সাগরে ৫ ফিশিং ট্রলারে গণডাকাতি,আহত-৫

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর , ২০১৭ সময় ০৪:২৮ অপরাহ্ণ

লিটন কুতুবী
কুতুবদিয়া-কক্সবাজার।

বঙ্গোপসাগরের সোনারচর ও গুলিরধার নামক স্থানে মাছ ধরারত অবস্থায় পাঁচ ফিশিং ট্রলার গণডাকাতির কবলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ডাকাত দলের মারধরে আহত হয়েছে পাঁচ ট্রলারের জেলে গফুর মাঝি (৩২) সুভ্রত দাশ (২৮) নোমান (২৫) মালেক (৩০) রতন দাশ (৪০)। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ট্রলারের জেলেরা উপকূলে ফিরে এসে আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে বলে ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন কোম্পানী নিশ্চিত করেন।
কুতুবদিয়া উপকূলের উত্তর ধুরুং এলাকার মনির হোসেনের মালিকানাধীন এফ.বি আল্লাহ মালিক ,আলী আকবর ডেইল জেলে পাড়ার শামসুল আলম মালিকানাধীন এফ.বি মায়ের দোয়া , উত্তর বড়ঘোপ এলাকার রমিজ উদ্দিনের এফ.বি আল্লাহ দান, কৈয়ারবিল এলাকার নজির আহমদের মালিকানাধীন মা-মনি,লেমশীখালী এলাকার ইদ্রিসের মালিকানাধীন এফ,বি ফাতেমা নামক ট্রলারগুলো ডাকাতির কবলে পড়ে।
এফ.বি আল্লাহ মালিক ট্রলারের মাঝি ছালে আহমদ জানান, গত মাসের এক অক্টোবর হতে ২২ অক্টোবর সাগর,নদী ও হাওরে মাছ ধরা সরকারিভাবে নিষেধাজ্ঞা ছিল। এ নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর জেলেরা চলতি মাসে সাগরে মাছ ধরার জন্য কুতুবদিয়া উপকূল হতে শত শত ফিশিং ট্রলার সাগরে মাছ ধরতে যায়। জেলেরা সাগরের সোনারচর ও গুলিরধার নামক স্থানে মাছ ধরারত অবস্থায় জলদস্যুরা তাদের ট্রলারসহ পাঁচ ফিশিং ট্রলারে গণডাকাতি করে মাছ,ডিজেল,জালসহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। ঔ সময়ে তার চোখে দেখা আরো ৮/১০টি ফিশিং ট্রলারে মালামাল জলদস্যুরা লুট করতে দেখেন বলে নিশ্চিত করেন।
ট্রলার মালিক রমিজ জানান, অনেক কষ্টের মাধ্যমে ট্রলারে ডিজেল,জাল,বরফ, জেলেদের জন্য খাদ্য সামগ্রি ভর্তি করে সাগরে মাছ ধরার জন্য পাঠানো হয়। জলদস্যুরা যে হারে ডাকাতি শুরু করেছে তাতে জেলেরা ভয়ে মাছ ধরার জন্য সাগরে যেতে সাহস পাচ্ছে না।
কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনজার্চ (ওসি) মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদৌস জানান, কুতুবদিয়া থানার তালিকাভূক্ত জলদস্যু ও জলদস্যু গডফাদার পুলিশরে হাতে আটত হওয়ার পর কিছু সংখ্যক জলদস্যু ধরাছোয়ার বাইরে থেকে অন্যান্য থানার তালিকাভূক্ত জলদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে সাগরে জলদস্যুতার তান্ডব চালাচ্ছে। সাগরে নৌ-বাহিনী ও কোস্ট গার্ড টহল জোরদার করলে জলদস্যু দমনে সক্ষম হবে।
