সহিংসতায় ভারতের হরিয়ানায় নিহত বেড়ে ৩০ জন

প্রকাশ:| শনিবার, ২৬ আগস্ট , ২০১৭ সময় ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ

কলকাতা প্রতিনিধি::

ধর্ষণ মামলায় ভারতীয় ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিংকে দোষী সাব্যস্ত করার পর সহিংসতায় ভারতের হরিয়ানায় নিহত বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছে আড়াইশতাধিক মানুষ।

১৫ বছরের পুরনো একটি মামলায় শুক্রবার দুপুরে পাঁচকুলা সিবিআই আদালতে গুরমিতকে দোষী সাব্যস্ত ঘোষণার পরই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে হরিয়ানার পাঁচকুলা, সিরসা, পাঞ্জাব ও দিল্লির একাধিক জায়গায়।

পাঁচকুলায় একাধিক জায়গায় বেশ কয়েকটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয়। শিমলা হাইওয়েতেও একের পর এক গাড়ি ভাঙচুর শুরু করে ডেরা সাচা ভক্তরা। এমনকি আদালতের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা গণমাধ্যম ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইঁট ছুঁড়তে থাকে বিক্ষোভকারীরা। ফলে সাময়িক পিছু হঠতে বাধ্য হয় পুলিশ। এরপর টিয়ার গ্যাসের সেল ফাটাতে হয় পুলিশকে। পরে বিক্ষোভকারীদের ঠেকাতে পুলিশ গুলি চালায়। পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে ড্রোন ও হেলিকপ্টারের সহায়তা নেয়া হয়েছে।

হরিয়ানার পাশাপাশি পাঞ্জাবের মানসাতে আয়কর ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। অগ্নিসংযোগ ঘটানো হয় পাঞ্জাবের মালৌট ও বাল্লুয়ানা রেল স্টেশনেও। দিল্লির মান্ডোলি ফ্লাইওভারে দুটি সরকারি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। লোনি চকেও বাসে আগুন লাগানো হয়। আনন্দ বিহারে রেলওয়ে টার্মিনালে রেওয়া এক্সপ্রেসের দুইটি খালি কামরায় অগ্নিসংযোগ ঘটনানো হয়। এই ঘটনায় দিল্লি রেল স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে পাঁছকুলায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির জেরে দিল্লি ও উত্তরাখন্ডসহ ৪টি রাজ্যে হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংও শান্তি বজায় রাখতে জনসাধারণের কাছে আর্জি জানিয়েছেন। তিনি জানান, অস্থিরতার ফলে সম্পত্তি নষ্ট বা জীবনহানির আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব নয়।

এর আগে এদিন সকালেই বিশাল গাড়িবহর নিয়ে পাঁচকুলার সিবিআই আদালতে হাজির হয় গুরমিত রাম রহিম সিং। ডেরা গুরুকে দেখতে আদালতে যাওয়ার রাস্তার দুই ধারে কয়েক লাখ ভক্ত জড়ো হয়। দুপুরের দিকে গুরমিতকে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩৭৬ (ধর্ষণ) ও ৫০৬ (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) নম্বর ধারায় অভিযুক্ত করা হয়। এরপরই উত্তেজিত হয়ে ওঠে গুরমিতের ভক্তরা। আগামী সোমবার গুরমিতের শাস্তির শুনানি হবে বলে জানা গেছে। কিন্তু পরিস্থিতি যে পর্যায়ে পৌঁছেছে তাতে সোমবার শাস্তি প্রদান করা হবে কি না তা অনিশ্চিত।

যদিও ভক্তরা যাতে আশপাশের রাজ্য থেকে পাঁচকুলা ও সিরসায় আসতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে হরিয়ানা রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক রুটে এদিন বাস পরিসেবা বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি হরিয়ানায় প্রবেশের বেশ কয়েকটি ট্রেনও বাতিল করা হয়। তার পরেও গুরমিত ভক্তদের আটকানো যায়নি।

ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে বড় ধরনের গোলমাল ও সংঘর্ষের আশঙ্কা করে প্রায় যুদ্ধের প্রস্তুতিও নিয়েছিল হরিয়ানা ও পাঞ্জাব প্রশাসন। দুই রাজ্যেই প্রায় ১৫ হাজার আধা সামরিক বাহিনীর জওযান মোতায়েন করা হয়। সেই সঙ্গে মোতায়েন করা হয় ৫০ হাজার পুলিশও। পাঁচকুলা সিবিআই আদালত চত্বরও কার্যত দুর্গের চেহারা নিয়েছিল। কিন্তু তবু সহিংসতা এড়ানো গেল না।

গুরমিত রাম রহিমকে দোষী সাব্যস্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জ্বলতে থাকে গোটা পঞ্চকুলা। আর পুরো ঘটনায় হরিয়ানার বিজেপি সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এবিষয়ে হরিয়ানা সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ও।

উল্লেখ্য হরিয়ানার সিরসায় ‘ডেরা সাচা সওদা’ শিবিরেই এক নারী শিষ্যকে ক্রমাগত র্ধষণ করার অভিযোগ ওঠে। এরপর ২০০২ সালে গুরমিতের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়।


আরোও সংবাদ