সরকার হিটলিস্ট তৈরি করে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা করছে

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর , ২০১৩ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

নজরুল ইসলাম খানসরকার হিটলিস্ট তৈরি করে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। দলের স্থায়ী কমিটির নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সরকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় ক্যাডারদের নিয়ে আন্দোলনকে দমানোর যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে- তার প্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে হামলা হচ্ছে। যৌথ বাহিনী নামিয়ে সরকার হিটলিস্ট তৈরি করে বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা শুরু করেছে। তিনি বলেন, তফসিল ঘোষণার পরও যৌথবাহিনী দিয়ে জেলায় জেলায় ১৮ দলীয় জোটের নেতাদের হত্যা-গুম করার দায় থেকে নির্বাচন কমিশন রেহাই পেতে পারে না। আজ্ঞাবাহী নির্বাচন কমিশনকে ভবিষ্যতে অবশ্যই এসব ঘটনার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, সোমবার রাতে পুলিশ ও র‌্যাবের একটি দল লক্ষ্মীপুর সদর বিএনপি নেতা আবদুল মান্নান ও যুবদল নেতা খোরশেদ আলম সুমনকে শহরের বটতলী খালেরপাড়ে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। এছাড়া বিল্লাল নামে এক কর্মীকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে তার সন্ধান মেলেনি। গ্রেপ্তারের নামে পুলিশ ও র‌্যাব পরিচয়ে একটি সংস্থা বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি হামলা, লুটপাট ও নেতাদের আটক করছে। পরে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এমন গুমের কারণে লক্ষ্মীপুরের মানুষ এখন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া সোমবার যশোর সদর পৌর ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ হোসেনকে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। এভাবে গতকয়েক দিনে লক্ষ্মীপুর, জয়পুরহাট, সাতক্ষীরা, নীলফামারী, নোয়াখালী, লালমনিরহাট ও যশোরে আমাদের ২৫ জনের মতো নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন। অবরোধের প্রথম দিন সারা দেশে ৩ জন নিহত ও ২৫১ জন আহত হয়েছে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, সোমবার রাতে বিএনপি’র সাবেক তথ্য সম্পাদক এহসানুল কবিরকে তার বাসা থেকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তার স্ত্রী জানিয়েছেন কবির কোথায় আছেন তা তিনি এখনও জানেন না। অবিলম্বে হত্যা, গুম, নির্যাতন বন্ধ করে চলমান রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। বিএনপি স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, সরকার এই তামাশার নির্বাচনে বানরের পিঠা ভাগের মতো সংসদীয় আসনগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিয়েছে। দেশের ৯ কোটি ভোটারদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৫২ শতাংশ ভোটারদের ভোটদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। কারন ভোট প্রার্থনা করার মত তাদের নৈতিক মনোবল আর অবশিষ্ট ছিল না এবং বাকী ১৪৬টি আসনেও তারা আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে পিঠা ভাগাভাগি করার নির্লজ্জ কৌশল নিয়ে জনমতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। নজরুল ইসলাম খান বলেন, যে নির্বাচনে সরকারি দল এবং সম্ভাব্য বিরোধী দলের মধ্যে ক্ষমতাসীন দল আসন ভাগাভাগি করে দেয় সেই নির্বাচন অবশ্যই একটি পাতানো নির্বাচন। এমন নির্বাচন জনগণের প্রত্যাশিত নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়। তাই এই নির্বাচনী নাটক অবিলম্বে বন্ধ করুন। নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা আগেই বলেছি দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে কে কোথায় প্রার্থী থাকবেন, তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জিতবেন নাকি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি বনে যাবেন- এসবই আগে ভাগে সরকার নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এ ধরনের ভাগাভাগির কথা প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন। এ ধরনের তামাশার নির্বাচন বর্জন ও প্রতিহত করা বিরোধী দলগুলোর দায়িত্ব এবং এ ধরনের নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার অবশ্যই জনগণের অনির্বাচিত সরকার। তাই নির্দলীয় সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে শান্তিপূর্ণভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। ‘দশম জাতীয় সংসদ নিয়ে আলোচনার আর কোন অবকাশ নেই- একাদশ সংসদের বিষয় নিয়ে সংলাপ হতে পারে’Ñ যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, যোগাযোগ মন্ত্রী সরকারের পক্ষ থেকে নাকি দলের পক্ষ থেকে নাকি উভয় পক্ষ থেকে নাকি শুধুই নিজের পক্ষ থেকে এই বক্তব্য দিয়েছেন আমরা জানি না। কিন্তু আমরা সবাই এটা জানি যে, তার বক্তব্যের সঙ্গে সরকারের অন্য মন্ত্রী ও নেতাদের বক্তব্যের কোন মিল নেই। এমন গরমিল আর গোঁজামিল দিয়েই চলছে এই সরকার। সরকার ও সরকারি দলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এমন বিভ্রান্তিকর ও আজগুবি বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। নজরুল ইসলাম বলেন, সরকার সংবিধান রক্ষার মোড়কে একটি স্বৈরাতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রচলনের চিরস্থায়ী পথ সুগম করার স্বপ্নে দেশে যে গৃহযুদ্ধের বিষবাষ্প ছড়িয়ে দিচ্ছে-তা এক ভয়াবহ অশনি সংকেত। তামাশার এই নির্বাচনের স্বীকৃতি দেশে-বিদেশে কোন মহলেই মিলবে না। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন পার্লামেন্টে ও যুক্তরাষ্ট্রে কংগ্রেসে বাংলাদেশ নিয়ে যে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আবারও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশকে নিয়ে শুনানির কথা আমরা শুনছি- তা বাংলাদেশের জন্য লজ্জাজনক।

সরকারের দমনপীড়নে সুযোগ নিচ্ছে অন্যরা
সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমনপীড়ন করায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্যরা হস্তক্ষেপের সুযোগ পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। কাদের মোল্লার মৃত্যুদণ্ড নিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাসের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। পাকিস্তানি হাইকমিশনারকে তলব করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার জন-আন্দোলন দমাতে গিয়ে জনগণকে বিভক্ত করে দেশ বিভক্ত করেছে। তাই অন্য দেশ এ ধরনের প্রস্তাব পাস করতে পারছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ জানানো সরকারের দায়িত্ব। সরকারের আরও আগেই এর প্রতিবাদ জানানো উচিত ছিল। সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম খান বলেন, আমরা সবসময়ই বলে আসছি, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিএনপিও চায়। কিন্তু সেটা হতে হবে আন্তর্জাতিক মানের। তবে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে না। তারা করছে মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার। যুদ্ধাপরাধ আর মানবতা বিরোধী অপরাধ এক নয়। তিনি বলেন, সরকারের মানবতা বিরোধী বিচারের কিছু কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রশ্ন তুলেছে।


আরোও সংবাদ