সহিংসতা বন্ধে নীতিমালা প্রণয়নে দুই প্রধান রাজনৈতিক জোটের ঐক্যমতের দাবী

প্রকাশ:| শনিবার, ১৮ জানুয়ারি , ২০১৪ সময় ০৬:৫৬ অপরাহ্ণ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
চট্টগ্রামে মানববন্ধন ও নাগরিক প্রতিবাদ সভায় বক্তাগন
হিন্দু ও ধমীয় সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের ওপর মানবতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস-সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য বিশেষ ট্রাইবুনালে বিচার ও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে

1
জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, বাঁশখালী, সীতাকুন্ড, সাতক্ষীরা, যশোর, দিনাজপুর, লক্ষ্মীপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মামলা, নির্যাতন, বাড়িঘর, উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর, ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী আর্ন্তজাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের আদলে বিশেষ ট্রাইবুনাল গঠন করে অবিলম্বে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি এবং নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা প্রতিরোধে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলি ঐক্যমতের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রনয়ণ ও তা জরুরী ভাবে জাতীয় সংসদে পাশের দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রামে কর্মরত বেসরকারী উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ। ১৮ জানুয়ারী’১৪ইং চট্টগ্রামের জামালখার প্রেসক্লাব চত্বরে “উন্নয়ন কর্মীদের প্লাটফরম-চট্টগ্রাম”, সিএসডিএফ ও জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদ চট্টগ্রামের উদ্যোগে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দু ও সংখ্যালগু সম্প্রদায়ের ওপর মানবতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস-সহিংসতার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধন ও নাগরিক প্রতিবাদ সভায় বক্তাগন উপরোক্ত উপরোক্ত দাবী জানান।

সিএসডিএফ এর চেয়ারপার্সন এস এম নাজের হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন রাঙ্গুনিয়া মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সমিতির সভানেত্রী ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট রেহেনা আক্তার, চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনের কাউন্সিলর গিয়াস উদ্দীন, দৈনিক সুপ্রভাত বাংলাদেশ’র নগর সম্পাদক ও জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের সভাপতি এম নাসিরুল হক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রিয় কমিটির সহ-সভাপতি আবদুল ওয়াহাব চৌধুরী, জাতীয় সঞ্চালন পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, নারী বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধ চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভানেত্রী ও নারী নেত্রী জেসমিন সুলতানা পারু, গনঝাগরন মঞ্চের সমন্বয়ক শরীফ চৌহান, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদের সদস্য সচিব অজয় মিত্র শংকু, ইপসার শহিদুল ইসলাম, নির্মল ফাউন্ডেশনের নুরুল আবচার তালুকদার, পিএসটিসির রফিকুল ইসলাম মজুমদার, সংসপ্তকের সৌরভ বড়–য়া, উৎসের মোস্তফা কামাল যাত্রা, প্রশিকার দেলুয়ার হোসেন, উম্মে কুলসুম আরজু, চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলা মহিলা আওয়ামীলীগ নেত্রী ও সুফিয়া কামাল ফেলো দীপিকা বড়–য়া, বিবিএফ’র সোহাইল উদ দোজা, স্বপ্লীল বাংলাদেশ’র মোহাম্মদ আলী সিকদার, সাফ’র রাজিব চন্দ্র মজুমদার, বিএনসিসির ওবায়দুর রহমান, আইসিডিসিএম’র সোহেল আক্তার খান, সামাজিক উদ্যোক্তা ঝর্না বড়–য়া, নাসিমা আলম, যুব শিক্ষার্থী সেচ্ছাসেবক আবু হোসাইন মোঃ নওশাদ, তৃনমুল ফেডারেশন চট্টগ্রামের আবদুল মোতালেব মাস্টার, আনোয়ার হোসেন সোহাগ, ইশিকা ফাউন্ডেশনের জহুরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির মুজিবুল হক শুক্কুর প্রমুখ।

