সম্মেলন ছাড়াই আ.লীগের কমিটি, নেতৃত্বে ইয়াবা ব্যবসায়ী!

প্রকাশ:| বুধবার, ৯ মার্চ , ২০১৬ সময় ০৭:৪৪ অপরাহ্ণ

লগো আওয়ামীলীগ
:: ইমরান এমি, আনোয়ারা ::

আনোয়ারা উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এসব কমিটিতে ইয়াবা ব্যবসায়ী, অশিক্ষিত, জনপ্রিয়তাহীন ও বিগত সময়ে ভোট কেন্দ্র দখলের মতো অনিয়মে জড়িতরাই স্থান করে নিয়েছেন।

গত শুক্রবার আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কাজী মোজাম্মেল হক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল মন্নান ইউনিয়ন পর্যায়ে আওয়ামীলীগের এসব কমিটি ঘোষনা করেন।

ঘোষিত কমিটিতে ১ বৈরাগ ইউনিয়নে জানে আলম বিএসসিকে সভাপতি ও  জসিম উদ্দীনকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। এছাড়া ২ নং বারশত ইউনিয়নে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে যথাক্রমে সাবের আহমদ ও মাঈনুউদ্দীন গফুর খোকনকে।

এছাড়া ৩ নং রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি হয়েছেন আমিন শরীফ ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম। ৪ নং বটতলী ইউনিয়নে মাওলানা আবু সৈয়দ, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন। ৫ নং বরুমচড়া ইউনিয়নে সভাপতি জসিম উদ্দীন আমজাদি, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সেলিম। ৬ নং বারখাইন ইউনিয়নে সভাপতি খোরশেদুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মেম্বার।

৭ নং আনোয়ারা সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ পেয়েছেন উৎপল সেন, আর জাহেদুল ইসলাম পেয়েছেন সাধারণ সম্পাদকের পদ।

৮নং চাতরী ইউনিয়নে সভাপতি নাজিম উদ্দীন, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হারুন। ৯ নং পরৈকোড়া ইউনিয়নে আজিজুল হক বাবুল, সাধারণ সম্পাদক সেলিম মামুন। ১০ নং হাইলধর ইউনিয়নে সভাপতি দিদারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ মামুন। ১১ নং জুইদন্ডী ইউনিয়নে সভাপতি আব্দুল জলিল আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দীন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের নির্দেশে হঠাৎ করেই আনোয়ারা উপজেলার আওতাধীন ১১ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি ঘোষনা করা হয়েছে।

দলটির কর্মীদের অভিযোগ, গত বছরের ডিসেম্বরে সম্মেলনের মাধ্যমে ১১টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু পরে তা পিছিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত গত শুক্রবার সম্মেলন ছাড়াই ১১ ইউনিয়নের কমিটি ঘোষনা করা হল।

অভিযোগ উঠেছে, ৩ নং রায়পুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ পাওয়া আমিন শরিফ ইয়াবা ব্যবসার সাথে যুক্ত রয়েছেন। পশ্চিম আনোয়ারায় একটি ইয়াবা ব্যবসার সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

অন্যদিকে ঘোষিত কমিটির কারো কারো বিরুদ্ধে উঠেছে অষ্টম শ্রেণীর গন্ডি না পেরোনোর অভিযোগ।

কমিটি ঘোষণার পর নানা হিসাব নিকাশ শুরু হয়েছে সচেতন মহলে। অনেকেই আচমকা কমিটি দেখে হয়েছেন বিস্মিত। ঘোষিত বেশ কয়েকটি কমিটির সভাপতি- সাধারণ সম্পাদকের জনপ্রিয়তা শুণ্যের কোটায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। কারো বিরুদ্ধে আবার কেন্দ্র দখলের অভিযোগ আছে।

এ ব্যাপারে আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল মন্নান বলেন, আমরা সম্মেলনের মাধ্যমে ইউনিয়ন কমিটি করার জন্য ইউনিয়নের কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা তাতে ব্যার্থ হয়েছে। তাই ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে মাননীয় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাইফুজ্জামান চৌধুরী এমপির নির্দেশে আমরা এ কমিটিগুলো অনুমোদন দিয়েছি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঘোষিত কমিটির কারো বিরুদ্ধে যদি ইয়াবা ব্যবসা বা অনৈতিক কোন কিছুর অভিযোগ থাকে তাহলে আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।


আরোও সংবাদ