সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোনে ভূমি অধিগ্রহনে বিষয়ে লুকোচুরি

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১২ মে , ২০১৭ সময় ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ

শামসু উদ্দীন, টেকনাফ:: সাবরাং এক্সক্লুসিভ ট্যুরিষ্ট জোনের প্রকৃত জমি মালিকদের ক্ষতিপূরন নিয়ে কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহনের বিষয়ে লুকোচুরি চলছে। একারনে জমির মালিকরা চরম হতাশায় ভুগছে।
মামলার বিবরণীতে দেখা গেছে, এল.এ মামলা নং-০৬/২০১৫-১৬ইং মূলে রোয়েদাদ নং-৩ এর অধিগ্রহণকৃত ক্ষতিপূরণের টাকার বিষয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতের অপর ২৫০/২০১৬ ইং মামলা থাকা সত্তেও মামলার বিবাদীগণ কৌশলে ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তার চলছাতুরির সুযোগে এমনকি অপর ২৫০/১৬ ইং মামলার ৬ নং বিবাদী ফাতেমা খাতুনকে ভূল বিএস খতিয়ানের অনুবলে ক্ষতিপূরনের চেক প্রদানের বিষয়ে জানতে পেরে অপর মামলা নং- ২৫০/১৬ ইং এর বাদীগণের পক্ষে ৬১ নং বাদী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব (কক্সবাজার) এর শরনাপন্ন হলে তিনি ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তাকে উক্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তার নিকট মামলার বিষয়ে বাদী সাক্ষাৎ করতে গেলে তাকে বিভিন্নভাবে নাজেহাল ও হুমকি-ধমকি দিয়ে অফিস থেকে তাড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, সময় হলে আমরা ডেকে যার যার চেক দিয়ে দেব। আদালতে মামলা আছে এগুলো নিয়ে আমার মাথা-ব্যথার প্রয়োজন নেই।
এবিষয়ে একদল সংবাদকর্মী কক্সবাজার ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আবু আসলাম এর বক্তব্য নিতে গেলে তিনি বলেন, এধরনের লুকোচুরি করে কাউকে চেক দেয়া হয়নি। পরক্ষনে কাগজপত্র জালিয়াতি ও আদালতে চলমান মামলার কথা বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেন। এমনকি কোন তথ্য দিতে পারবেনা বলে তার অফিস থেকে বের হয়ে যেতে ধমক দেন। পরে অবশ্য সঠিক তথ্য ও কাগজপত্র নিয়ে আসার আমন্ত্রন জানান।
এব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: আনোয়ারুল নাসের সাংবাদিকদের জানান, এবিষয়ে আদালতে কোন চলমান মামলা থাকলে মামলার খতিয়ানভূক্ত কোন জমির মালিককে চেক বা টাকা প্রদান করা যাবেনা। ভূয়া জালিয়াতি প্রসঙ্গে সর্বশেষ ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারের অভিযোগ দিলে তিনি তাৎক্ষনাত তাদের ডেকে এধরনের কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব তাৎক্ষনাত অপর ২৫০/১৬ মামলার বিবাদী ফাতেমা খাতুনের ক্ষতিপূরনের টাকার চেক বন্ধ রাখেন। এরপরেও ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা আবু আসলাম মামলাভূক্ত জমির ক্ষতিপূরনের টাকা প্রদানের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।
সংক্ষেপে মামলার বাদিগণের সত্ত্বের বিবরণ, তফসিলোক্ত জমি পূর্বে তাজর মুল্লুক পিতা আবদুল ছমদ এর রায়তী স্বত্ব দখলীয় জমি ছিল। তৎমতে তাহার নামে নালিশী সাবরাং মৌজার আর.এস ৫৭২নং খতিয়ান চূড়ান্তরূপে লিপি ও প্রচারিত আছে। উপরোক্ত মতে তাজর মুল্লুক তাহার রায়তী স্বত্ব দখলীয় জমিতে ভোগ দখলে থাকাবস্থায় মৃত্যুবরণ করিলে তৎ স্বত্ব ১ পুত্র আবদুল মজিদ ৪ কন্যা জুহুরা খাতুন, শহর বানু, ফতে বিবি, ভেওলা বিবি প্রাপ্ত হয়। জুহুরা খাতুন, শহর বানু, ফতেহ বিবি ও ভেওলা বিবি তাদের কিছমতপ্রাপ্ত জমিতে ভোগদখলে থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলে তৎসত্ত্ব তাহাদের ওয়ারিশ, দর ওয়ারিশগণ তথা দরখাস্তকারি/বাদিগণ প্রাপ্ত হয়ে ভোগ দখলে নিয়োজিত আছেন।
