সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ

প্রকাশ:| শনিবার, ৫ নভেম্বর , ২০১৬ সময় ১১:৪২ অপরাহ্ণ

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের কারণে সাগর উত্তাল হয়ে পড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (০৫ নভেম্বর) বিকেল থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে বড় জাহাজে করে আনা খোলা পণ্য ছোট জাহাজে (লাইটার) খালাসের কাজ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) মো. জাফর আলম বহির্নোঙরে পণ্য খালাস বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সাগর উত্তাল থাকায় বড় জাহাজের কাছে লাইটার জাহাজ ভিড়তে পারছে না বলে লাইটার জাহাজগুলো নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ৪ নম্বর সংকেত জারির পর বন্দরের পক্ষ থেকে বহির্নোঙরে অপেক্ষমাণ বড় জাহাজগুলোকে একটি থেকে অন্যটিকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে ঝড়ো হাওয়ায় একটি অপরটির সঙ্গে লেগে দুর্ঘটনা না ঘটে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যা সাতটায় বন্দর ভবনের সম্মেলন কক্ষে জরুরি সভা হয়েছে। এতে বন্দর চেয়ারম্যান, সদস্য ও পরিচালক, সচিব ও বিভাগীয় প্রধানরা এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন (বিএসসি), বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় বন্দর কর্তৃপক্ষের পূর্ব নির্ধারিত ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডার’ অনুযায়ী আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেতের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বন্দরের এক কর্মকর্তা বলেন, সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর জেটি থেকে কর্ণফুলীর মোহনা পর্যন্ত গুপ্তবাঁধের ভেতর সব জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর্ণফুলী চ্যানেলের সব লাইটার, অয়েল ট্যাংকার ও ফিশিং বোট সদরঘাট ও শাহ আমানত সেতুর উজানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুপুর থেকে এ ব্যাপারে মাইকিং শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি বন্দরের অত্যাধুনিক ক্যামেরা নির্ভর ভ্যাসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমের (ভিটিএমআইএস) মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে।

তিনি জানান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংকেত বাড়লে কিংবা ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হয়ে চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানতে শুরু করলে বন্দরের হ্যান্ডলিং ইক্যুইপমেন্টগুলো প্যাকিং কিংবা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।