সরকার গণতন্ত্রকামীদের বেছে বেছে গুম করছে

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ২ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১০:০৮ অপরাহ্ণ

গণবিচ্ছিন্নতার বিষয়টি বুঝতে পেরেই সরকার গণতন্ত্রকামী মানুষদের মধ্যে যারা অগ্রগণ্য তাদেরকে বেছে বেছে গুম ও খুন করছে। জনগণের মূল আকাঙ্খা থেকে সরে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার জন্যই সরকার এমনটি করছে। আর এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে সরকারের দু:শাসন ও দুরাচারের চালচিত্র ফুটে উঠছে।
সরকার গণতন্ত্রকামীদের বেছে বেছে গুম করছে
বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও সারাদেশে গুম-খুনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত গণস্বাক্ষর কর্মসূচি অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা আরো বলেন, হযরত মোহম্মদ (স.), তাবলিগ ও হজ নিয়ে কটূক্তি করায় শুধু আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে নয় সরকারকেও বিদায় নিতে হবে।

ইয়ুথ মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির সভাপতি শামা ওবায়েদের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সাংবাদিক আমান উল্লাহ কবীর, কাজী সিরাজ, রহুল আমিন গাজী, কামাল উদ্দীন সবুজ, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, কাদের গণি চৌধুরী ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পিয়াস করিম।

আমান উল্লাহ কবীর বলেন, আওয়ামী লীগ একটা ওয়াকওভার পেয়ে ডেসপারেট হয়ে উঠেছে। সামনের দিনগুলোতে তারা আরো বেশি আক্রমণাত্মক আচরণ করবে।

তিনি বলেন, দেশের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ মানুষ আওয়ামী লীগকে পছন্দ করেন না। সেই ৬০/৭০ শতাংশ মানুষের প্রতি রাজনৈতিক দলগুলোর কি দায়-দায়িত্ব নেই? দায়িত্ব থাকলে তারা কি সেটি যথাযথভাবে পালন করতে পারছে? আওয়ামী লীগের কৌশলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো বার বার পা দেয়। আর আমরা চেয়ে চেয়ে দেখি।

দেশের মানুষ পরিবর্তন চান দাবি করে আমান উল্লাহ কবীর বলেন, চার দেওয়ালের বাইরে যেতে না পারলে ঘরের মধ্যে চেচিয়ে কোনো লাভ হবে না। মাঠে না নামতে পারলে, সংগঠিত হতে না পারলে, জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারলে সবকিছু অর্থহীন হয়ে যাবে।

কাজী সিরাজ বলেন, ১৯৭০ এর নির্বাচনে বিজয়ীরা যদি ক্ষমতা বুঝে পেতেন অর্থাৎ গণতন্ত্রের শর্ত যদি পূরণ হতো তাহেল বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে তারা থাকতেন কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। অর্থাৎ স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মূল শর্ত ছিলো গণতন্ত্র।

তিনি বলেন, আজকের সরকার জনগণের সঙ্গে তাদের বিচ্ছিন্নতা বুঝতে পেরে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামরত অগ্রগণ্য ব্যক্তিদের বেছে বেছে গুম ও খুন করছে। তাদের একটাই লক্ষ্য ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা। কিন্তু জনগণ যদি দ্রোহী হয়ে ওঠে, সেই দ্রোহ মোকাবেলা করে ক্ষমতায় থাকা এ সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, জিয়াউর রহমান সংবিধানের আল্লাহ’র নাম সংযোজন করেছিলেন। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেটি মুছে দিয়েছে। সুতরাং, এটা খুবই স্বাভাবিক, এ সরকারের মন্ত্রীরা ইসলামের পাঁচ মূলস্তম্ভের অন্যতম হজ নিয়ে কটূক্তি করবেন।

তিনি বলেন, হযরত মোহম্মদ (স.), তাবলিগ ও হজ নিয়ে কটূক্তি করায় কেবল আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে পদত্যাগ করলে হবে না। পুরো সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। কারণ, লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে মিছিল করার সময় পুলিশ দিয়ে গুলি চালিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, লতিফ সিদ্দিকীর প্রতি তাদের সমর্থন আছে।