সাগরে গণডাকতি, গুলিবিদ্ধ ৪ জেলে

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| রবিবার, ২ সেপ্টেম্বর , ২০১৮ সময় ১১:১৮ অপরাহ্ণ

লিটন কুতুবী,কুতুবদিয়া।
বঙ্গোপসাগরের লাশের খাড়ি নামক স্থানে কুতুবদিয়া উপকূলের ৫টি ফিশিং ট্রলারসহ ১৫টি ফিশিং ট্রলার গণডাকাতি কবলে পড়ে বলে খবর পাওয়া গেছে। ডাকাতদলের ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রে ৪ জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। গুলিবিদ্ধ জেলেরা হলেন, মাঝি শফিউল্লাহ (৪০) মোঃ আলী (৩০) কামাল (২৮) মোঃ আনিচ (৩২)। বর্তমানে (গুলিবিদ্ধ) জেলেরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মাঝি শফিউল্লাহ জানান, গত বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) সকালে কুতুবদিয়া উপকূলের আকবর বলী ঘাট হতে গভীর সাগরে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে যায়। কুতুবদিয়া উপকূল হতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার অদুরে বঙ্গোপসাগরের লাশের খাড়ি নামক স্থানে মাছ ধরারত অবস্থায় অন্য ট্রলার যোগে ১৪/১৫ জন অস্ত্রধারী জলদস্যুদল তাদের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে তাদেরকে লক্ষ্য করে জলদস্যুরা গুলিবর্ষণ করে। এ সময় তার ট্রলারের চার জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। গত শনিবার রাতে ট্রলারটি উপকূলে ফিরে এলে গুলিবিদ্ধ জেলেদের প্রথমে কুতুবদিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও কর্তব্যরত চিকিৎসক আবাসিক মেডিকেল অফিসার জয়নাল আবেদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এফ,বি মায়ের দোয়া ফিশিং ট্রলারের মালিক নুরুল হুদা জানান, গত শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে জলদস্যুরা তার ট্রলারে হামলা চালিয়ে ট্রলারসহ ১৫ জেলেকে দুই দিন ধরে জিম্মি করে মোবাইলের মাধ্যমে বিকাশে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করে জেলেদের ছেড়ে দেয়। একই অবস্থায় তাবলরচর গ্রামের সফর মুল্লুক কোম্পানীর ট্রলারটি ডাকাতের কবলে পড়ে। এছাড়াও মাঝি শফিউল্লাহর দেখা মতে জলদস্যুরা সাগরে আরো ১৫টি মাছ ধরার ট্রলারের মালামাল লুট করে।
কুতুবদিয়া থানার অফিসার ইসচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউসের সাথে এ ব্যাপারে কথা হলে তিনি জানান, কুতুবদিয়া থানার তালিকাভূক্ত অধিকাংশ ডাকাত পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও বর্তমানে বহিরাগত ডাকাতরা কুতুবদিয়ায় এসে অবস্থান নিলে তাও ধরা পড়ে যাচ্ছে। এ পর্যন্ত থানার তালিকাভূক্ত ডাকাত ছাড়াও অন্যান্য উপজেলা প্রায় ১৫জন জলদস্যুকে আটক করেছে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ। কুতুবদিয়া থানায় নৌযান না থাকায় সাগরে ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও পুলিশের করার কিছু নেই। সাগরে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টহল জোরদারে করলে ডাকাতি দমন হতো বলে তিনি জানান।
কুতুবদিয়া ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন জানান, সাগরে জলদস্যুরা মালামাল লুটের ধরণ পাল্টে ট্রলার আটক পূর্বক জেলেদের জিম্মি করে নগদ মুক্তিপনের টাকা আদায় করছে। কুতুবদিয়া থানার ওসি মুহাম্মদ দিদারুল ফেরদাউস যোগদানের পর থেকে উপকূলে তালিকাভূক্ত জলদস্যুর মধ্যে অধিকাংশ পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর অন্যান্য উপজেলার তালিকাভূক্ত জলদস্যুরা সাগরে নেমে ডাকাতি করে যাচ্ছে। জলদস্যুদের ভয়ে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে না ।
আর্ন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থা (আসক) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আইযুব হোছাইন জানান, কুতুবদিয়া উপকূলের ডাকাতি বন্ধ হলেও সাগরে ডাকাতি বন্ধ হচ্ছে না। বর্তমানে জলদস্যুরা পুলিশের ধর পাগড়ে উপকূলে অবস্থান করতে না পেরে সাগরে দস্যুতা কাজে নেমে পড়েছে। এ ছাড়াও ইয়াবা সেবনকারীরা উপকূলে ইয়াবা সেবন করতে না পেরে ট্রলার নিয়ে সাগরে অবস্থান করে ইয়াবা সেবন করছে। ইয়াবার টেবলেটের টাকা যোগাড় করতে সাগরে ডাকাতি কাজে নেমে পড়েছে অনেক যুবক।


আরোও সংবাদ