সরকারের ‘সম্মতিতে’ চলছে মানবপাচার: রামরু

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ জুন , ২০১৫ সময় ০৯:২৯ অপরাহ্ণ

থাইল্যান্ডে গণকবরপ্রবাসী আয়ের জন্য সরকার মানবপাচারে নীরব সম্মতি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক গবেষণা সংস্থা রামরুর চেয়ারপারসন অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী

রোববার রাজধানীতে এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, মানবপাচার ঠেকাতে সরকার ছাড়া অন্য সবাই দায়িত্ব পালন করছে। এ বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে বিভিন্ন সময়ে সতর্ক করা হলেও গুরুত্ব দেয়নি সরকার।

“তারা বলেই ফেলেছেন যাক না, রেমিটেন্স তো আসবে। কিছু মরলেও কিছু তো বাঁচবে। তারা রেমিটেন্স পাঠাবে- এটা তাদের নীরব সম্মতি।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘মানবপাচার: বাংলাদেশের প্রস্তুতি’ শীর্ষক আলোচনার আয়োজন করে সেন্টার ফর নন রেসিডেন্ট বাংলাদেশিজ।

রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের পরিচালক তাসনিম বলেন, “স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ বিদেশ যাচ্ছে না। তাদের লোভ দেখিয়ে, ‘ব্রেইনওয়াশ’ করে পাঠানো হচ্ছে।”

মানবপাচারের সঙ্গে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা জড়িত মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এদের নামও চলে এসেছে। এরা রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট দিচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও এদের তালিকা করেছে। কিন্তু সরকারই আবার তাদের রক্ষা করছে।

“মানবপাচারের জন্য থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়া ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রসফায়ার করছে নিম্ন পর্যায়ের দালালদের।”

আইনের ‘ফাঁক-ফোকর’ থাকায় মানবপাচারকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এই অধ্যাপক।

“আমাদের আইনেও ঝামেলা রয়েছে। কথা হচ্ছে, কোন আইনে ব্যবস্থা নেবেন? এক আইনে ধরা হচ্ছে, আবার অন্য আইনে তাদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার ইচ্ছে করেই এসব অপরাধ অজামিনযোগ্য করা হচ্ছে না।”

লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের সাবেক কাউন্সিল চেয়ারপারসন শাহজাহান খাদেম বলেন, মানবপাচার রোধে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। যে বিদেশিরা এসব অপরাধে জড়িত তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।

এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চেয়ারপারসন শাকিল চৌধুরী ও মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর।