সহিংসতার দায়ভার আহ্বানকারীর: প্রধান বিচারপতি

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই , ২০১৫ সময় ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

এসকে সিনহাকেহরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি ডাকার পর গাড়ি ভাংচুরসহ সহিংসতার দায় কর্মসূচি আহ্বানকারীদেরই নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের শুনানির সময় আইনের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তি সহিংসতার স্থানে না থাকলেও দায় এড়াতে পারবেন না।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের দিনটিকে এ বছর গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে বিএনপি। তখন থেকে টানা অবরোধ-হরতালসহ কর্মসূচি চলার সময় সারাদেশে পেট্রল বোমা, গাড়ি পোড়ানোসহ সহিংতায় বহু প্রাণহানী ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।

সহিংসতার ইন্ধনদাতা হিসেবে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এর মধ্যে পল্টন থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিলে এর বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, এই ধংসাত্মক কাজ চালানো হতো না বা জ্বালানো-পড়ানো হতো না, যদি রাজনৈতিক এই কর্মকাণ্ডগুলো না দেয়া হতো। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে যদি কোনো রকম সম্পত্তি নষ্ট হয়, মানুষ মারা যায় এবং মানুষের ক্ষতি হয়, সেক্ষেত্রে ওই কর্মকাণ্ড দেয়ার পেছনে যাদের ভূমিকা বা নেতৃত্ব দেবে এই দায়িত্বগুলো তাদের ওপরে যাবে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বক্তব্যের জবাব দেওয়ার সময় প্রধান বিচারপতি সহিংসতা সম্পর্কে আইনের ধারাটি খন্দকার মাহবুব হোসেনকে পড়তে বলেন। তিনি পড়ার পর হরতাল অবরোধের সময়ের সহিংসতা নিয়ে মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি বক্তব্যের পরে জবাবে খন্দকার মাহবুব বলেন, খালেদা জিয়া বার বার বলেছেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে। এমনকি আমাদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের কোনো মন্তব্যে এমন কোনো উস্কানিমুলক কথা ছিলো না। কিন্তু মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে ওই উস্কানির অভিযোগ আনা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাই না, কারণ বিষয়টি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। বিচার প্রমাণ হলে তখন দেখা যাবে।

বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে ৩টি মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শেষে রোববার আদেশ দেবেন আপিল বিভাগ।