সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত

প্রকাশ:| শুক্রবার, ১৬ ডিসেম্বর , ২০১৬ সময় ০৯:১০ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামে সম্মিলিত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছেন হাজারো নারী, পুরুষ, শিশু।  নগরীর চেরাগির মোড়ে গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে ১৯৭১ সালের বিজয়ের মাহেন্দ্র ক্ষণটিকে, পাক হানাদার বাহিনীর আত্মসমপর্নের মুহুর্তটিকে স্মরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেল ৪টা ৩১ মিনিটে সম্মিলিতভাবে সবাই যখন ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালবাসি’ গেয়ে উঠেন তখন নগরীর চেরাগি চত্বর জুড়ে ভিন্ন আবহের সৃষ্টি হয়।

উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীরা এবং খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরীর শিশুরা শুরু করেন জ‍াতীয় সঙ্গীত।  মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের সংগঠক, ‍পতাকা হাতে অংশ নেয়া সাধারণ জনতা সম্মিলিতভাবে কণ্ঠে তুলে নেন প্রাণের সেই সুর।  দেশমাতৃকার প্রতি অপরিসীম ভালবাসা, গভীর মমত্ববোধের বহি:প্রকাশ ঘটাতে গিয়ে অনেকে হয়েছেন আবেগে আপ্লুত।

‘বিশ্বব্যাপী কোটি কণ্ঠে জাতীয় সংগীত’ শীর্ষক কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন বয়সের প্রায় হাজারখানেক নরনারী অংশ নেন।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের এই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গণজাগরণ মঞ্চের সদস্য সচিব চন্দন দাশ, সমন্বয়ক শরীফ চৌহান ও সংগঠক রাশেদ হাসান।
এসময় তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার।  লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে আমরা একটি স্বদেশ পেয়েছি।  বাঙালির বিজয়ের এই মুহুর্তকে স্মরণ করতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও কোটি কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার এই আয়োজন।  আমরা চাই যুদ্ধাপরাধী ও মৌলবাদমুক্ত একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে।  মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার উত্থান রুখতে গণজাগরণ মঞ্চ গণমানুষকে নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।  যতদিন এই দেশে যুদ্ধাপরাধী থাকবে মৌলবাদ থাকবে ততদিন মঞ্চের আন্দোলন চলবেই।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের আগে ও পরে উদীচী কয়েকটি গণসংগীত পরিবেশন করে।  জাতীয় সংগীত শেষে ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চেরাগী পাহাড় চত্বর।