সরকারের বিরুদ্ধে গেলেই রাজাকার

প্রকাশ:| বুধবার, ২ মার্চ , ২০১৬ সময় ১১:৪৩ অপরাহ্ণ

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ‘দেশে প্রত্যেকের মুখে এখন তালা দিয়ে দেয়া হয়েছে। কোনো বক্তব্য সরকারের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে রাজাকার বলা হচ্ছে। আর দেয়া হচ্ছে রাষ্ট্রদ্রোহীতার মামলা।’

২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে বুধবার বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় রব এসব কথা বলেন।

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না উল্লেখ্য করে রব বলেন, ‘বিগত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে যায়নি। আর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট দিতেই পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘এখন কারো পক্ষে ভোট থাকলেই পরাজিত হতে হবে। আর ভোট না থাকলেও জয়লাভ হয়ে যায় আপনা আপনি থেকে।’

রব বলেন, ‘ব্রিটিশ উপনিবেশিক শক্তির সরাসরি বিরোধীতায় গত ২০০ বছরে বিপ্লবী ধারার ভিত্তিতে দেশজ উপাদান সংযুক্ত করে জনগণের অংশিদারিত্ব দিয়ে দ্বিতীয় ধারায় গণমুখী রাজনীতির মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গঠন করতে হবে। আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি-জামায়াতের রাজনীতির একই ধারা-যা যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চর্চা করে, উপনিবেশিক শাসন বা আইন দিয়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বা স্বাধীনতা উপযোগী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করা সম্ভব হবে না।’

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘এখন বিচারের বাণী নিভৃতে কাঁদে। জাতি এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতেই মুক্তিযুদ্ধ করেছে। কিন্তু এখনো জাতির মুক্তি আসেনি।’

তিনি বলেন, ‘১/১১ এ জাতির স্রষ্টাদের অপমান করা হয়েছিল। তাদের বিচার করতেই হবে। কারা সেদিন রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিল।’

জেএসডি সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘১/১১ কে নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে পড়বে। অতএব তা না করে ১/১১ সৃষ্টির মতো রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাতে দেশে সৃষ্টি না হয় তার জন্য সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলকে সতর্ক থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সিরাজুল আলম খানের অবদান, তার সৃষ্ট স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস, বিএলএফ এর ভূমিকা, ২ মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন ও ৩ মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠসহ ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ও ঘটনাগুলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি না দেয়া এক দিকে যেমন ইতিহাসের বিকৃতি অন্যদিকে তা স্বাধীনতার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুকে খাটো করার অপচেষ্টার সামিল।’

২ মার্চ পতাকা উত্তোলন উদ্‌যাপন পরিষদের আহ্বায়ক গীতিকবি শহীদল্লাহ ফরায়জীর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এসএম আকরাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ।