসারীরা কোন কর্মসুচি পালন করেনি ।


আরোও সংবাদ