সম্ভাবনায় জনপদ ঈদগড়-বাইশারী: অর্থনৈতিক ভাবে বিপর্যস্থ হওয়ার আশংকা!

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ জুন , ২০১৬ সময় ১১:৪৬ অপরাহ্ণ

বাইশারী
সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও প্রতিনিধি:
পার্বত্য বান্দরবানের জনবহুল ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় জনপদ বাইশারী। দূর্ঘম জনপদ হলেও শিক্ষা-দিক্ষায় এগিয়ে থাকা বাইশারী দেশের সর্ববৃহৎ রাবার পন্য উৎপাদিত এলাকাও বটে। প্রতি মাসে বাইশারী থেকে একশ টনেরও অধিক উৎপাদিত রাবার রপ্তানি হয় শহরের নিজস্ব গোড়াউনে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের বিভিন্ন স্থানে রাস্তাঘাট ভেঙ্গে বর্তমানে উৎপাদিত রাবার শহরে নিজস্ব গোড়াউনে প্রেরণ করতে না পারার কারণে লোকসান গুনতে হচ্ছে শত শত ব্যক্তি মালিকানাধীন রাবার মালিকদের। তাছাড়া সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় অসংখ্য গর্ত। কোথাও গর্ত এমন যে যানবাহন চলার সময় কষ্টে প্রান যায় যায় অবস্থা। বর্তমানে অনেক গাড়ী মালিক নিজেদের গাড়ী গুলো সড়ক থেকে তুলে নিয়েছেন। যার প্রভাব পড়ছে পার্বত্য এলাকার অর্থনৈতিক সম্ভাবনায় জনপদ বাইশারীতে।
সরজমিনে বাইশারীর সাথে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর ও বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক ঘুরে দেখা যায়, ২০১৫ সালের ২৫ জুন থেকে ২৭ জুন এবং পহেলা সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ বন্যায় রামু উপজেলার গর্জনীয়া ইউনিয়নের থোয়াঙ্গারকাটা, বড়বিল, থিমছড়ি, জুমছড়ি সহ নানা স্থানে পাহাড়ী ঢলে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা ভেঙ্গে গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সড়কটির কিছুটা সংস্কার হলে কোন রকম ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল ও সিএনজি করে গর্জনীয়া ইউনিয়নের অর্ধলক্ষ বাসিন্দা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের ৩০ হাজারও অধিক লোক সাধারণ চলাচল করে থাকেন।
অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন বাইশারী-ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়কের ব্যাংঢেবা, বৈদ্যপাড়া, সুপারিকাটা, পানিস্যাঘোনা, ঈদগড় বাজার, পানের ছড়া ঢালা, হিমছড়ি ঢালা, গজালিয়া, ভোমারিয়া ঘোনা এলাকায় রাস্তা-কালভার্ড ভেঙে গিয়ে সড়কটি মৃত্যুকুপে পরিণত হযে বর্তমানে গাড়ী যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার উপক্রম। যাত্রীদের কিছুক্ষন গাড়ীতে, কিছুক্ষন পায়ে হেটে কাদা মাটি ডিঙিয়ে, কিছুক্ষন রিক্সায়, কিছুক্ষন আবার চাঁদা দিয়ে বাঁশের সাকু পার হয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। তাছাড়া মাল বোঝাই গাড়ী চলাচল করতে না পারায় ঈদগড়-বাইশারীতে ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেকটাই স্থবির। দুই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা বারবার এলাকা ঘুরে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা বললেও উক্ত ভাঙ্গা সড়কটির ব্যাপারে কোন ধরনের আশ্বাষ প্রদান করেননি।
সড়কের হিললাইন বাসের লাইনম্যান মোঃ সেলিম বলেন, রাস্তা যেভাবে ভেঙেছে তাতে দিনে এক থেকে দুইবার আসা যাওয়া করলে গাড়ীর যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। অনেক হিললাইন চালককে এখন এই সড়কে গাড়ী চালাতে দেখা যায় না। বাইশারী বাজারের বিশাল এন্টারপ্রাইজের মালিক জসিম উদ্দিন বলেন, রাস্তা এখন পুরোপুরি গাড়ী চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যার কারণে বর্তমানে ব্যবসায় ধ্বস নামার আশংকা করছি। যাত্রীদের অনেকেই অভিযোগের সুরে বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে সড়কটির শেষ সংস্কার হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বর্তমান সরকার উক্ত সড়কের কোথাও সংস্কার করেছে চোখে পড়েনি। সাধারন যাত্রী থেকে শুরু করে গাড়ী মালিক-চালকরা সড়কটির সংস্কারে সরকারের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
নাজমা খাতুন রাবার ইষ্টেটের ব্যবস্থাপক আল-আমিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বাইশারীতে উৎপাদিত রাবার গুলো প্রতি মাসের শেষের দিকে শহরের নিজস্ব গোড়াউনে প্রেরণ করা হয়। কিন্তু বর্তমানে অতিরিক্ত ঝুকি নিয়ে মাল বোঝাই গাড়ী চলাচল করলেও পুরো সড়কটি সংস্কারের অভাবে ভেঙে যাওয়ায় উৎপাদিত রাবার পন্য গাড়ী যোগে পাঠাতে দ্বিগুন খরচ হচ্ছে।
গনমাধ্যমকর্মী জাফর ইকবাল জানান, সড়কের যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তাতে সাধারন থেকে শুরু করে জটিল রোগীদের অবস্থা আরো মারাত্মক যেন রাস্তাতেই এসব রোগীরা মৃত্যুর কাছে হার মানবে। তারা আরো বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে কালভার্ড ব্রীজ ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভেঙ্গে যান চলাচল অনুপযোগী হওয়ার সুযোগটি ব্যবসায়ীরা লুপে নিচ্ছেন। তাতে বাজারে নিত্যপণ্যের জিনিষের দাম বেড়ে সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে।
বাইশারী ও ঈদগড় বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন পন্যের দাম বেড়ে সাধারন ক্রেতাদের নাগালের বাহিরে চলে যাচ্ছে। রাস্তার ভাঙ্গার অযুহাত দেখিয়ে এক দোকানের সাথে অন্য দোকানের বাজার দর মিল নেই এবং পন্যের মূল্য তালিকা ক্রেতাদের সূবিধার্থে ঝুলিয়ে রাখার কথা থাকলেও ব্যবসায়ীরা এই আইন মানছেনা। যার কারণে ক্রেতারা বিভিন্ন ভাবে প্রতারনার শিকার হচ্ছেন।
বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বাহাদুর বলেন, জনসাধারণের দূর্ভোগের পাশাপাশি কৃষকেরা রয়েছে আরো হতাশায়। কারণ হিসাবে জানতে চাইলে তারা বলেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের উৎপাদিত পণ্য যোগাযোগ বন্ধ থাকায় বাজারে নিয়ে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে এবং অধিকাংশ মালামাল পঁচন ধরেছে। তিনি আরো বলেন, উক্ত সড়কটির ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেশ আন্তরিক।
ঈদগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমদ ভূট্টো জানান, তারা সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সড়কটির পুরো চিত্র তুলে ধরেছেন এবং কর্তৃপক্ষ আশ্বাষ দিয়েছেন শ্রীঘ্রই সড়কটি মেরামতের কাজ শুরু হবে।


আরোও সংবাদ