সরকারী চাল সরবরাহে মিল মালিকদের কারসাজি

প্রকাশ:| সোমবার, ২৪ আগস্ট , ২০১৫ সময় ০৯:২১ অপরাহ্ণ

নিম্নমানের চালে ভরে যাচ্ছে চকরিয়ার খাদ্যগুদাম
চালের বস্তা
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া
খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহে নানা অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে পেকুয়ার দুই রাইচ মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। রাতের আধারে নিুমানের চাল ট্রাক ভর্তি করে পেকুয়ার দুই রাইচ মিল থেকে চকরিয়া খাদ্য গুদামে নিয়ে রাখা হচ্ছে। আর তা জেনেও না দেখার ভান করে আছে চকরিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিক ও খাদ্য বিভাগের অন্যান্য কর্তা বাবুরা! পেকুয়া থেকে চকরিয়া খাদ্যগুদামে সরবরাহ করা চালগুলোর মাননিয়ন্ত্রনের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর দাবী উঠেছে।

সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, সারা দেশের ন্যায় চলতি বোরো মওসুমে সরকারের খাদ্য অধিদপ্তরের অধীনে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আওতায় পেকুয়া উপজেলা থেকে ৩৫৪ মে.টন চাল (যার প্রতি কেজি ৩১ টাকা ধরে) চকরিয়া খাদ্য গুদামে সরবরাহ করার জন্য চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে সরকারের সাথে পেকুয়া বাজারের মেসার্স আলাউল রাইস মিল ও মিনার অটো রাইস মিলের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। মেসার্স আলাউল রাইস মিলের সত্ত্বাধিকারী হলেন স্থানীয় জামায়াত নেতা ও কক্সবাজার জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি দিদারুল ইসলামের পিতা মাওলানা আমিনুল হক। আর মিনার অটো রাইস মিলের সত্ত্বাধিকারী হলেন, পেকুয়া জমিদার বাড়ীর আলহাজ্ব জাকের হোসেন চৌধুরী।

ইতিমধ্যেই ওই দুই রাইস মিল থেকে ২৮০ মে.টন নিুমানের চাল চকরিয়া খাদ্য গুদামে সরবরাহ করে বিলও উত্তোলন করে নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মিলাররা। বাকী ৭৪টন চাল এখনো সরবরাহ করা হয়নি। আর পেকুয়ার দুই রাইস মিল থেকে নিুমানের চাল সরবরাহ করা হলেও রহস্যজনক কারণে নিরব রয়েছে সংশ্লিষ্ট খাদ্য বিভাগ। পেকুয়া থেকে সরবরাহ করা চাল মাননিয়ন্ত্রণের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানোর জোর দাবী তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

তবে পেকুয়ার আলাউল রাইস মিলের মালিক জামায়াত নেতা মাওলানা আমিনুল হক তার মিল থেকে চকরিয়া খাদ্য গুদামে নিুমানের চাল সরবরাহের অভিযোগটি সরারসি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, চুক্তি অনুসারেই উন্নত মানের চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম করা হয়নি।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পেকুয়ায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা চকরিয়া উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও চকরিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিকের সাথে গোপনে আঁতাত করে পেকুয়া আলাউল রাইস মিলের মালিক জামায়াত নেতা আমিনুল হক ও মিনার রাইস মিলের মালিক খাদ্য গুদামে নিুমানের চাল সরবরাহ করেছে।

চকরিয়া খাদ্য গুদামে চাল সরবরাহের জন্য সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ পেকুয়া বাজারের মেসার্স আলাউল রাইস মিলে গত কয়েক দিন পূর্বে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বি-বাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জের একটি চালের আড়ত থেকে নিু মানের চাল এনে গুদাম ভর্তি করে রাখা হয়েছে। আর বস্তা পাল্টিয়ে আশুগঞ্জ থেকে আনা মিুমানের চালই রাতের আধারে চকরিয়া খাদ্য গুদামে ১৪০ মে.টন চাল সরবরাহ করা হয়েছে কিনা তা খাদ্য বিভাগের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের তদন্ত করা দেখা দরকার অপরদিকে মিনার অটো রাইস মিলে থেকেও অভিন্নভাবে ১৪০ মে.টন নিুমানের চাল খাদ্য গুদামে সরবরাহ করা হয়েছে বলে গোপন সূত্রে জানা গেছে। এ ব্যাপারে জানার জন্য মিনার রাইস মিলের মালিক জাকের হোসেন চৌধুরীর সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

খোঁজ নিয়ে আরো জানা গেছে, আশুগঞ্জ থেকে ২০-২২টাকা কেজি ধরে চাল ক্রয় করে পেকুয়ার ওই দুই রাইস মিল মালিক সরকারের কাছ থেকে প্রতি কেজি ৩১টাকা গ্রহণ করে চাল সরবরাহের নামে চরম কারসাজিতে মেতে উঠেছে। এতে সরকারের খাদ্য বিভাগ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও লাভবান হচ্ছে অসাধু মিলাররা। চাল সরবরাহে মাঠ পর্যায়ে খাদ্য বিভাগের সুষ্টু ও যথাযথ তদারকীর অভাবে নিুমানের চাল সরবাহ করে সরকারের বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন কথিত রাইস মিলগুলোর কালোবাজারিরা।

এ ব্যাপারে জানার জন্য চকরিয়া খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু বক্কর ছিদ্দিকের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পেকুয়ার দুই রাইস মিলের মালিকের সাথে তিনি কোন ধরনের আতাত করেননি। নিুমানের চাল সরবরাহ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিুমানের চাল সরবাহের অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারী দিয়েছেন খাদ্য বিভাগের ওই কর্মকর্তা।