কুতুবদিয়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, সরকারিভাবে সাগর, নদী ও হাওর এলাকায় এক মাস ধরে মাছ ধরার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পর জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুরা নির্বিচারে গণডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। বিগত দেড় মাসে বঙ্গোপসাগরে শতাধিক ফিশিং ট্রলার জলদস্যুদের কবলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। কুতুবদিয়া থানার তালিকাভূক্ত অর্ধশত জলদস্যু পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও তাদের ভারি-ভারি অস্ত্রগুলো উদ্ধার না হওয়ায় আটক জলদস্যুদের সহযোগীরা বর্তমানে মহেশখালী,বাঁশখালী,পেকুয়া ও আন্তঃজেলা থানার তালিকাভূক্ত দূর্দর্ষ জলদস্যুদের সাথে হাত মিলিয়ে কয়েকটি দল গঠন করে সাগরে নির্বিচারে ডাকাতি করে যাচ্ছে। বর্তমানে ঐ জলদস্যুদের সাথে মায়ানমার কিছু সংখ্যক লোক যোগ দিয়ে সাগরে ডাকাতি করার খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কুতুবদিয়া থানার তালিকাভূক্ত জলদস্যু ছাড়াও নব্য জলদস্যুরা বেপরোয়াভাবে সাগরে ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। বিগত এক বছর পূর্বে মিরাখালী সড়কে ডাকাতির লুট করা মালামাল ভাগবাটোরায় না মিলায় জলদস্যুদের মধ্যে সংঘর্ষে ব্যবহৃত একে-৪৭ ভারী আগ্নেয়াস্ত্র এখনো উদ্ধার হয়নি। পুলিশের হাতে আটক হওয়া জলদস্যু’র পরিবার বর্তমানে ঐ সব অস্ত্রগুলো ভাড়া দিয়ে আটক জলদস্যুদের মামলার খরচ যোগাড় করছে বলে ট্রলার মালিক আবদুল মালেক দাবী করেন। তবে পুলিশের অভিযানে জলদস্যূদের ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো উদ্ধারের আহবান জানান।
কুতুবদিয়া আদালতের আইনজীবি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ আহমদ জানান, পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে কিছু সংখ্যক জলদস্যু সাগরে নির্বিচারে ডাকাতি কাজে জড়িয়ে পড়েছে । মুখোশধারী জলদস্যূরা দিনে লোকালয়ে ঘুরে বেড়ালেও রাতে ডাকাতি কাজে নেমে পড়ে। এসব মুখোশধারীরা উপজেলা প্রশাসনেরও ঘোরে বেড়াতে দেখা যায়। কুতুবদিয়া উপকূলে পুলিশের ধরপাকড় দেখে জলদস্যুরা সাগরে নিরাপদ মনে করে জলদস্যুতা করে যাচ্ছে। সাগরে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদার থাকলে জলদস্যুরা ডাকাতি করার সুযোগ পেত না।
আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থা (আসক) এর কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সভাপতি এডভোকেট আইয়ুব হোছাইন জানান, গভীর সাগর থেকে মাছ ধরে ফিশিং ট্রলারগুলো উপকূলে ফিরে আসার পথে ডাকাত দলের ভয়ে বঙ্গোপসাগর ব্যবহার না করে কুতুবদিয়া চ্যানেল দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে কোস্ট গার্ডের তল্লাশীর নামে হয়রানী করে যাচ্ছে। কুতুবদিয়া কোস্ট গার্ড ষ্টেশন শুধু কুতুবদিয়া চ্যানেল টহল দিয়ে সাগর থেকে মাছ ধরে উপকূলে ফিরে আসা ফিশিং ট্রলার ও লবণ পরিবহন ট্রলারগুলোতে তল্লাশীর কথা বলে হয়রানী করে অর্থ আদায় করছে। এমনও নজির আছে ফিশিং ট্রলারের বড় মাছ কোস্ট গার্ডকে উৎসর্গ করতে হয়। কিন্তুু সাগরে জলদস্যুতা দমনে সক্রিয় দেখা যায় না। সাগরে জলদস্যুতা দমনে তাদের দহল জোরদার করার আহবান জানান।