সাগরে ফিশিং ট্রলারে গণডাকাতি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ৬ জুলাই , ২০১৭ সময় ১১:০৭ অপরাহ্ণ

এস কে লিটন কুতুবী,কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের তান্ডবে অতিষ্ট জেলেরা। গত দুই সপ্তাহে সাগরে ১৫টি ফিশিং ট্রলার ডাকাতের কবলে পড়ার খবর জেলেরা উপকূলে ফিরে এসে ফিশিং ট্রলার মালিকদের নিশ্চিত করেন বলে ট্রলার মালিক নাছির উদ্দিন এ প্রতিনিধিকে জানান। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুতুবদিয়া দ্বীপের উত্তর ধুরুং এলাকার এফ,বি মায়ের দোয়া,এফ,বি আল্লাহর দান ফিশিং ট্রলারের জেলেরা উপকূলে ফিরে এসে তাদের ট্রলার ডাকাতির খবর নিশ্চিত করেন। এ সময় তাদের দেখা ১৪/১৫টি ফিশিং ট্রলার জলদস্যুরা ডাকাতি করতে দেখেন।
জলদস্যুদের মারধরে জেলে আবদুল মালেক (২৫) ছমি উদ্দিন (২২) শাকের উল্লাহ (২৭) শামসুল আলমসহ (৩৫) ৮/১০ জেলে আহত হয়েছে। তাদেরকে উপকূলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ সময় জলদস্যুরা ট্রলার থেকে নগদ টাকা, মাছ, মেশিনের যন্ত্রাংশসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে বলে ট্রলারের মাঝি জামাল উদ্দিন নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী জেলেরা জানান,গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৫টার সময় সাগরের জাহাজখাড়ী নামক স্থানে ২০/২৫ জন অস্ত্রধারী জলদস্যু একটি ট্রলার যোগে তাদের ট্রলারে হামলা চালিয়ে মারধর করে মালামাল লুট করে। এ সময় অস্ত্রধারী জলদস্যু আকবর বলীপাড়ার আবদুর রহিম প্রকাশ লইক্যা, জোনাইদ, বদি আলম, এজাবত উল্লাহ, ইসহাককে দেখেন বলে জেলেরা উপকূলে ফিরে এসে তাদের নাম প্রকাশ করে। কুতুবদিয়া উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আওরঙ্গজেব মাতবর সাগরে জলদস্যুতার ব্যাপারে বলেন,গত দুই সপ্তাহ পূর্বে কুতুবদিয়া দ্বীপের কুখ্যাত সন্ত্রাসী জলদস্যু সর্দ্দার মুকুল র‌্যাব -৭ এর হাতে অস্ত্রসহ ধরা পড়ার পর থেকে তার সহযোগীরা উপকূল ছেড়ে বর্তমানে সাগরে ফিশিং ট্রলার ডাকাতির কাজে নেমে পড়েছে। তিনি জলদস্যু মুকুলের মতো এসব অস্ত্রধারীদের আটক করার জন্য আইনশৃংখলা বাহিনী প্রতি অনুরোধ জানান। অস্ত্রধারী জলদস্যুরা কুতুবদিয়া চ্যানেলের আকবরবলী লঞ্চঘাটে রাতে জড়ো নোঙরে থাকা যে কোন ট্রলারে উঠে পড়ে সাগরে জলদস্যুর কাজে নিয়ে যায়। কুতুবদিয়ার বিশিষ্ট ফিশিং ট্রলার মালিক জয়নাল আবেদীন জানান, সাগরে যেভাবে ফিশিং ট্রলার ডাকাতি হচ্ছে,এ ভয়ে জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে না। আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে কতিপয় জলদস্যু ধরা পড়লেও অস্ত্রধারী জলদস্যুরা এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে। এসব জলদস্যুরা বর্তমানে সাগরে নির্বিচারে ট্রলার ডাকাতি করে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়া মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়ার সাথে কথা হলে তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরে ডাকাতি হলেও পুলিশের করার কিছু নেই। পুলিশের নৌযান না থাকায় সাগরে টহল দিতে পারে না। অবশ্য নৌ-বাহিনী ও কোস্টগার্ড সাগরে টহল জোরদার করলে সাগরে ডাকাতি হ্রাস পেত।