কিন্তু তফসিলোক্ত জমি নিয়ে বি.এস জরীপের সময় বি.এস কর্মচারীগণ বি.এস রেকর্ড দরখাস্তকারী/বাদিগণের পূর্ববর্তীর পূর্ববর্তীর নামে প্রচার না করায় দরখাস্তকারীগণ বাদী হয়ে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে অপর ২৫০/২০১৬ইং মামলা দায়ের করিলে উক্ত মামলায় বিবাদীগণের বিরুদ্ধে তফসিলোক্ত জমির ক্ষতিপূরণের টাকা যেন উঠাইয়া নিতে না পারে তজ্জন্য অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করিলে বিজ্ঞ আদালত বিবাদীগণের বিরুদ্ধে ৭ দিনের কারণ দর্শানোর আদেশ দেন এবং বর্তমানে অত্র মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন আছে। সম্প্রতি দরখাস্তকারীগণ আরো জানতে পারেন, উক্ত ভুল বি.এস খতিয়ানের অনুবলে বি.এস রেকডীয় মালিকের ওয়ারিশগণ কতেক দলিল সৃজন করেন। উক্ত দলিলমূলে দলিল গ্রহীতাগণ সৃজিত বি.এস ৩৫৭১, ৩৫৭২, ৩৫৭৩, ৩৫৭৪, ৪৬২৫, ৪৬৪৭, ৩৮৩৩, ৪৭১৮, ৩৮৪৩নং খতিয়ান সমূহ সৃজন করিয়াছেন। উক্ত খতিয়ানমূলেও খতিয়ানের মালিকগণ ক্ষতিপূরণের টাকা পাবে না যেহেতু মূল বি.এস ৩৭৫নং খতিয়ানের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে অপর ২৫০/২০১৬ইং মামলা বিচারাধীন আছে।
সম্প্রতি তফসিলোক্ত জমি সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণ হইলে সরকার পক্ষে এল.এ মামলা নং-০৬/২০১৫-১৬ মূলে রোয়েদাদ নং-০৩ মূলে ৭ ধারার নোটিশ ইস্যু করেন। উক্ত ৭ ধারার নোটিশ বি.এস রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশগণ প্রাপ্ত হইয়া টাকা উঠাইয়া নেওয়ার জন্য পাঁয়তারা করলে দরখাস্তকারীগণ তাহা জানতে পেরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব ও ভূমি অধিগ্রহন কর্মকর্তা কক্সবাজার এর নিকট গত ৯/১০/১৬ ইং তারিখ যুগ্ন-জেলা জজ ২য় আদালতে অপর ২৫০/১৬ মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলএ মামলা নং-৬/১৫-১৬ মূলে এর রোয়েদাদ নং-৩ এর খতিপূরনের টাকা প্রদান না করার জন্য একটি আপত্তি দাখিল করেছিল। সেই সময় পেন্সিল দিয়ে রোয়েদাদ নং-৩ বলিয়মে মামলার বিষয়ে নোট করা ছিল। কিন্তু বর্তমানে উক্ত আপত্তির বিষয়ে রোয়েদাদ নং-৩ এর নথিতে কোন ঘড়ঃব নাই। সেই কারণে জালিয়াতি করে টাকা উত্তোলন করে নিবে সেই আশংকায় ভুগছে বাদিগণ। তফসিল : মৌজা- সাবরাং, থানা- টেকনাফ, জেলা- কক্সবাজার। আর.এস খতিয়ান নং-৫৭২, আর.এস দাগ নং-৭২২৮, ৭২৩১, ৭২৩২, ৭২৩৩, ৭২৭৭, ৭২৭৮, ৭২৭৯, ৭৩১৯, ৭৩৩৯, ৭৩৪১, ৭৩৪২, তুলনামূলক বি.এস খতিয়ান নং-৩৭৫, বি.এস ২৮০১৩, ২৮০১৪, ২৮০১৮, ২৮০২৭, ২৮০২৯, ২৮০৩০, ২৮০৩৩, ২৮০৩৪, ২৮০৭২, ২৮০৭৩, ২৮০৭৪, ২৮০৭৫, ২৮০৭৬, ২৮০৮০, ২৮০৮১, ২৮০৮২, ২৮০৮৩, ২৮০৮৪, ২৮০৮৫, ২৮০৮৬, ২৮০৮৭, ২৮০৮৮, ২৮১২০, ২৮১২১, ২৮১২২, ২৮১২৩, ২৮১২৪, ২৮১২৫, ২৮১২৬, ২৮১৫০, ২৮১৫১, ২৮১৫২, ২৮১৫৩, ২৮১৫৬, ২৮১৫৭, ২৮১৫৮, ২৮১৫৯, ২৮১৬০, ২৮১৬১, ২৮১৬২, ২৮১৬৩নং দাগাদির আন্দর ৮.৪২৮৯ একর জমি বিরোধীয়। ১-১০নং দরখাস্তকারীর ১.৪২৮৫ একর, ১১-১৯নং দরখাস্তকারীর .৩১৭৫ একর, ২০-২৪নং দরখাস্তকারীরু .১৫৮৭ একর, ২৫নং দরখাস্তকারীর .৪০৪১ একর, ২৬-৩২নং দরখাস্তকারীর .৯৫১১ একর, ৩৩-৫২নং দরখাস্তকারীর ১.২১২৮ একর, ৫৩-৫৮নং দরখাস্তকারীর .২০২০ একর, ৫৯-৬৪নং দরখাস্তকারীর .৬০৬২ একর, ৬৫-৭২নং দরখাস্তকারীর ১.৪৮২ একর, ৭৩-৭৬নং দরখাস্তকারীর ১.১১১ একর, ৭৭-৮১নং দরখাস্তকারীর ০.৫৫৫ একর জমি। যাহার রোয়েদাদ নম্বর-০৩।


আরোও সংবাদ