সর্ববৃহ্যৎ যুদ্ধজাহাজ ‘বিএনএস সমুদ্রজয়’ এখন চট্টগ্রামে

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:৩২ অপরাহ্ণ

বিএনএস সমুদ্রজয়নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো সর্ববৃহ্যৎ যুদ্ধজাহাজ ‘বিএনএস সমুদ্রজয়’। যুক্তরাষ্ট্র কোষ্টগার্ড থেকে সংগ্রহ করা এই যুদ্ধ জাহাজটিকে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম নৌঘাটিতে অভ্যর্থনা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডাব্লিউ মজিনা এবং নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল ফরিদ হাবিব।

জাহাজটি সকাল সাড়ে ১০টায় নৌ জেটিতে পৌঁছায়। এরপর সেটি পরিদর্শন করেন তারা। ‘বিএনএস সমুদ্রজয়’ যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রথম যুদ্ধ জাহাজ।

পরিদর্শন শেষে ড্যান ডাব্লিউ মজিনা সাংবাদিকদের বলেন, “বাংলাদেশের বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র, এই রপ্তানি বাণিজ্যের বেশিরভাগই হয় সমুদ্র পথে। বাংলাদেশের সমুদ্র সীমা নিরাপদ রাখতে এই জাহাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

“আমি আশা করছি, ঠিক এই রকম আরো একটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসবে, যাতে বঙ্গোপসাগরে মানব ও অস্ত্র পাচার বন্ধ করার পাশাপাশি এখানকার মৎস্য ও গ্যাসসহ অনান্য সম্পদ নিরাপদ রাখা যায়” উল্লেখ করেন মজিনা।

তিনি আরো বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের মূল ভূখন্ডের চেয়েও বড় সমুদ্র সীমা নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে।”

নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল ফরিদ হাবিব বলেন, “বিএনএস সমুদ্রজয় এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফ্রিগেট। মিয়ানমারের সাথে গতবছর সমুদ্র বিজয়ে আমরা মূল ভূখন্ডের চেয়েও বড় সমুদ্র সীমা পেয়েছি, এতো বড় সমুদ্র টহল দেওয়ার জন্য আমাদের বড় জাহাজ দরকার। এই প্রয়োজনীয়তা থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে জাহাজটি সংগ্রহ করা হয়েছে।”

“ইনশাআল্লাহ, এই রকম আরো একটি জাহাজ আমরা পেতে যাচ্ছি, এই জাহাজগুলো পেলে সমুদ্রে নজরদারি বাড়ানো অনেক সহজ হবে। সমুদ্র সম্পদ আহরণ করতে হলে যে বিদেশি রিগ স্থাপিত হবে সেগুলোর পাহারা দিতে আরো জাহাজ দরকার” উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, “আমাদেরকে তিনটি ফিগ্রেট রিপ্লেস করতে হবে, ফ্রিগ্রেটের চেয়েও ছোট জাহাজ করবেট সংগ্রহ করতে হবে। কিছু জাহাজ চীনে তৈরি হচ্ছে, দেশেও কিছু তৈরি হচ্ছে, বর্তমান সরকারের পরিকল্পনায় আগামী ১০ বছরের মধ্যে মোটামুটি সাইজের একটি নেভী তৈরি করতে পারবো। এটা দিয়ে আমরা আমাদের সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারবো।”

ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি আমাদের অনুকূলে হবে উল্লেখ করে নৌবাহিনী প্রধান বলেন, “আগামী বছরের মাঝামাঝিতে আর্ন্তজাতিক আদালতের রায় পাওয়া যাবে, আমরা আদালতে সব তথ্য উপাত্ত জমা দিয়েছি, তারা এসব তথ্য সম্প্রতি যাচাই বাছাই করে গেছে।”

যুক্তরাষ্ট্র কোষ্টগার্ডের জাহাজ এন্ডুরেন্স কাটার জার্বিস বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সর্ববৃহৎ যুদ্ধ জাহাজ “সমুদ্রজয়” হিসেবে যুক্ত হয়েছে। গত বছর মিয়ানমারের সাথে সমুদ্র বিরোধ বিজয়কে স্মরনীয় করে রাখতে জাহাজটির নাম দেয়া হয় সমুদ্র জয়।

প্রায় ৩৩শ টন ওজনের এই জাহাজের দৈর্ঘ্য ১১৫ মিটার। জাহাজটি ডিজেল ইঞ্জিনের পাশাপাশি চলবে গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিনে। ঘণ্টায় ২৯ নট্যিক্যাল মাইল বেগে ছুটতে সক্ষম বিএনএস সমুদ্রে জয়ে আছে একসাথে ডলফিন, ব্ল্যাক হক ও সি-হক হেলিকাপ্টার ঊঠানামার সুবিধা। এছাড়াও বিশেষ মিসাইল ও টর্পেডো সংযুক্ত আছে।

গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রের সানফান্সিকোতে জাহাজটি নৌবাহিনীর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়। ফিলিপাইনে ঘুর্ণি দুর্গতদের জন্য বাংলাদেশের ত্রান সামগ্রী এই জাহাজ দিয়েই পৌঁছানো হয়েছে।

নৌবাহিনীর গোয়েন্দা শাখার প্রধান ক্যাপ্টেন সোহায়েল জানিয়েছেন, বিএনএস সমুদ্রজয় যুক্তরাষ্ট্রের কোষ্টগার্ডের একটি অপারেশন জাহাজ হলেও এটি অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনীর সমমানের জাহাজগুলোর তুলনায় উন্নত, এশিয়ার কয়েকটি দেশের নৌবাহিনী জাহাজটিকে পাওয়ার চেষ্টা করেছে।

“এসব দেশের সাথে প্রতিযোগীতা করে প্রায় দুই থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা মূল্যের জাহাজটি অর্জন করতে হয়েছে এবং এটিই নৌবাহিনীর বহরে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্রথম যুদ্ধ জাহাজ। জাহাজটিতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকায় আরো উন্নত সমরাঞ্চ স্থাপন করা সম্ভব হবে” উল্লেখ করেন সোহায়েল আহমদ।

তিনি বলেন, “জাহাজটি সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সহায়তা পাওয়া গেছে, এর আগে বাংলাদেশে বিশেষ নৌকমান্ডো টিম সোয়াত গঠনে প্রশিক্ষন ও সরঞ্জাম দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করেছে।”

আগামী ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ কর্তৃক ‘বিএনএস সমুদ্রজয়’এর কমিশনিং করার কর্মসূচি আছে।