সরকারী বাড়ী দেওয়ার নামে টাকা আত্নসাতের অভিযোগ

প্রকাশ:| রবিবার, ১৯ জুন , ২০১৬ সময় ১০:২২ অপরাহ্ণ

কায়সার হামিদ মানিক, উখিয়া :
সবার জন্য বাসস্থন নিশ্চিত করার লক্ষে গৃহহীনদের তালিকা প্রণয়নকালে সংশ্লিষ্টরা নিরহ লোকজনের নিকট থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে কোন মানুষ গৃহহীন থাকবেনা মর্মে ইতিমধ্যেই ঘোষনা করেছেন। উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য এবং সবার জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করার লক্ষে গৃহহীন পরিবার সমূহ চিহ্নিত করা দরকার। এ জন্য প্রকাশ্যে জনগনের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকা প্রনয়ন করার জন্য ৫ টি ইউনিয়নে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। জানা গেছে, রাজাপালং ইউনিয়নে বাছাই কমিটির আহবায়ক উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা কবির আহম্মদ, সদস্য চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরী, সদস্য উখিয়া মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মৌলভী হারুনুর রশিদ। পালংখালী ইউনিয়নের আহবায়ক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শরিফুল ইসরাম, সদস্য চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন, সদস্য থাইংখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক আব্দুল মাজেদ। রতœাপালং ইউনিয়নের আহবায়ক উপজেলা পল্লিউন্নয়ন কর্মকর্তা কনক রুদ্র, সদস্য চেয়ারম্যান নুরুল কবির চৌধুরী, সদস্য রতœাপালং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু নোমান চৌধুরী। হলদিয়াপালং ইউনিয়নের আহবায়ক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ভুইয়া, সদস্য চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মিন্টু, মরিচ্যা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জহিরুল ইসলাম। জালিয়াপালং ইউনিয়নের আহবায়ক উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সৌকত হোসেন, সদস্য চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সদস্য সোনাইছড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল আবছার। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় বরাবরে একটি পরিপত্র প্রেরণ করিলে এ সূত্র ধরে স্বারক নংÑ ০৫.২০.২২৯৪.০০০.১২৭.০১৮.২০১৬Ñ৪১৭ স্বারকমূলে সংশ্লিষ্ট কমিটির নিকট একটি পত্র প্রেরণ করেন উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, আশ্রয়নÑ ২, প্রকল্প, তেজগাও, ঢাকার স্বারক নংÑ ০৩.৭০৩. ০১৪.০০.০০.১৩৩২.২০১৬Ñ ৮৮.তারিখঃ ৩/৫/২০১৬ মূলে উখিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে একটি পরিপত্র প্রেরণ করেন। গঠিত কমিটি কতৃক একটি নিদৃষ্ট ধার্যকৃত দিনে ৩০ মে ২০১৬ উন্মুক্ত স্থানে সকল উপকার ভোগীদের উপস্থিতিতে গৃহহীন পরিবার চিহ্নিত করে সংযোক্ত ছক মোতাবেক গৃহহীন পরিবারের ডাটা সংগ্রহ তালিখা প্রস্তুত করবে। প্রস্তুতকৃত সকল ছক সহ তালিখা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাখিল করতে হবে। বাছাইয়ের বিষয়ে ব্যাপক প্রচারনা করতে হবে এবং সকল ওয়ার্ড মেম্বার, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতে সম্পূর্ণ করতে হবে। গৃহহীন বলতে যার কোন জমি ও ঘর নেই তাকে বুঝাবে। তাকে আশ্রয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যারাকে পূর্ণবাসন করা হবে। যার ১.১০ শতাংশ জমি আছে কিন্তু ঘর নেই, অথবা ঝড়াজীর্ণ ঘরে বসবাস করে তাকে বুঝাবে। তাকে তার নিজ জমিতে ঘর নির্মান করে দেওয়া হবে। এ ছাড়াও যার কোন জমি নেই কমপক্ষে ১ শতাংশ জমি দান সূত্রে অথবা অন্য কোন ভাবে প্রাপ্ত হলে তাকে বুঝাবে। তাকে তার প্রাপ্ত জমিতে ঘর নির্মান করে দেওয়া হবে। এমন প্রকল্প সরকার হাতে নিলেও ফরম পূরণকালে জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক চারা বটতলী এলাকার ফারুক মৌলভীর ছেলে মোঃ শাহ জাহান, ইনানী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক শামশুল আলম ও স্কলের দপ্তরী সাইফুল ইসলাম হতদরিদ্র ঘর বাড়ি হারা লোকজনদের নিকট থেকে ফরম পূরনের নামে জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে গ্রহন করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অভিযুক্তরা অস্বীকার করেছে। ৬ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য ছলিমুল্লাহ মেম্বার জানান, অভিযোক্ত ব্যক্তিরা জনপ্রতি ৫০০ টাকা করে একটি বাড়ী একটি খামার দেওয়ার কথা বলে আদায় করেছে। এ ছাড়াও অনেকের নিকট থেকে বাড়ী ঘর দেওয়ার কথা বলে অর্থ আদায় করেছে বলে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন কমিটি গঠন করে দেওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, এখনো গৃহহীন মানুষের তালিকা উপজেলায় পৌছে নিই। কেউ যদি বাড়ী দেওয়ার কথা বলে টাকা নেয় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।