সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না-খালেদা জিয়া

প্রকাশ:| সোমবার, ২০ অক্টোবর , ২০১৪ সময় ১১:৫২ অপরাহ্ণ

সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। বলেছেন, ৫ই জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর আমরা আন্দোলন করিনি। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের জন্য অপেক্ষা করেছি। সরকারকে ১০ মাস সময় দিয়েছি। কিন্তু আর নয়। খালেদা জিয়াসরকার মনে করেছে- বিএনপি তো আন্দোলন করে না, নির্বাচন দেয়ার কি দরকার। খালেদা জিয়া বলেন, সরকারকে আর সময় দেয়া হবে না। আমরা জেলায় জেলায় মতবিনিময়ের মাধ্যমে ফের বৃহত্তর আন্দোলনে যাব। আন্দোলন আমাদের করতেই হবে। রাজশাহী বিভাগীয় বিএনপি সমর্থিত মেয়র, পৌর মেয়র ও উপজেলা চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মন্তব্য করেন। রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ মতবিনিময় হয়। বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের অব্যাহত খুন-গুমের ঘটনায় সরকারের কড়া সমালোচনা করেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ কথায় কথায় বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের গুম-খুন করছে। আমাদের দলের দুইজন জনপ্রিয় নেতা বারবার নির্বাচিত এমপি ইলিয়াস আলী ও কুমিল্লার সাবেক এমপি হিরুকে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে গুম করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ১১জনকে গুমের পর হত্যা করা হয়েছে। খুনের ঘটনা দেখে ফেলায় নিরপরাধ নৌকার মাঝিকেও হত্যা করা হয়েছে। তাদের হত্যা করেছে র‌্যাব। কিন্তু এ র‌্যাবের ওপরও অভিযুক্ত আছে। এ দায় সরকারকে নিতে হবে। মৃত্যুর পর আল্লাহর কাছে যেমন জবাবদিহি করতে হবে, দুনিয়াতে জনগণের কাছেও জবাবদিহি করতে হবে। খালেদা জিয়া বলেন, এরা পাক আর্মি থেকেও খারাপ হয়ে গেছে। এরশাদের থেকেও খারাপ হয়ে গেছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মানুষ এভাবে খুন করতে পারে, গুম করতে পারে? এরা কি মানুষ। এরা তো বিকৃত মস্তিষ্কের। বিকৃত মস্তিষ্কের লোক সঠিকভাবে দেশ চালাতে পারে না। আর এ বিকৃত মস্তিষ্কের কথা তো আদালতই বলেছে। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এ সরকার অবৈধ। ১৫১জন যদি বিনাভোটে নির্বাচিত হয়ে যায় তবে মানুষের ভোটাধিকার কই? তিনি বলেন, ৮৬ সালে তো আমরা হারিনি। সেদিনও আমরা আপস করিনি বলে পাতানো নির্বাচনে যাইনি। সেদিন এরশাদ ছিল, আওয়ামী লীগ ছিল, জামায়াতও ছিল। তারপরও তারা ৫ বছর সরকার চালাতে পারেনি। এরা তো অবৈধ, এরা কিভাবে চালাবে। খালেদা জিয়া বলেন, মানুষের জন্যই আমাদের আন্দোলন। আমরা আন্দোলন করবÑ মানুষের ভোটাধিকার আদায়ে, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়। দেশের উন্নয়নের জন্য আমাদের আন্দোলন। খালেদা জিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও মেয়রদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা জনগণের প্রতিনিধি তাই জনগণের কাছে যাবেন। আপনারা জনগণকে সরকারের অনিয়মের কথা বুঝাবেন। যে সময়ে আমি আন্দোলনের আহ্বান জানাব, আপনারা হাজির হবেন। আন্দোলনের মাধ্যমেই এদের বিদায় করব। খুন-গুম থেকে মানুষকে রক্ষা করব। দেশের পরিবর্তন আনব। তিনি বলেন, দেশে জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে বিদেশী বিনিয়োগ আসবে, দেশের উন্নয়ন হবে। আমরা দেখিয়ে দেবÑ আমরা পেরেছিলাম, আমরাই পারব।
এতে নির্বাচিত মেয়রদের মধ্যে- রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জয়পুরহাটের পৌর মেয়র আবদুল মান্নান, নওগাঁর মেয়র নাজমুল হক, সিরাজগঞ্জের মেয়র মোকসেদ আলী, নাটোরের সেকান্দার ইমদাদুল হক, পাবনার আমিনুল ইসলাম ও চাপাই নবাবগঞ্জের শামীম কবির, উপজেলা চেয়ারম্যানদের মধ্যে- বগুড়ার গাবতলী উপজেলা চেয়ারম্যান মুরশেদ মিল্টন, সদরের আলী আজগর হেনা, সারিয়াকান্দির মাহমুদুর রহমান, জয়পুরহাটের ফজলুর রহমান, নওগাঁর আবু বকর সিদ্দিকী, নাটোরের বড়াইগ্রামের একরামুল আলম, বাগাতীপাড়ার হাফিজুর রহমান, চৌহালীর মেজর (অব.) মামুন, রাজশাহীর পুটিয়ার আনোয়ার হোসেনসহ ৩২ জন উপজেলা চেয়রম্যান, ৫৭ জন পুরুষ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান এবং ২৫ জন পৌর মেয়র অংশ নেন। সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমান পটল, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, যুগ্ম মহাসচিব মিজানুর রহমান মিনু, সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন আর রশিদ, স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল উপস্থিত ছিলেন।