সরকারি দলের কারসাজিতে গণতন্ত্র নির্বাসিত

নিউজচিটাগাং২৪/ এক্স প্রকাশ:| বুধবার, ৩০ মে , ২০১৮ সময় ১০:১০ অপরাহ্ণ

সরকারী দলের কারসাজিতে গণতন্ত্র নির্বাসিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার বেগম জিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভয় পায়। তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পুলিশ দলে পরিণত হয়েছে। তাদের কারসাজিতে গণতন্ত্র নির্বাসিত।

বুধবার (৩০ মে) সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নগর বিএনপির আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, গণতন্ত্র যেখানে বন্দি, সেখানে নির্বাচনের প্রশ্নই আসে না। খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। কেউ যদি ভেবে থাকেন, সাজানো প্রশাসন ও পুলিশ দিয়ে আরেকটি ৫ জানুয়ারি মার্কা নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করবেন, সেটা ভুল করবেন। দেশের মানুষ তা কখনও হতে দিবে না। বেগম জিয়াকে আইনী লড়াইয়ে মুক্ত করা যাবে না, আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশ গভীর সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। অচিরেই এ অনির্বাচিত সরকারকে হঠিয়ে দেশকে রক্ষা করতে হবে। ক্ষমতায় ঠিকে থাকতে অবৈধ সরকার যা ইচ্ছে তাই করছে। একেক সময় একেক নাটক মঞ্চস্থ করছে। জনগণ এ নাটক বুঝে গেছে। তাই সবাই বিএনপির কাতারে সামিল হয়েছে।

ইফতার মাহফিলে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেনের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও বক্তব্য রাখেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ২০ দলীয় জোটের শরীক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ইব্রাহিম বলেন, কোন স্বৈরাচারী সরকারের পতন আন্দোলন ছাড়া হয়নি। আন্দোলন শুরু করলে, গণঅভ্যুত্থান হয়ে যাবে। জনগণই রাস্তায় নেমে এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাবে।

সভাপতির বক্তব্যে নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বেগম জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম করে গেছেন। কোনো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি আপোস করেননি। বর্তমান ক্ষমতাশীনরা বিগত ১১ বছর ধরে শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল বিএনপিকে ভাঙার নানামূখী ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছে। তাতে সফল না হয়ে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় সাজা দিয়ে বেগম জিয়াকে কারাগারে পাঠিয়ে বিএনপিকে দুর্বল ও নেতৃত্ব শূন্য করে আর একটি প্রহসনের নির্বাচন করতে চায়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, সরকারবিরোধী পক্ষকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে সরকার। তাই রাজনৈতিক দলগুলোর সভা সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে। বিএনপিসহ বিরোধী দলের সভা সমাবেশের কর্মসূচি দিলেই সরকার ভীত হয়ে ওঠে। তাই পতনের আগে সরকারবিরোধী দলের ওপর মরণ কামড় দিচ্ছে। শেষ চেষ্টা করছে নিজেদের অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে।

নগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল ইসলামের যৌথ সঞ্চালনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দিন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক হারুনুর রশিদ, জালাল উদ্দিন মজুমদার, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, নগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি আবু সুফিয়ান।

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চবি শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ, নগর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, নগর বিএনপির সহ সভাপতি এম এ আজিজ, মো. মিয়া ভোলা, সবুক্তগীন সিদ্দিকী মক্কী, শেখ মহিউদ্দিন, এনামুল হক এনাম, এম এ হালিম, ইসহাক কাদের চৌধুরী, নাজিমুর রহমান, সৈয়দ আহমদ, হারুন জামান, মাহবুব আলম, মনিরুল ইসলাম ইউসুফ, শফিকুর রহমান স্বপন, মোহাম্মদ বাবর মিয়া, জাহেদুর করিম কচি, নবাব খান, শেখ নুরুল্লা বাহার, ২০ দলীয় জোট নেতা অধ্যাপক নুরুল আমিন, মুক্তিযোদ্ধা মো. ইলিয়াছ, আবদুর রহমান, ওসমান গণি সিকদার, আবু মোজাফ্ফর মো. আনাছ, আলাউদ্দিন আলী, আনোয়ার সাদেক, যুগ্ম সম্পাদক কাজী বেলাল উদ্দিন, ইসকান্দর মির্জা, আর ইউ চৌধুরী শাহীন, আবদুল মন্নান, জাহাঙ্গির আলম দুলাল, আনোয়ার হোসেন লিপু, আবুল হাসেম, ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, ডা. খুরশিদ জামিল চৌধুরী, গাজী মো. সিরাজউল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মনজুর আলম মঞ্জু, প্রচার সম্পাদক শিহাব উদ্দিন মবিন প্রমুখ।