সরকার উৎখাতের মহাষড়যন্ত্রে লিপ্ত জামায়াত

প্রকাশ:| রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৭:৪৯ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে যথাযথ মর্যাদায় একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনোপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সূচনা বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়ক লেখক-সাংবাদিক শওকত বাঙালি বলেছেন, ’৭১-এর গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং জামাত-শিবির চক্রের মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক রাজনীতি নিষিদ্ধকরণের দাবিতে ১৯৯২-এর ১৯ জানুয়ারি শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’।

তিনি বলেন, অনেক সীমাবদ্ধতার ভেতর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চলমান থাকলেও এই বিচার বানচালের জন্য, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষ শক্তিকে সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উৎখাত করে ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ এবং বাংলাদেশকে মোল্লা উমরের আফগানিস্তান বা জিয়াউল হকের পাকিস্তান বানাবার জন্য জামাতে ইসলামী এবং তাদের সহযোগীরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। দেশে-বিদেশে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করে তারা সরকার উৎখাতের যে মহাষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে এই মুহূর্তে দেশ ও জাতির জন্য সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়। জামাতের সহযোগিতায় আল কায়দা ও আইএস-এর নেটওয়ার্ক বাংলাদেশে বি¯তৃত হচ্ছে। বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং মুক্তিযুদ্ধের যাবতীয় অর্জন আজ দেশী-বিদেশী এই হুমকির সম্মুখীন হয়েছে, যা শুধু নির্মূল কমিটির নয়-সমগ্র জাতির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তিকে একাত্তরের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান তিনি।

আগামী ৫ ফেব্র“য়ারি চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে নির্মূল কমিটির ২৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনোপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা শওকত বাঙালি এসব কথা বলেন।

গতকাল ৩১ জানুয়ারি ’১৫ সন্ধ্যা ৭টায় মোমিন রোডস্থ বঙ্গবন্ধু ভবনে ‘চট্টলবন্ধু এসএম জামাল উদ্দিন মিলনায়তনে’ আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডভোকেট সীমান্ত তালুকদার। জাতীয় পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম জেলা নেতা মো. জোবায়েরের সঞ্চালনে অন্যদের মধ্যে অভিমত ব্যক্ত করেন শহীদ মুরিদুল আলমের সন্তান নির্মূল কমিটির জেলা নেতা তরুণ রাজনীতিক মাহবুবুর রহমান শিবলী, সাবেক ছাত্রনেতা বেলাল মোহাম্মদ নূরী, আবু সাদাত মো. সায়েম, মো. সেলিম হোসেন চৌধুরী, সাব্বির হোসাইন, সন্তোষ নন্দী, আবু ছালেহ বাপ্পি, মো. আবু তালেব হায়দার, শেখ মো. সাদেকুল হাদী, অসিত বরণ বিশ্বাস, কামাল উদ্দীন চৌহানী, রিফাতুর রহমান, মো. ইলিয়াছ মিয়া, রোকনুজ্জামান মুন্না, দিপু বড়–য়া, বাবলু আচার্য্য শ্রাবণ, রিহান পারভেজ চৌধুরী, তাসরিফুল ইসলাম জিল্লু, জিয়া হোসাইন চৌধুরী, ইয়াছিন চৌধুরী জনি প্রমুখ।

সভায় আগামী ৫ ফেব্র“য়ারি, সোমবার সকাল ১১টায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনে ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে (মরণোত্তরসহ) সম্মাননা জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।


আরোও সংবাদ