‘সরকারের ইঙ্গিতেই সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত বদল’

প্রকাশ:| শনিবার, ২৫ এপ্রিল , ২০১৫ সময় ১০:৫৩ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের বিএনপির একজন সিনিয়র নেতা আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন সরকারের ইঙ্গিতেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশন তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন।

বিবিসি বাংলা সংলাপআজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত বিবিসির বাংলাদেশ সংলাপে মিঃ নোমান আরও বলেন, নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটারদের মধ্যে সাহস তৈরি হয়। তবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত আওয়ামী লীগ নেতা হাসান মাহমুদ সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরিবর্তিত সিদ্ধান্তকে তিনি সমর্থন করেছেন।

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রওশন সোমা বলেন “তাঁকে আমরা কখনই ঝুঁকির মুখে ফেলে দিতে পারি না, সবার নিরাপত্তার দায়িত্ব যেমন সরকারের, তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বও সরকারের।” তিনি বলেন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার সুযোগ সরকারের নেই।

একজন দর্শক মন্তব্য করেন, “সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে যে খালেদা জিয়াকে রাস্তায় দেখলে জনগণের মেজাজ খারাপ হতে পারে। তার মানে কি সরকার এ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে উৎসাহিত করছে?”

অভিযোগ উঠেছে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে যারা আক্রমণের সাথে জড়িত তারা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী। এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেন খালেদা জিয়ার গাড়িবহর থেকে আগে গুলি ছোড়ার অভিযোগ করেন। মিঃ মাহমুদ আরও উল্লেখ করেন “কয়েকশ মানুষ যখন আক্রমণ করে বা বিক্ষোভ প্রদর্শন করে, সেখানে দুএকজন রাজনীতির মানুষ থাকতেই পারে।”

সংলাপে আরেকজন দর্শক প্রশ্ন করেন “সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়ে একদিন পরেই তাতে পরিবর্তন আনায় অভিযোগ উঠেছে যে নির্বাচন কমিশন সরকারের দিকে তাকিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়। এই অভিযোগের কোন ভিত্তি আছে?”

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল নোমান এ প্রসঙ্গে বলেন সরকারের ইঙ্গিতেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন নিয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। মিঃ নোমান বলেন নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনী মাঠে থাকলে ভোটারদের মানসিকভাবে সাহস যোগাবে।

তিনি আরও বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ক্যান্টনমেন্টে খবর দেবে যে আপনারা (সেনাবাহিনী) আসেন, এটা কি বাস্তবসম্মত?

এ প্রসঙ্গে হাসান মাহমুদ বলেন নির্বাচনের সময় সেনাবাহিনীকে কিভাবে মোতায়েন রাখা হবে সে বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। এখানে সরকারের কোন ভূমিকা নেই।

অনুষ্ঠানে আরও আলোচনা হয় চট্টগ্রামে একটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মান এবং তার সাথে বর্তমান বন্দরের গুরুত্ব হারানো প্রসঙ্গে।

আরেকটি গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের বিষয়ে প্যানেলিস্ট এবং দর্শকরা সবাই একমত পোষণ করেন। এ বিষয়ে নারী উদ্যোক্তা ও চট্টগ্রাম ওমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির ভাইস প্রেসিডেন্ট আইভি হাসান বলেন গভীর সমুদ্র বন্দর হলে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। তিনি বলেন যে বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের উপর পন্য আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে অনেক চাপ রয়েছে। আরও একটি গভীর সমুদ্র বন্দর হলে সেটি দেশের অর্থনীতির জন্য ভালো হবে।


আরোও সংবাদ