সর্বসম্মতিতে কানেকটিভিটির ফি নির্ধারিত হবে: পঙ্কজ শরণ

প্রকাশ:| শনিবার, ২০ জুন , ২০১৫ সময় ০৬:১০ অপরাহ্ণ

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ জানিয়েছেন, ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে সদ্য স্বাক্ষরিত চার দেশীয় কানেকটিভিটির সব ধরনের ফি সর্বসম্মতিক্রমে নির্ধারণ করতে হবে। এতে সকল দেশ লাভবান হবে।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক ইন-এ সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) কর্তৃক আয়োজিত ‘দক্ষিণ এশিয়ার সড়ক যোগাযোগ ও বাণিজ্য সুবিধা’ শীর্ষক সংলাপে হাইকমিশনার এ মন্তব্য করেন।

সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাকায় নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ কে শ্রেষ্ঠা ও এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদ।

হাইকমিশনার পঙ্কজ শরণ বলেন, সদ্য স্বাক্ষরিত চার দেশীয় কানেকটিভি চুক্তি হচ্ছে গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক অগ্রগতি। নেপাল, ভুটানও এই চুক্তির সুবিধা গ্রহণে চুক্তি করেছে। বাংলাদেশ-নেপাল ও ভুটানের বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এ ধরনের চুক্তি বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণের কাজটি খুবই জটিল। এরপরও আমি অত্যন্ত খুশি যে, চারটি দেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে জলপথ, সড়ক ও রেলপথকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি বেশি হওয়ায় আমরাও উদ্বিগ্ন। গত ৫ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে তার আগের বছরগুলোর তুলনায় আমদানি-রফতানির পার্থক্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ বছরে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি করেছে। এর মধ্যে গত অর্থবছরে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রফতানি করা হয়েছে ৯৬ মিলিয়ন ডলার। আর ভারত মোট রফতানি করেছে ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সদ্য স্বাক্ষরিত উপ-আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে দেরি করতে চাই না বাংলাদেশ। কারণ, এটি বাস্তবায়নে দেরি করা মানে চুক্তিকে অস্বীকার করা।

তিনি বলেন, চার দেশীয় কানেকটিভিটিতে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যুক্ত হতে পারে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, এই অঞ্চলের যেকোনো দেশ তিন মাসের নোটিশ চুক্তির কার্যকারিতা থেকে প্রত্যাহার করে নিতে পারে। আবার যে-কেউ যুক্ত হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আঞ্চলিক রেল কানেকটিভিটিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। কারণ, এতে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক কম। এ ব্যাপারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক ঢাকা সফরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনাও করেছেন। মন্ত্রী বলেন, ভারত থেকে প্রতিশ্রুত অর্থ এলে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ শুরু হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, ঢাকায় ২০২০ সালের মধ্যে মেট্রোরেল চালু করা হবে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল চালু হবে। এছাড়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে চালুর লক্ষ্যে চায়নার একটি কোম্পানির সঙ্গে কথা চলছে। রাজধানীর যানজট, জনজট ও জলজট নিরসনে চলমান ফ্লাইওভারসহ এসব উদ্যোগ কাজে আসবে।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রামে চার লেনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় এই চার লেনের কাজে দেরি হয়েছে। ইতিমধ্যে এই রুটের ১৪০ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মাসেতুর ২০ ভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে। পদ্মাসেতু দিয়ে রেলাইনসহ চার লেনের সড়ক নির্মাণ করা হবে।

নেপালের রাষ্ট্রদূত এইচ কে শ্রেষ্ঠা বলেন, চার দেশীয় যান চলাচল চুক্তির ফলে নেপালে ট্যুরিজম ব্যবসার অগ্রগতিতে ভুমিকা রাখবে। এই চুক্তিটি নেপালের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে। নেপালের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে বাংলাদেশ থেকে ভারতের ভেতর দিয়ে সড়কপথে ত্রাণ পৌঁছাতে সহযোগিতা করায় দুদেশকেই ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের মংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা নেপাল দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যাশা করেছিল।