বক্তাগন অভিযোগ করে বলেন সরকারের আইন শৃংখলা রক্ষা বাহিনীর দায়িত্বে অবেহেলার কারনে কিছু সন্ত্রাসী রাজনৈতিক কর্মকান্ডের নামে বেশ কয়েকমাস ধরেই বিভিন্ন ভাবে জঙ্গিবাদি, মানবতাবিরোধী, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে দেশকে অচল ও জঙ্গিবাদি অকার্যকর রাস্ট্রে পরিনত করার হুংকার দিলেও প্রশাসন যথাযথ উদ্যোগ নেয় নি। অধিকন্তু যারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে যাচ্ছে তাদের কাউকে না ধরে নিরহ সাধারন লোকজনকে নিয়ে গ্রেফতার বানিজ্যে লিপ্ত। এছাড়াও স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি ধর্মীয় সংখ্যালগু অধ্যুসিত এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বিধানে কোন কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বক্তাগন অভিযোগ করে বলেন স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ধর্মীয় সংখ্যালগু সম্প্রদায় ও মানবতা বিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঠিক বিচার না হওয়ায় সন্ত্রাসীরা বার বার একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক অস্থিরতাকে পুঁজি করে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতার আর্শিবাদে একশ্রেনীর সন্ত্রাসীরা এ সমস্ত অপকর্ম করলেও তার দায় ক্ষমতাসীনদেরকেই নিতে হবে।

বক্তাগন আরো অভিযোগ করে বলেন তথাকথিত রাজনৈতিক কর্মসুচির নামে সন্ত্রাস ও সহিংস আন্দোলন বাংলাদেশকে অকার্যকর ও জঙ্গিবাদী রাস্ট্রে পরিনত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক জনমত গঠনে মুক্ত চিন্তা ও প্রগতি পক্ষের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তবে হিন্দু অধ্যাষিত ও সংখ্যালগু এলাকায় যে ধরনের আক্রমণ ঘটানো হয়েছে তা মানবাধিকার লংঘনের নিকৃষ্ঠতম উদাহারন। ধর্মীয় সংখ্যালগুদের ওপর এরূপ বর্বরতা ও সহিংসতা ধর্মনিরপেক্ষ ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতি অগ্রনযোগ্য ও অমার্জনীয় জঘন্য ঘৃনিত অপরাধ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্ম-জাতি নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সম-অধিকারে অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশে এ ধরনের আক্রমন কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

বক্তাগন আরো অভিযোগ করে বলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সংগঠনগুলি স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে দেশ পুর্নগঠন ও দারিদ্রতা বিমোচনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করলেও এনজিও সেক্টরে নেতৃত্ব সংকট, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ও অধিকার ভিত্তিক ধারার প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সরকারী নিগ্রহের কারনে দেশে ব্যবসা ভিত্তিক ও সুবিধাবাদী ধারার প্রবর্তন হয়েছে। যা বর্তমান সরকারের আমলেও চলমান রয়েছে। ফলে দেশে অধিকার ভিত্তিক ধারায় এনজিওদের নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান এডাব এখন একটি বৃহৎ প্রতিষ্ঠানের আজ্ঞাবহ হয়ে অকার্যর হয়ে আছে। যার কারনে হিন্দু ও ধর্মীয় সংখ্যালগু সম্প্র্রদায়ের ওপর সহিংস হামলা ও মানবতা বিরোধী অপরাধসহ মানবাধিকার লংগন, মানবতা বিরোধী জঙ্গিবাদী কর্মকান্ড সংগঠিত হলেও এনজিও সেক্টর থেকে কোন সমন্বিত উদ্যোগ দেখা যায়নি। বক্তাগন বেসরকারী উন্নয়ন সেক্টরের ঐহিত্য ফিরিয়ে আনতে সরকার প্রধানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেন। সভায় সাম্প্রায়িক সম্প্রতি রক্ষায় বেসরকারী উন্নয়ন সংগঠন সমুহের সম্মিলিত উদ্যোগে চট্টগ্রামের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বেশ কিছু করনীয় সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় মানববন্ধন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা পরিষদ গঠন, ক্ষতিগ্রস্থদের পুর্নবাসন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জনমত গঠন, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস বাদের পৃষ্টপোষকদের বয়কটে সামাজিক আন্দোলন ও জনমতগঠন, ধর্মীয় সংখ্যালগুদের নিরাপত্তা প্রদানে সরকারী কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনে সরকারকে বাধ্য করা অন্যতম। মানববন্ধনে সংহতি জনিয়েছেন প্রশিকা, সাফ, ইলমা, সিআরসিডি, ইপসা, সংসপ্তক, উৎস, নির্মল ফাউন্ডেশন, খেলাঘর চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, তৃনমুল ফেডারেশন, প্রত্যাশী, পিএসটিসি, পার্ক, ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম, মমতা, ইশিকা ফাউেেন্ডশন, অগ্রযাত্রা, স্বপ্নীল বাংলাদেশ, আইসিডিসিএম, আইএসডিই বাংলাদেশ, ওডেব, প্রমুখ।