‘সময় ও সুযোগ’ চায় মিয়ানমার সরকার

প্রকাশ:| সোমবার, ২৩ জানুয়ারি , ২০১৭ সময় ১১:২৮ অপরাহ্ণ

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ‘সময় ও সুযোগ’ চায় মিয়ানমার সরকার। দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মিন্ত নিউই সরকারের পক্ষ থেকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এ আহ্বান জানান। সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের এ পরিস্থিতির সুযোগ যেন কট্টরপন্থীরা নিতে না পারে, তা নিয়েও উদ্বিগ্ন দেশটি।

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সোমবার সিঙ্গাপুরে ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ আয়োজিত নিরাপত্তাবিষয়ক এক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেইন। তাঁরই আহ্বানে সাড়া দিয়ে মিন্ত নিউই বলেন, তাঁর দেশের সরকার রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন রয়েছে। ওই রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমরা বসবাস করেন। ওই রাজ্যের সমস্যা মোকাবিলা এবং অন্যায়কারীদের শাস্তি দিতে তাঁরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

গত বছরের অক্টোবরে মিয়ানমারে সীমান্ত ফাঁড়িতে সন্ত্রাসী হামলার জেরে সেনাবাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক নিধনযজ্ঞ শুরু হয়। রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের কারণে মিয়ানমার বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পড়ে।

মিন্ত নিউই বলেন, ‘সরকার নিরপরাধ বেসামরিক জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ক্ষমা করবে না। সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

রাখাইন রাজ্যের অবস্থা নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে মালয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেইন বলেন, এ সমস্যা সমাধান না হলে এ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আইএসের উত্থান হতে পারে।

ফোরামে প্রতিনিধিদের এক প্রশ্নের জবাবে হিশামুদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যু আসিয়ান সদস্য দেশগুলোর জন্য হতে যাচ্ছে সংহতির পরীক্ষা। এর সমাধান করা প্রয়োজন। আমরা এ সমস্যাকে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখতে পারি না। এর ফলে মুসলমানরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং এটা খুবই আবেগের ব্যাপার।’

মিন্ত নিউই বলেন, ইয়াঙ্গুন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সমস্যার ‘দীর্ঘস্থায়ী সমাধান’ খোঁজার ওপর নজর দেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ‘এই জটিল ইস্যুর টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার জন্য সরকারকে সময় ও সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।’


আরোও সংবাদ