সামনে সুদিন এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে

প্রকাশ:| সোমবার, ১০ জুন , ২০১৩ সময় ০৫:৩৪ অপরাহ্ণ

সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হওয়া শতাধিক বিএনপি নেতা সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষ‍াত করেছেন। গত ১১ মার্চ নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুলিশি অভিযানের সময় আটক হন তারা।

সোমবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন কারামুক্ত বিএনপি নেতারা।

খালেদা জিয়া এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের প্রতি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।তিনি বলেন, “সামনে সুদিন এজন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” তিনি বলেন, “বিএনপি প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তবে যারা অত্যাচার, অন্যায়, নির্যাতন ও অপকর্ম করছে তাদেরকে আইনের মাধ্যমেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হবে”।

তিনি সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ক্ষমতায় থেকে সরকারকে কোনো নিkaledaর্বাচন করতে দেওয়া হবে না। আগামী নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এ সরকারের সব অপকর্মের জবাব ব্যালটের মাধ্যমে দিতে জনগণ প্রস্তুত রয়েছে। এজন্য সরকার নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে ভয় পাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “সরকারকে জানিয়ে দিতে চাই, সময় ফুরিয়ে আসছে। অন্তত ভবিষ্যতের কথা ভেবে হলেও সামনের ক’টা দিন জনগণের জন্য কাজ করুন।”

তিনি এ সময় ২০১৩-২০১৪ সালের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘বিশাল লুটপাটের’ বাজেট আখ্যা দেন। কারামুক্ত তৃণমূল নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে এ সময় খালেদা জিয়া বলেন, “আপনার‍াই দুঃসময়ে দলের পাশে ছিলেন এবং আছেন । সরকারের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আপনারাই প্রতিবাদ করেছেন। এজন্যই সরকার ভয় পাচ্ছে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে। প্রতিনিয়ত পুলিশের আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীরা।”

দেশের আমদানি রফত‍ানি কমেছে উল্লেখ করে খালেদা বলেন, “দেশি বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। বিরোধী দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব জনগণের পাশে দাঁড়ানো।”

তিনি বলেন, “সারা দেশে নেতাকর্মীদের আটক করে কারাগারে রাখা হয়েছে। মুক্তি পাওয়ার পরও জেলগেট থেকে আবারও নেতাদের আটক করছে সরকার। এছাড়া সরকার গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে স্বৈরাচারী উপায়ে সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন, গুম চালাচ্ছে। জনগণ আজ এ অবস্থা থেকে মুক্তি চায়।“

খালেদা জিয়‍ার সঙ্গে নেতাদের সাক্ষাতকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ডা. এ জেড এম জাহিদ, আমান উল্লাহ আমান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ সহ প্রায় শতাধিক নেতা কর্মী। নেতাকর্মীরা এ সময় রজনীগন্ধ‍া দিয়ে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান। খালেদা জিয়াও দুঃসময়ে দলের পাশে থাকার জন্য তাদের ধন্যবাদ জানান।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ বিএনপির পূর্ব ঘোষিত সমাবেশ পুলিশের সঙ্গে সৃষ্ট অপ্রীতিকর ঘটনায় পণ্ড হয়ে যায়। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢুকে ব্যাপক তল্লাশি চালায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে বিএনপির শীর্ষ প্রায় সব নেতাসহ দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ। তবে ইতিমধ্যেই আটক অধিকাংশ নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। কারামুক্ত এই নেতারা সোমবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাত করেন।