সাকা’র মামলার সাক্ষীর ভাই আমেরিকা প্রবাসীর রহস্যময় মৃত্যু

প্রকাশ:| শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর , ২০১৫ সময় ১০:২৬ অপরাহ্ণ

 

ফটিকছড়ি সংবাদদাতা:
ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে তৌহিদ খান (৬৫) নামে এক আমেরিকা প্রবাসীর রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তিনি সাকা চৌধুরীর যুদ্ধাপরাধ মামলার ১৯ নং সাক্ষী ওয়াহিদুজ্জামান জুনুর আপন ভাই। তার বোন বীনা খানের অভিযোগের ভিত্তিতে লাশের ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় দাফন শেষ হয়। বৃহস্পতিবার ভোররাতের দিকে বাড়ির আঙ্গিনায় তার মৃত্যু হয়।

তৌহিদ খানের বোন বীনা খান ও ভাই মানু খান অভিযোগ করে নিউজচিটাগাংকে বলেন, আমাদের বড় ভাই তৌহিদ খানের মৃতদেহ যে ভাবে পাওয়া যায় সেটি সন্দেহজনক। সেখানে তার হাত মোড়ানো ছিল। গলায় দাগ পাওয়া যায়। হাটুতে ছেড়া ছিল। আমরা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেছি। আর ঘরের মধ্যে ছিল তার স্ত্রী ফরিদা বেগম ও শাশুড়ি। একটি মানুষের মৃতদেহ ঘরের আঙ্গিনায় পড়ে আছে। অথচ ঘরের কেউ জানেনা। বিষয়টি অবশ্যই রহস্যজনক।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আরিফ নিউজচিটাগাংকে জানান, বুধবার রাতে তৌহিদ খান স্ত্রী ফরিদা বেগম সহ খাবার খেয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় বসে গল্প গুজব করছিল। রাত ১২টার পর স্ত্রী ঘুমাতে চলে যায়। তিনি মুঠোফোনে কারো সাথে কথা বলছিল। সকালে সেখানেই তার মৃত দেহ পাওয়া যায়। তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম ঘরেই ঘুমানো ছিল। এই স্ত্রীর ঘরে তার কোন সন্তান নেই। ৫ ভাই ৫ বোনের মধ্যে সে সবার বড়। ময়নাতদন্ত শেষে কাল তার লাশ দাপন করা হয় পারিবারিক গোরস্থানে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র নিউজচিটাগাংকে জানায়, ভূজপুর ইউনিয়নের আমিজপুর গ্রামের খান বাড়ির মৃত বদিউজ্জামান চৌধুরীর পুত্র তৌহিদ খান। দীর্ঘদিন আমেরিকা প্রবাসী। সেখানে তার স্ত্রী, পুত্র ও কন্যা সন্তান রয়েছে। বাংলাদেশে প্রায় আসা যাওয়া করতো। সর্বশেষ গত ঈদুল আজহার সময় সে দেশে আসে। বছর খানেক আগে সে উপজেলার সুন্দরপুর ইউপির ফরিদা বেগম (২৫) কে দ্বিতীয় বিয়ে করে।

স্থানীয় অপর একটি সূত্র নিউজচিটাগাংকে জানায়, আমেরিকা প্রবাসী তৌহিদ খানের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত ভাবে অটেল ধন-সম্পত্তি রয়েছে। তার প্রথম স্ত্রী ও সন্তানেরা আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত। তারা বাংলাদেশে ফেরার সম্ভবনা নেই। সে দ্বিতীয় বিয়ে করায় অপরাপর ভাই ও বোনেরা বিষয়টি সাধারণ ভাবে মেনে নেয়নি। তারা দ্বিতীয় স্ত্রীকে তাড়াতে যেকোন কৌশল অবলম্বন করতে পারে। সূত্রটি আরো জানায়, সে দ্বিতীয় স্ত্রীকে বিয়ে করার সময় কোন সন্তান নেবেনা মর্মে চুক্তি করে। আর বৃহস্পতিবার তৌহিদ খানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেওয়ার সময় তার আত্মীয় স্বজনরা দ্বিতীয় স্ত্রীকে চলে যেতে বলে।

ভূজপুর থানার উপ পরিদর্শক মো. হেলাল উদ্দিন নিউজচিটাগাংকে বলেন, তৌহিদ খানের ছোট বোন বীনা খানের অভিযোগের ভিত্তিতে ময়না তদন্ত শেষে দাপন শেষ হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আরোও সংবাদ