সমন্বিত যাকাত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই সম্ভব দারিদ্র্য বিমোচন

প্রকাশ:| রবিবার, ২১ মে , ২০১৭ সময় ০৯:৪৪ অপরাহ্ণ

দারিদ্র্য বিমোচন যাকাত তহবিল গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা

যাকাতের মাল দিয়ে দরিদ্র ব্যক্তিকে বাস্তবিকই ধনী ও স্বচ্ছল বানিয়ে দেয়ার বিধানে সামাজিক চেতনায় আমাদের ক্ষুদ্রতর চিন্তা থেকে বৃহত্তর চিন্তা করতে হবে। যাকাত বিতরনে শুধুমাত্র বস্ত্র, খাদ্য ব্যবস্থা থেকে দারিদ্র্য বিমোচনে স্থায়ী ব্যবস্থার উদ্যোগ নিতে হবে। যাকাত বণ্টনকারীগণ আরো সচেতন হয়ে ধর্মীয় মূল্যবোধকে আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করলে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ যাকাতের প্রকৃত মূল্যায়ন রক্ষা করা সম্ভব। ধর্মীয় বিধানে যাকাত বণ্টন করলে সম্পদের যে স্থায়ীত্ব লাভ করে তা নিয়ে সম্পদশালীদের সচেতন হওয়ার ব্যাপক প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এতে সমাজের দারিদ্র্যতা খুব অল্প সময়ে রোধ করার অপার সুযোগ রয়েছে।
গত ২০ মে শনিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদ কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে ‘গোলটেবিল বৈঠকঃ যাকাত প্রসঙ্গ’ শীর্ষক মত বিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। শাহানশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভা-ারী (রঃ) ট্রাস্ট পরিচালিত দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (যাকাত তহবিল) এর ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠকে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বিক্ষিপ্তভাবে যাকাত আদায়ের কারণে যাকাতের মূল লক্ষ্য পূরণ হচ্ছে না। সমন্বিতভাবে যাকাত আদায় করে সুষ্ঠু বন্টন ও সদ্ব্যবহারের মাধ্যমেই দারিদ্র বিমোচন সম্ভব। আর এই লক্ষেই শাহনশাহ্ হযরত সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভা-ারী (রঃ) ট্রাস্ট ২০০৩ সাল থেকে দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (যাকাত তহবিল) কাজ করে যাচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন।
বক্তারা আরো বলেন, ইসলামের পাঁচ বিধানের মধ্যে যাতাক একটি। যাকাত দেওয়া মানে করুণা নয়। এটি গরীবের হক। করুণা করলে যাকাত আদায় হবে না। যাকাতের মৌলিকত্ব ধর্মীয় বিধান হলেও সামাজিক দায়বদ্ধতা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। সামাজিক দায়বদ্ধতার মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকান্ড সম্প্রসারিত হচ্ছে। আর যাকাত তহবিল সুনির্দিষ্ট প্রকল্পের মাধ্যমে সঠিকভাবে মনিটরিং করলে সমাজ থেকে দারিদ্র্যতা বিমোচন হবে।
যাকাত পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি লায়ন দিদারুল আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেন ইসলামী ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল হায়াত মুহাম্মদ তারেক, মাইজভা-ার গবেষক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের (চবি) আরবি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর উল্লাহ, যাকাত তহবিল পরিচালনা পর্ষদের সহ-সভাপতি সৈয়দ নুরুল আমিন ও মোহাম্মদ সিরাজুল মোস্তফা, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বন্দর টিলা শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ ইসকান্দার, জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়ার প্রভাষক হাফেজ মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান, চট্টগ্রাম কলেজের রসায়ন বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. নূ ক ম আকবর হোসেন, দৈনিক সমকালের সিনিয়র সহকারী সম্পাদক নাসির উদ্দিন হায়দার, চবি’র ইসলামী স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ মোরশেদুল হক, আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ্ আল মামুন, ব্যাংক কর্মকর্তা নওশাদ আব্বাস, এসআইবিএল চকবাজার শাখার ম্যানেজার মোহাম্মদ মনসুর আলম, চট্টগ্রামের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের হিসাব রক্ষক প্রফেসর একেএম ইকবাল হোসেন, আল-আমিন বারিয়ার অধ্যক্ষ আল্লামা ইসমাঈল হোসেন, মিনহাজুল কুরআনের সাধারণ সম্পাদক আল্লামা শহিদুল ইসলাম, প্রাইমারী শিক্ষা ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ নজির আহমদ, জমিয়তুল ফালাহ্ মসজিদের পেশ ইমাম আল্লামা হাফেজ আহমদুল হক প্রমুখ। এছাড়াও গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাস্ট ও প্রকল্পের কার্যক্রমের প্রামাণ্য চিত্র পরিবেশন করা হয়।
উল্লেখ্য দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প (যাকাত তহবিল) ২০০৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৮টি খাতে ১৩৪১জনকে ৩,০০,৪১,৯৩০ টাকা মূল্যের যাকাত সামগ্রী ও নগদ টাকা প্রদান করা হয়।