সার্কে প্রাধান্য পাচ্ছে জঙ্গিবাদ

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ

Saarcজঙ্গিবাদ নিয়ে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে আতঙ্ক দিন দিন বাড়ছে। এজন্য আসন্ন সার্ক সম্মেলনে সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এই বিষয়টি । সদস্য দেশগুলোকে এই ভয়ঙ্কর অশুভ শক্তির থাবা থেকে বাঁচাতে একটি কৌশলগত লক্ষ্যে পৌছানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সার্কের রাষ্ট্রপ্রধানরা। সরকারের শীর্ষমহলের একটি সূত্র জানিয়েছে, সার্ক সম্মেলনে জঙ্গিবাদ নিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাদা বৈঠক হবে। বৈঠক হবে নওয়াজ শরিফের সঙ্গেও। দক্ষিণ এশিয়ার এই তিন গুরুত্বপূর্ণ নেতা জঙ্গিবাদ নির্মুলে অভিন্ন ঘোষণা দিতে পারেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি ভারতের বর্ধমানের খাগড়াগাড়ে জঙ্গি আস্তানায় বিস্ফোরণের পর ভয়াবহ তথ্য পেয়েছে সে দেশের গোয়েন্দারা। বাংলাদেশের জামায়াতুল মুজাহিদিন (জেএমবি) ভারতের মাটিতে বসেই বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলার ছক কষে শক্তিশালী বিষ্ফোরকের ইম্প্রোভাইজ ডিভাইস তৈরির একাধিক কারখানা গড়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকেও হত্যার পরিকল্পনা করেছে। এই জঙ্গিগোষ্ঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠি আল কায়দা এবং ইসলামিক স্টেটের (আইএস) কানেকশন থাকায় শঙ্কিত ভারত-বাংলাদেশ। যে কারণে জঙ্গিদের মূল উৎপাটনে একযোগে কাজ শুরু করেছে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা বা সার্ক মূলত: সদস্য দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করলেও এবার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দিতে পারে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানে আগে থেকেই আল কায়দা, তালেবান এবং জয়শ-ই-মোহাম্মদসহ বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ওই দুটি দেশ জঙ্গি আক্রমনে অনেকটাই তছনছ। যে কারণে এবার সার্ক সম্মেলনে দেশ দুটির সরকার প্রধানরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে।

ভারত এবং বাংলাদেশে গত এক দশকে বড় বড় বেশ কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভারতের ছত্রপতি শিবাজী রেলস্টেশন এবং তাজ হোটেলে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা এখনো জ্বলজ্বলে। বাংলাদেশে একযোগে ৫০০ স্থানে বোমা বিস্ফোরণ এবং উত্তর পশ্চিাঞ্চলে মানুষ খুনের এক বিভিষীকাময় অধ্যায় রচনা করেছিল জেএমবি। এখনো প্রতিনিয়ত মুখোমুখী হতে হচ্ছে সেই জঙ্গি আক্রমনের। এরই মধ্যে আলকায়দা দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, বাংলাদেশ এবং মিয়ানমারে ঘাটি তৈরির স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ায় নড়েচড়ে বসেছে ওই দেশগুলোর সরকার প্রধানরা। এছাড়া সিরায়া এবং ইরাকের একাংশের দখলে থাকা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিরাও তাদের ক্ষমতা দক্ষিণ এশিয়ায় বিস্তৃত করার ঘোষণা দেওয়ায় দুশ্চিন্তা বেড়েছে। এরই মধ্যে খাগড়াগাড়ের বিস্ফোরণ বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে দেশগুলোর সরকার প্রধানদের। ওই কাণ্ডে শুধু ভারত আর বাংলাদেশ নয়, আছে মিয়ানমারের জঙ্গিরাও। বিষ্ফোরনের ঘটনা তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী ও জঙ্গি সংগঠনগুলোর যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে আগামী ২২ নভেম্বর নেপালের রাজধানী কাঠমন্ডুতে শুরু হতে যাওয়া সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে জঙ্গিবাদ নিয়ে আলোচনা বেশি গুরুত্ব পাবে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপ দক্ষিণ এশিয়াকে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত রাখতে অভিন্ন ঘোষণা দিতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা এবং শান্তির জন্য এটা খুবই জুরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আরোও সংবাদ