সরকারি ভাতার সংখ্যা কমাতে চান মুহিত

প্রকাশ:| বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন , ২০১৫ সময় ১১:১৬ অপরাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতার সংখ্যা কমানো উচিৎ বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ইচ্ছে ছিল সরকারি, আধা-সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা। এত্ত ভাতা আছে আমাদের! এগুলো রাইটের মতো হয়ে গেছে, হাত দেয়া যায় না। আমি বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াত ও আপ্যায়ন ছাড়া অন্য সব ভাতা উঠিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।’

বেতন ও চাকরি কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে গত ১৩ মে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার এবং সর্বনিম্ন ৮ হাজার ২৫০ টাকা মূল বেতন ধরে বেতন কাঠামো সুপারিশ করে সচিব কমিটি। এখন অর্থমন্ত্রণালয় সচিব কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি চূড়ান্তে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করবে।

সপ্তম পে-কশিনের প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পর্যালোচনার পর একটি মন্ত্রিসভা কমিটি হয়েছিল । এবার এধরনের কমিটি হবে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি অর্থমন্ত্রী।
মুহিত জানান, আগামী মাসের মধ্যে পে-কমিশনের প্রতিবেদন চূড়ান্ত করা হবে। যখনই এটা চূড়ান্ত হোক না কেন জুলাই থেকেই কার্যকর হবে।

স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মুহিত বলেন, পাঁচ বছর পর পর পে-স্কেল ঘোষণার বিষয়টি এবারই শেষ। একটা স্থায়ী পে-কমিশন গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। এতে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সমন্বয় হবে।

এদিকে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন অর্থমন্ত্রীর কাছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানান।

তারা অর্থমন্ত্রীর কাছে বৈষম্য দূরীকরণসহ চার দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি দেন। এ বিষয়ে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা হতাশ। দাবি বাস্তবায়িত না হলে আন্দোলন কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন তারা।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের দাবিগুলো নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামালসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।