সাংবাদিক সম্মেলনে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ১৪ প্রস্তাব

প্রকাশ:| রবিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৭ সময় ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ

রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরী: ব্যারিস্টার মনোয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি: হিউম্যান রাইটস্ ইন্টারন্যাশনালের সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেছেন- “রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যার স্থায়ী সমাধান জরুরী। রোহিঙ্গা হয়েছে নিমর্ম গণ হত্যার শিকার। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জাতিসংঘসহ তথাকথিত গণতান্ত্রিক ও সমাজতান্ত্রিক এবং কি ইসলামীক দেশের সরকার গুলো উলেখ্যযোগ্য ভুমিকা দেখাতে পারেনি। যার কারণে নির্ভয়ে বার্মা সরকার অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে অনুপ্রবেশ ঘটলে বৃহত্তর চট্টগ্রামের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নীতিগতভাবে এর প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। আমরা নীতিগতভাবে শরণার্থীদের প্রতি সাহার্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে। বিশ^বাসী নিশ্চুপ থাকলেও আমাদের সরকারে প্রধানমন্ত্রী এ ব্যাপারে এগিয়ে এসে সারা বিশে^র দৃষ্টি আকর্ষন করছেন এবং জাতিসংঘসহ বিভিন্ন শক্তিশালী রাষ্ট্রের সরকার গুলোকে কিছুটা হলেও নাড়া দিয়েছিলেন। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থান সরেজমিনে অবলোকন করার জন্য আমরা চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে গত ২০শে সেপ্টেম্বর টেকনাফ উখিয়া এলাকায় আমি ও চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দদের সাথে নিয়ে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প ও রিলিফ সেন্টার পরিদর্শন করেছি। রাস্তার পাশে ও বস্তি গুলিতে কোন বৈদ্যুতিক আলো নেই। চিকিৎসা টিম কিংবা ভ্রাম্যমান মেডিকেল টিম ও আশানুরোপ আইন শৃংখলা বাহিনীর তেমন কোন তৎপরতা চোখে পড়েনি।”

২৩শে সেপ্টেম্বর শনিবার ১১ টায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে মিলনায়তনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান যুক্তরাজ্যের প্যাক্টিসিন ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন উপস্থিত প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন- সর্ব শেষ গত ২৫ আগষ্ট থেকে এ যাবত ৪ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা রিফিউজি বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বিভিন্ন কেম্পে ও কেম্পের বাহিরে অবস্থান করছে। বার্মা সরকার রোহিঙ্গােেদর শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে এবং বছরের পর বছর ধরে নির্যাতিত করছে।”

ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন বলেন-“বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্র প্রধানরা এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করা থেকে বিরত থাকায় মায়ানমারের একসময়ের গণতান্ত্রিক নেতা হিসেবে খ্যাত অং সান সুচি দীর্ঘ দিনের বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে নামে মাত্র গণতান্ত্রিক সরকার গঠন হলেও বাস্তবে এখনও সামরিক জান্তাদের হাতে ক্ষমতা রয়ে গেছে যার প্রেক্ষিতে ওই হিংসুক জানোয়ার মায়ানমারের সামরিক জান্তাদের অত্যাচারে মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে গণহারে হত্যা, গণধর্ষণ এবং দেশ ছাড়তে বাধ্য করে তারই ধারাবাহিকতায় নতুনভাবে ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা স্মরণার্থী প্রবেশ করে এবং বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় দশ লক্ষ রোহিঙ্গা শরাণার্থী রয়েছে।

তিনি বলেন- “আমরা মনে করি অনির্দিষ্ট কালের জন্য শরণার্থীদের আবাসস্থান ক্যাম্পে কিংবা পাশর্^বর্তী এলাকায় হয়ে গেলে এর ফলশ্রুতিতে অত্র এলাকায় তথা বৃহত্তর চট্টগ্রামের উপর যে বিভিন্নভাবে প্রভাব পড়বে এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই এবং সর্বোপরি জাতীয়ভাবেই দেশের উপর প্রভাব পড়বে। এমনিতেই বৃহত্তর চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও আইন শৃংখলার সার্বিক অবস্থা উল্যেখযোগ্য ভাবে উন্নত নয়। যে কোন সময় মহামারী আকারে স্বাস্থের হুমকি সৃষ্টি হতে পারে। এর সার্বিক চাপ সামলানো সম্ভব নয়। কাজেই চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থা গুলোর কাছে আমাদের প্রস্তাব- ১. যথাযথ লবিং ও চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে শরণার্থীদেরকে যথাশীঘ্র সম্ভব বার্মায় নিরাপদে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া। ২. মায়ানমার সরকারের উপর আমেরিকা, জাপান, যুক্তরাজ্য ও জাতি সংঘের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অবরোধ অর্পন করা। ৩. রোহিঙ্গাদের সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য জাতি সংঘের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া। ৪. ভারত, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ গুলিকে এই রিফিউজিদের কিছু কিছু ভার দেওয়ার জন্য আহবান জানানো। ৫. ক্যাম্প ও ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমান স্বাস্থ্য কেন্দ্র স্থাপন করা। ৬. পর্যাপ্ত আইনশৃংখলা বাহিনী নিয়োগ করে শরণার্থীদের ক্যাম্প ও ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার বাহিরে আসা নিয়ন্ত্রণ রাখা। ৭. ক্যাম্পগুলিতে শিশু-কিশোরদের জন্য শিক্ষা ও শিক্ষামূলক কর্মকান্ড ব্যাবস্থা করা। ৮. প্রত্যেক শরণার্থীদের পরিচয়পত্র জরুরী ভিত্তিতে ব্যাবস্থা করা। ৯. সেনিটেশন ও পানিয় জলের ব্যাবস্থা রাখা। ১০. শীত বস্ত্রের সুব্যবস্থা করা। ১১. সেনাবাহিনীর মাধ্যমে সকল ত্রাণ কাজের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করা। ১২. বর্তমান ক্যাম্পগুলিকে যথাযথভাবে ও স্বাস্থ্যকর উপায়ে পরিচালনা করা এবং বাহিরের নিয়ন্ত্রহীন বস্তি গুলোকে নতুন ক্যাম্পে আওতায় নিয়ে আসা। ১৩. শরণার্থী ও ক্যাম্প গুলির জন্য আরব, ইউরোপ, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশের সাহায্যের জন্য সরকারের মাধ্যমে আহবান জানানো। ১৪. সব ধরণের ত্রাণ বিশেষ করে বিদেশী সাহায্য যথাযথ সমন্ত্রিত ত্রাণ তৎপরতার মাধ্যমে সুষ্ঠ বিতরণ করা।

তিনি বলেন- “যেহেতু সমস্যার অচিরে সমাধান হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই সেহেতু আমরা উপরোক্ত প্রস্তাবগুলি রাখলাম। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম রোহিঙ্গা সমস্যার ব্যাপারে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন, সরকার ও প্রতিষ্টান লবিং করবে। আমরা আপনাদের ও সরকারের সহযোগীতা এ ব্যাপারে কামনা করছি।”

এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট নারী নেত্রী সমাজসেবীকা বেগম হাসিনা জাফর, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের সদস্য মোঃ ইউনুসসহ সংগঠনের বহু নেতৃবৃন্দ। সমগ্র অনুষ্টানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মো. কামাল উদ্দিন।

 


আরোও সংবাদ