সরকার দলীয় এমপি শাহ আলম নিজ দলের নেতাকর্মীর হামলার শিকার

প্রকাশ:| বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ

হামলানির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পিরোজপুর-২ আসনের সরকার দলীয় সংসদ সদস্য শাহ আলম মিয়া। আজ বুধবার নাজিরপুরের শ্রীরামকাঠিতে নিজ দলের নেতাকর্মীরা তার ওপর এই হামলা চালায়।

এ সময় তার সফর সঙ্গী সারেঙ্গকাঠির ইউপি চেয়ারম্যান সায়েম, প্রধান শিক্ষক পঙ্কজ মন্ডল, জয় সূতারসহ ৪৫ জন আহত হন। এমপি শাহ আলম হামলা থেকে বেঁচে গেলেও তার সাথে অনেক নেতাকর্মী নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রাণে বেঁচে যান। এ ঘটনার জন্য পিরোজপুর-১ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ কে এম এ আউয়ালকে দায়ী করেছেন শাহ আলম।

সকাল ১১ টার দিকে স্বরূপকাঠির ইন্দুরহাট ও ভরতকাঠি খেয়াঘাট থেকে কয়েকটি ট্রলারে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে শ্রীরামকাঠি লঞ্চ ঘাটে পৌঁছান শাহ আলম। এ সময় নাজিরপুর শ্রীরামকাঠি বন্দরের আলতাফ বেপারী, খোকন কাজী, গোপাল স্বর্ণকারসহ যুবলীগ-ছাত্রলীগের একদল কর্মী শাহ আলমকে লঞ্চ ঘাটে উঠতে বাধা দেয় এবং কার অনুমতি নিয়ে নাজিরপুরে এসেছেন তা জানতে চায়। পরে নৌকায় থাকা শাহ আলম সমর্থকদের ওপর তারা হামলা চালায় ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ হামলার হাত থেকে বাঁচতে অনেকে কালীগঙ্গা নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর এমপি শাহ আলম সাথে থাকা লোকজন নিয়ে নদীর অপর পাড়ে ভরতকাঠিতে চলে গিয়ে তাত্ক্ষণিকভাবে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে শাহ আলম ছাড়াও স্বরূপকাঠি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার ও অধ্যক্ষ বেলায়েত হোসেন বক্তব্য রাখেন। এ হামলা পিরোজপুরের এমপি আউয়ালের নির্দেশে হয়েছে বলে এমপি মো. শাহ আলম অভিযোগ করেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের সামপ্রতিক আসন পুনর্বিন্যাসে পিরোজপুর-২ আসনভূক্ত স্বরূপকাঠি (নেছারাবাদ) উপজেলা পিরোজপুর-১ আসনের সাথে একীভূত হয়েছে। আওয়ামী লীগ দলীয় এই দুই এমপিই পিরোজপুর-১ আসন ভূক্ত হওয়ায় তারা উভয় এখান থেকে দলীয় প্রার্থী হতে চান। যার অংশ হিসাবে পিরোজপুর-১ আসন ভূক্ত নাজিরপুর উপজেলায় গণসংযোগের অংশ হিসাবে আজ শ্রীরামকাঠিতে যান।

এদিকে বিশিষ্ট আওয়ামী লীগ নেতা ও বাংলাদেশ সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শ ম রেজাউল করিম এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।