সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশ:| রবিবার, ৩০ মার্চ , ২০১৪ সময় ০৮:১১ অপরাহ্ণ

image_84084সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

রোববার চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। সকাল সাড়ে ১১ টায় এ সম্মেলন শুরু হয়।

মন্ত্রী বলেন,‘সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডে দোষীদের সঠিক তদন্ত করে সাজার ব্যবস্থা করতে হবে। গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তাহীনতা থেকে উদ্ধারের জন্যই হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন’।

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,‘সাগর-রুনি হত্যার শাস্তির দাবিতে আপনারা সোচ্চার থাকুন, আমরাও থাকবো। আশা করি অচিরেই হত্যাকারীদের মুখোশ উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিন পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার যদি হয়, ৪০ বছর পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যদি হতে পারে, তবে মনে রাখতে হবে কোন হত্যাকাণ্ডের বিচার ধামাচাপা দেয়া যাবে না। আজ হোক কাল হোক, প্রকাশ পাবেই। সাংবাদিকদের গায়ে হাত দিয়ে কেউ পার পাবে না।’

সম্মেলনে বিএনপি কর্তৃক জিয়াউর রহমানকে দেশের প্রথম রাষ্টপতি দাবির প্রতিক্রিয়ায় মন্ত্রী বলেন, ‘ঘোষক তত্ত্ব, জন্মদিন তত্ত্বে কূলকিনারা করতে না পেরে বেগম জিয়া এখন রাষ্ট্রপতি তত্ত্বের মাধ্যমে ইতিহাসকে হত্যা করেছেন। এসব উদ্ভট তত্ত্ব দিয়ে প্রকারন্তরে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতকে আড়াল করছেন তিনি। তারা চায় সবাই যেন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিভ্রান্ত ও বিব্রত হয়ে যায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত করার এ অপচেষ্টা তথ্য দিয়ে রুখতে হবে।’

সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, ‘সত্য-মিথ্যার লড়াইয়ে সাংবাদিকদেরও একটি পক্ষ নিতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতার আশ্রয় নিবেন কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে নিরপেক্ষ হওয়া চলবে না। সাংবাদিকরাই মুক্তিযুদ্ধে প্রথম কাতারে ছিলেন। তাই অতীতের মতো গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্ব তাদেরকে পালন করে যেতে হবে।’

তিনি বলেন ‘বিকাশমান গণতন্ত্রের মাতার ভূমিকা পালন করে গণমাধ্যম একটা রাষ্ট্রকে শাসন ও স্নেহ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাই, আমরা চাই আপনারা নির্ভয়ে সরকারের সমালোচনা করুন, ত্রুটি-বিচ্যুতি ধরিয়ে দিয়ে সরকারকে সহযোগিতা করুন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা এবং গণমাধ্যমের মধ্যে কোন বিরোধিতা নেই। বরং খালেদা জিয়া কিছু মিডিয়ার পক্ষ নিয়ে মিথ্যাচারের মাধ্যমে ওকালতি করছেন।’

এসময় মালিকপক্ষ ও সাংবাদিকদের দ্বি-পক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে ওয়েজবোর্ডের সংশোধন করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সিইউজে সভাপতি শহীদ উল আলমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক, বিএফইউজে মহাসচিব আবদুল জলিল ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) সভাপতি আলতাফ মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কুদ্দুস আফ্রাদ।

উদ্বোধনকালে মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘গণমাধ্যমে অস্থিতিশীলতা রোধের জন্য পেশাদার সাংবাদিকদের হাতে দায়িত্ব তুলে দিতে হবে। পেশাদার সাংবাদিকরা তাদের রুটি-রুজির জায়গাকে কলুষিত করে না। অসাংবাদিকদের হাতে সংবাদপত্র থাকলে অরাজকতা সৃষ্টি হয়।’

তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের ঐক্যের কথা বলা হয়। সাংবাদিকদের বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ঐক্য দরকার। কিন্তু চেতনা বিসর্জন দিয়ে কোন ঐক্য নয়। সাংবাদিকরা নিরপেক্ষ বটে, অস্তিত্বের সংকটে সবসময়ই স্বাধীনতার পক্ষে। দেশের অস্তিত্ব বিসর্জন দিয়ে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে আপস করে কোন ঐক্য করা যাবে না।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবদুল জলিল ভূঁইয়া বলেন, ‘মালিকদের ডেকে এক মন্ত্রী সংবাদপত্রকে শিল্প ঘোষণা করছেন। কিন্তু সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে কিছু করা যাবে না। সংবাদপত্র শিল্প হলে সে শিল্পের সুফল সাংবাদিকদেরও পেতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রামের সাংবাদিকদের অনেক বৈষম্য রয়েছে। এ সকল বৈষম্য রোধ করার জন্য সকলকে সোচ্চার হতে হবে।’

দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, ‘সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। কাউকে বাদ দিয়ে এককভাবে কারো স্বার্থ চিন্তা করা যাবে না। মফস্বলের সংবাদপত্র বেঁচে থাকলে মফস্বল সাংবাদিকরা বেঁচে থাকবেন।’

আলতাফ মাহমুদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের অনেক কষ্টের ফসল ওয়েজ বোর্ড। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অস্থিতিশীল সময়েও এর জন্য আন্দোলন করতে হয়েছে। এর যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি আক্ষেপ করেন, ‘২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় অনেক সাংবাদিক আহত হলেও ক্ষতিগ্রস্তদের কোন খবর নেওয়া হয়নি।’

কুদ্দুস আফ্রাদ বলেন, ‘ওয়েজ বোর্ডের অসঙ্গতি দূর করা জরুরী। বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামকে মফস্বল চিন্তা করলে হবে না। রাজধানীর সঙ্গে চট্টগ্রামকেও একই মানে রাখতে হবে।’

সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের সহ-সভাপতি আবু তাহের মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব সাইফুল ইসলাম তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ খায়রুজ্জামান বাবর, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী, সিইউজের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ হায়দার, নারী নেত্রী ববিতা বড়ুয়া, সিইউজের যুগ্ম সম্পাদক ম শামসুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে এক গুণীজন ও তিন কৃতি সাংবাদিককে সংবর্ধনা দেয় সিইউজে। এরা হলেন, একুশে পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা সমাজবিজ্ঞানী ড. অনুপম সেন, সাংবাদিক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, এম নাসিরুল হক ও নূর সুলতান কুতুবী। এদের মধ্যে অনুপম সেন দেশের বাইরে থাকায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।