সরকারী অনু্ষ্ঠানে মেয়াদত্তেীর্ণ মিনারেল ওয়াটারসহ খাদ্য সামগ্রী

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ২৪ জুন , ২০১৪ সময় ০৯:২৪ অপরাহ্ণ

সরবরাহের অভিযোগ পেকুয়ায় ‘বনফুল’ এর বিরুদ্ধে
মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন/ মো: ফারুক, পেকুয়া থেকে
সরকারী অনুষ্টানে মেয়াদত্তেীর্ণ মিনারেল ওয়াটারসহ খাদ্য সামগ্রীকক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা সদরের চৌমুহুনী ষ্টেশনের অভিজাত মিষ্টি বিপনী ‘বনফুল মিষ্টির’ দোকান থেকে সরকারী অনুষ্টানে মেয়াদোত্তীর্ণ প্রাণ কোম্পানির মিনারেল ওয়াটার সরবরাহের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে মেয়াদোর্ত্তীন মিনারেল ওয়াটার পান করে সরকারী অনুষ্টানে আমন্ত্রিত অনেক অতিথি, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বনফুলের ওই শাখায় জরুরী ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান দাবী করে শিলগালা করে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন।

প্রাপ্ত অভিযোগে জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার (২৪ জুন) পেকুয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যেগে বিকাল ৩টার দিকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে তিন দিন ব্যাপী ফলদ ও বৃক্ষ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্টান শেষে আমন্ত্রিত অতিথি, সাংবাদিক ও কৃষকদের মাঝে বনফুল কোম্পানির পেকুয়া শাখা থেকে ক্রয় করা পঁচা-বাসি চমুছা, মিষ্টি ও কেকসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়। সাথে বনফুল থেকে কৃষি অফিসের ক্রয় করা প্রায় ৫০টি ৬‘শ মিলিগ্রামের প্রাণ কোম্পানির মিনারেল ওয়াটারও পান করার জন্য দেওয়া হয়। মিনারেল ওয়াটার খেয়ে অনুষ্টানস্থলে অনেকেই অসুস্থ বোধ করলে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। পরে বনফুলের সরবরাহ করা প্রাণ কোম্পানির মিনারেল ওয়াটারের বোতল পরীক্ষা করে দেখা হয়। দেখা গেছে, বনফুল পেকুয়া শাখা থেকে সরবরাহ করা প্রাণ পানির বোতলে উৎপাদনের তারিখ উল্লেখ আছে ২৩/১১/২০১০ ইংরেজী। আর মেয়াদত্তেীর্ণের তারিখ লেখা আছে ২২/১১/১১ ইংরেজী। মেয়াদোত্তীর্ণ পানি সরবরাহ করায় বনফুলের পেকুয়া শাখার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সরকারী কর্মকর্তা ও কৃষকরা।

এদিকে সরকারী অনুষ্টানে ভেজাল পানি সরবরাহকারী বনফুল পেকুয়া শাখার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড: একেএম নাজমুল হক। তিনি বলেন, সরকারী অনুষ্টানের মতো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্টানে মুনাফালোভী বনফুলের পেকুয়া শাখা জনস্বাস্থ্যর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গুরুতর অন্যায় করেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পেকুয়া চৌমুহুনী ষ্টেশনের প্রধান সড়কে দীর্ঘদিন ধরে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে দোকানের সামনে বনফুল কোম্পানির বিশাল সাইনবোর্ড় টাঙ্গিয়ে সাতকানিয়া এলাকার জামায়াত-শিবিরের দূর্ধর্ষ ক্যাডার মহিউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি বিভিন্ন কনফেকশনারীর ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বেপরোয়াভাবে বিক্রি করেই যাচ্ছে। আর তার মিষ্টির দোকানের বিভিন্ন খাবার সামগ্রী খেয়ে অনেকেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের সাথে প্রতারণা করে ভেজাল খাদ্য সামগ্রী দেদারসে বিক্রি করলেও স্থানীয় প্রশাসন ওই মুনাফালোভী ব্যবসায়ী মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে কোন ধরনের আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে সরাসরি বনফুল পেকুয়া শাখার মালিক সাতকানিয়ার বাসিন্দা মহিউদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ‘ কৃষি অফিস তার দোকান দোকান আজ মঙ্গলবার বিভিন্ন খাবার সামগ্রীর সাথে প্রাণ কোম্পানির বোতলজাত মিনারেল ওয়াটার ক্রয় করেছেন। বোতলজাত পানি মেয়াদত্তেীর্ণ হয়েছে কিনা তা না দেখেই বিক্রি করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি এক পর্যায়ে প্রাণ কোম্পানির বোতলজাত পানি তার দোকান থেকে ক্রয় করা হয়নি বলে দাবী করেছেন।

এদিকে স্থানীয়রা দাবী করেছেন, দীর্ঘ ৭/৮ বছর ধরে বহুজাতিক কোম্পানি প্রাণের এজেন্ট হিসেবে ওই মহিউদ্দিন পেকুয়ায় ভেজাল পণ্যের রমরমা অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের দায়িত্বে থাকা মীর শওকত হোসেন জানান, ভেজাল খাবার সামগ্রী বিতরণের সাথে জড়িত কোন অসাধু ব্যবসায়ীকে ছাড় দেওয়া হবেনা। তিনি ভেজাল প্রতিরোধে শিগগিরই ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করবেন বলে জানিয়েছেন।


আরোও সংবাদ