সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে তওবা করে প্রকৃত মুসলমান হওয়ার আহ্বান

প্রকাশ:| রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি , ২০১৫ সময় ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ

বর্তমান সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী মহসিন আলী সম্প্রতি বোরকা পরিহিত মেয়েরা কলেজের ছাত্রী হতে পারবে না বলে যে-ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব ও দারুল উলূম হাটহাজারীর সিনিয়র মুহাদ্দিস আল্লামা হাফেজ জুনাইদ বাবুনগরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী আজ এক যুক্তবিবৃতিতে বলেছেন, মেয়েরা হিজাব বা পর্দা করে চলবে; এটা আল্লাহর দেয়া ফরজ বিধান। পর্দার বিধান সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে অসংখ্য আয়াত নাজিল হয়েছে। মহানবী (সা.) মহিলাদের ইজ্জত ও নিরাপত্তা রক্ষায় পর্দা বা বোরকা পরে বাইরে চলাচলের নির্দেশ দিয়েছেন, কারণ তারা যেন পরপুরুষের যৌন হয়রানি ও ইভটিজিং-এর কবল থেকে নিজেদের নিরাপদ রাখতে পারে । যে আল্লাহর ফরজ বিধানকে ইচ্ছাকৃতভাবে কটাক্ষ করবে, সে কোনোভাবেই ঈমানদার হতে পারেনা।

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার নির্দেশিত এই ফরজ বিধানের বিরুদ্ধে এই ইসলামবিদ্বেষী মূর্খ সমাজকল্যাণমন্ত্রী বিভিন্ন সময় ধৃষ্টতাপূর্ণ বক্তব্য ও বিদ্বেষমূলক আচরণের মধ্যদিয়ে এদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তার এহেন ধৃষ্টতা ক্ষমা করা যায়না। পর্দা বা হিজাবের মধ্যে থেকে যেকোনো মুসলিম নারী শিক্ষা অর্জনে ও কর্মসংস্থানে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে। কিন্তু সরকারের বর্তমান সমাজকল্যাণমন্ত্রীর বক্তব্যে প্রমাণিত হয় যে, পর্দানশীন মেয়েদেরকে পর্দাহীন করে এদেশটাকে পাশ্চাত্যের অসভ্য দেশে পরিণত করার চক্রান্ত করা হচ্ছে। সরকারের মন্ত্রিপর্যায় থেকে ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ইসলামবিরোধী বক্তব্য এদেশের মুসলমানদের ক্ষুব্ধ করে তুলছে। শুধু সমাজকল্যাণমন্ত্রীই নয়, যারা ইসলামী বিধি-বিধানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রাখবে, তারা ৯২ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্রের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেনা। তাই এদেরকে অবিলম্বে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

হেফাজত নেতৃদ্বয় বলেন, আজকে ভোগবাদী দুনিয়া নারী-স্বাধীনতার নামে প্রতারণার স্লোগান তুলে নারীকে পণ্যে পরিণত করে অশ্লীল বিজ্ঞাপণের মাধ্যমে রমরমা ব্যবসা করছে। নারীকে মিডিয়ার পর্দায় কৃত্রিমভাবে প্রদর্শন করতে গিয়ে তার প্রকৃত স্বাভাবিক রূপ ও সৌন্দর্যকে অবজ্ঞা করা হচ্ছে। নারীর মাতৃত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নারী মাত্রই যেন এখন শোকেজের একটা পুতুল। এর ফলে ধর্ষণ, যৌনহিং¯্রতা, ব্যভিচার ইত্যাদি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের মায়ের জাতি নারীর প্রতি সম্মান-শ্রদ্ধা দিন দিন কমে আসছে। নারীদের নিরাপত্তার জায়গা সঙ্কুচিত হয়ে আসছে। সমাজে ক্রমবর্ধনশীল নারী নির্যাতন ও যৌন হয়রানি আমাদের শঙ্কিত করছে। এহেন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এবং নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন বন্ধে আল্লাহর দেয়া ফরজ বিধান পর্দা বা হিজাব মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই।

হেফাজত নেতৃদ্বয় সমাজকল্যাণমন্ত্রীকে তওবা করে প্রকৃত মুসলমান হওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় এদেশের বিক্ষুব্ধ তৌহিদি জনতার রোষানল থেকে তিনি রেহাই পাবেন না।


আরোও সংবাদ