সভাপতি হাসিনা, সম্পাদক আনজি

প্রকাশ:| মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি , ২০১৭ সময় ০৮:৫০ অপরাহ্ণ

প্রায় দুই দশক পর হওয়া চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাসিনা মহিউদ্দিন। সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন আনজুমান আরা চৌধুরী আনজি।

মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সম্মেলনের উদ্বোধন শেষে কাউন্সিল অধিবেশনে সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ কমিটির ৬টি পদে নাম ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা তাদের নাম প্রস্তাব করলে কাউন্সিলররা সর্বসম্মতিক্রমে হাত তুলে সমর্থন জানান।

কমিটির অন্যান্যদের মধ্যে সহ সভাপতি হয়েছেন সাবেক কাউন্সিলর মমতাজ খান, রওশন আরা ইউসুফ, নূরনাহার মোতালেব, রওশন আরা আমিন, হামিদা রশিদ এবং তপতী সেনগুপ্তা।

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন চসিকের কাউন্সিলর নীলু নাগ, সাবেক কাউন্সিলর রেখা ‍আলম চৌধুরী ও মালেক বেগম।

এছাড়া হোসনে আরা বেগম সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

হাসিনা মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে জানিয়েছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা তারা কাউন্সিল অধিবেশন শেষে ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরার কাছে জমা দিয়েছেন। কমিটি দ্রুত অনুমোদন দিয়ে সেটি পাঠাবে বলে তারা আশা করছেন।

হাসিনা মহিউদ্দিন সাবেক মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী। সাধারণ সম্পাদক আনজুমান আরা চৌধুরী আনজি আগের কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

এছাড়া সহ সভাপতি রওশন আরা ইউসুফ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়াত উপাচার্য ড.আবু ইউসুফ আলমের স্ত্রী।

নগর মহিলা আওয়ামী লীগে হাসিনা মহিউদ্দিনের বিরোধী একটি অংশ সক্রিয় আছে। ঘোষিত আংশিক কমিটিতে সেই অংশ থেকেও দুজন পদ পেয়েছেন।

এরা হলেন সহ সভাপতি তপতী সেনগুপ্তা এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেখা আলম চৌধুরী।

সম্মেলনে উপস্থিত কাউন্সিলরদের সূত্রে জানা গেছে, কাউন্সিল অধিবেশনে সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণার পর ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা প্রথম যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে রেখা আলম চৌধুরীর নাম ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত কাউন্সিলররা এর প্রতিবাদ করে নীলু নাগের নাম প্রস্তাব করেন। হট্টগোলের এক পর্যায়ে ইন্দিরা আবার এক নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নীলু নাগের নাম প্রস্তাব করেন। কাউন্সিলররা হাত তুলে তাতে সমর্থন জানান।

রেখা আলম চৌধুরীর নাম কমিটিতে এলেও তিনি সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না। তার কর্মীদের কাউন্সিলর করা হয়নি এই অভিযোগে তিনি সম্মেলনে প্রবেশ করেননি।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে হাসিনা মহিউদ্দিন বাংলানিউজকে বলেন, রেখা আলম আমাদের মাননীয় মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন সাহেবের প্রাণপ্রিয় চাচীশাশুড়ি। উনি (মেয়র) আমাদের ইন্দিরা আপাকে রেখা আলমের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন। এখন মেয়র সাহেবের সম্মান রক্ষা না করে তো পারা যাবে না। উনি তো সম্মানী মানুষ। সেজন্য রেখা আলমকে দুই নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

১৯৯৮ সালে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ সম্মেলনে গঠিত কমিটিতে তপতী সেনগুপ্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। পরে হাসিনা মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে তিনি বিদ্রোহী হন।

মঙ্গলবারের সম্মেলনে তপতীর অনুসারীদের কেউই সম্মেলনে ঢুকতে পারেননি। ঢুকতে না পেরে প্রবেশপথে পুলিশের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে জড়ান তারা। এছাড়া সম্মেলনের প্রধান অতিথির গাড়িবহর আটকানোর চেষ্টা করেন তারা। সাড়া না পেয়ে সম্মেলনের পুরো সময় বাইরেই কাটাতে হয়েছে বিদ্রোহী শ’খানেক নেতাকর্মীকে।

এদিকে সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনের প্রধান অতিথি ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, একসময় নারীদের বলা হত অসহায়-অবলা। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। নারীরা এখন স্বাবলম্বী হচ্ছে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

‘তবে আশকাংর বিষয় হচ্ছে, নারীরাও জঙ্গিবাদে জড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে অনেকেই আত্মঘাতী জঙ্গি হচ্ছে। ধর্মের ভুল ব্যাখা দিয়ে নারীদেরও আত্মঘাতী পথে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’

তিনি বলেন, এখানে মহিলা লীগের নেতাকর্মীরা ভূমিকা রাখতে পারেন। ঘরে ঘরে গিয়ে মা-বোনদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাদের জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার করতে হবে। কেউ যাতে তাদের বিপথে নিয়ে যেতে না পারে সেজন্য মহিলা লীগের কর্মীদের কাজ করতে হবে।

হাসিনা মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এতে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মহিলা লীগের সহ সভাপতি বেগম সাফিয়া খাতুন ও অঞ্জলী সরকার, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শিরিন রোখসানা, সংসদ সদস্য বেগম সাবিহা মুসা, দক্ষিণ জেলা মহিলা লীগের সভানেত্রী ও সাবেক সাংসদ হাসিনা মান্নান।

উদ্বোধনী ‍অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কাউন্সিলর নীলু নাগ।