সরেজমিন রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১২ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৪:২৫ অপরাহ্ণ

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেক্সে চিকিৎসকের নিয়মিত রোগী দেখেনা, এলাকার দরিদ্র পরিবারের রোগীরা চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিতraw 12a
শফিউল আলম, রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধিঃ রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা পায়না এলাকার দরিদ্র রোগীরা দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা চট্টগ্রাম শহরের মধ্যে ও রাউজান উপজেলা সদরে অবস্থিত বেসরকারী ক্লিনিক ও পাথলজি সেন্টারে টাকার বিণিময়ে প্রাইভেট রোগীর চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন । হাসপাতালে এসে ঘুরে কয়েকজন রোগী দেখে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যায় চিকিৎসকেরা । রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে চিকিৎস সেবা দেওয়ার দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসকেরা রাউজান এলাকার বাসিন্দ্বা পরিচয় দিয়ে, রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পোষ্টিং নেয় । দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর ভেতরে তাদের জন্য তৈয়ারী পাকা বাসভবণে থাকার কথা থাকলে ও তারা তাদের নামে পাকা বাসা বরাদ্ব নিয়ে, চিকিৎসকেরা তাদের নেওয়া পাকা বাসায় থাকেনা । দায়িত্বরত চিকিৎসকেরা থাকেন চট্টগ্রাম শহরে । চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন ক্লিনিকে টাকার বিণিময়ে চিকিৎসা করেন ধনী পরিবারের রোগে আক্রান্ত রোগীদের । দাযিত্বরত চিকিৎসকের মধ্যে যে চিকিৎসকের জরুরী বিভাগের ডিউটির দায়িত্ব পড়েন । জরুরী বিভাগের দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক ডিউটি পালন কালীন সময়ে বাসায় থাকেন । এলাকার দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন প্রকার রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবা পাওয়ার আশায় গেলে ঘন্টার পর ঘন্টা াপেক্ষা করে ও চিকিৎসক না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়ে ফিরে আসতে হয় । দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা রোগে আক্রান্ত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে বাইরে গিয়ে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে চিকিৎসা করেন বলে অভিযোগ করেন চিকিৎসা সেবা না পাওয়া রোগী ও রোগীর অভিবাবক । গত১১ সেপ্টেম্বর সকাল দশটার সময় রাউজানের লেলাঙ্গারা গ্রামের বাসিন্দা রোকন তার দেড় বছর বয়সের শিশু সন্তান রিনবির প্রচন্ড জ্বর হওয়ায় তাকে চিকিৎসা করার জন্য রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় । সকাল দশটা থেকে দুপুর বারটা পর্যন্ত অপেক্ষা করে কোন চিকিৎসককে না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে এসে বাইরে চিকিৎসকের কাছে টিকিৎসা করা হয় বলে অবিযোগ করেন রোকন । রাউজানের পশ্চিম রাউজান জারুল তলা এলাকার রুবি আকতার রোগে আক্রান্ত হয়ে গতকাল সকাল দশটার সময় চিকিৎসা নিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন । সকাল দশটা থেকে দুপুর বারটা পনর মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর দুপুর বারটা পনর মিনিটের সময় দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক মোস্তাফা নুর মোরশেদ আসলে রুবি আকতার কে চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন বলে অভিযোগ করেন রুবি আকতার । রাজু আকতার নামে এক মহিলা তার শিশু সায়মনকে চিকিৎসা করতে গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর সকাল দশটার সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন । সকাল দশটা থেকে দুপুর বারটা পনর মিনিট পর্যন্ত বসে থাকার পর চিকিৎসক মোস্তাফা নুর মোরশেদ আসলে তাকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয় বলে জানান রাজু আকতার । এলাকার লোকজনের অভিযোগ পেয়ে গত ১১ সেপ্টেম্বর সকাল দশটা থেকে বিকাল ২টা পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে সরজমিনে দেখা যায় দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক মোস্তাফা নুর মোরশেদ সকাল সাড়ে এগারটার সময় এসে জরুরী বিভাগে ঘুরে চলে যায় । দুপুর বারটা পনর মিনিটের সময় এক নং কক্ষে এসে অপেক্ষা করা ওেরাগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন । ডাঃ মোস্তাফা নুর মোরেশেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, নাস্তা করতে গিয়েছি, নাস্তা করে এসে রোগীদের চিকিৎসা করছি ।raw 12 ডাঃ মোস্তাফা নুর মোরশেদ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে গাইনি বিভাগের চিকিৎসক শ্রাবনী চক্রবর্তী দুপুর বারটার সময় এসে কয়েকজন রোগী দেখে দুপুর একটার সময় চলে যায় । ডাঃ অনুপম দাশ এসেছে দুপুর বারটার সময় । ডেন্টাল সার্জন ডাঃ খায়রুল আলম তার কক্ষে বসে থাকলৈ ও কোন রোগীর চিকিৎসা করতে দেখা যায়নি । রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান কালে সকাল ১১ টার সময় এক পসলা বৃষ্টি হয় । সামান্য পরিমাণ বৃষ্টিতে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর সামনের সড়কে হাটু পরিমাণ পানিতে ডুবে যায় । হাটু পরিমাণ পানি দিয়ে এক রোগী আসার সময় পানিতে পড়ে যায় । এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মধ্যে দায়িত্বে নিয়োজিত সুইপার নালা নর্দমা পরিস্কার করেনা । ময়লা আর্বজনায় নালা ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনের সড়ক হাটু পরিমাণ পানিতে ডুবে যায় । রোগীরা পরণের কাপড় তুলে হাটু পরিমাণ পানি দিয়ে চরম দুর্ভোগের মধ্যে চলাচল করতে হয় । নোহাম্মদ পুর এলাকার বাসিন্দ্বা কুতুব উদ্দিন জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে একটি কুকুরের মৃতদেহ পড়ে থাকে । কুকুরের মৃত দেহের দুর্গন্দ্বে রোগী ও এলাকার লোকজন নাকে রুমাল দিয়ে চলাচল করেন । পরে এলাকার লোকজন বিক্ষুদ্ব হয়ে উঠলে হাসপাতালের সুইপার কুকুরের মৃত দেহটি গত ১০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার সরিয়ে নিয়ে বাইরে ফেলে দেয় বলে অভিযোগ করেন কুতুব উদ্দিন । সরজমিনে পরিদর্শন কালে গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে দুপুর দুইটা পযর্ন্ত সময়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার নাথ, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহ মোহাম্মদ সোলাইমান কে পাওয়া যাযনি । উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার নাথকে মুঠো ফোনে ফোন করলে তিনি জানান, অফিসিয়াল কাজে তিনি ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ শাহ মোহাম্মদ সোলাইমান চট্টহ্রাম সিভিল সার্জন অফিসে গিয়েছেন । রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার নাথ জানান, হাসপাতালে চিকিৎসক মোস্তাফা নুর মোরশেদ, শ্রাবণী চক্রবর্তী, অপরুপা দাশ, খায়রুল ইসলাম দাযিত্বে রয়েছেন । রোগীরা দায়িত্বরত চিকিৎসকের না পাওয়া প্রসঙ্গে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার নাথ বলেন, তারা নাস্তা খাওয়ার জন্য গেছেন সে কারনে তাদের রোগীরা পায়নি । দায়িত্বে নিয়োজিত মনোজ চৌধুরী বাইরে রয়েছেন প্রতিবন্দ্বী রেজিষ্টেশন কাজে । একজন চিকিৎসককের পদ শুন্য রয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ অসিম কুমার নাথ । রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী জুয়েল জানান, গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর দুইটা পর্যন্ত সময়ে আউটডোরে একশত ত্রেত্রিশ জন রোগীর চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে । তিনটি ওয়ার্ডে আটজন পুরুষ রোগী, পচিশঁ জন মহিলা রোগী ভর্তি রয়েছে ।