সব অর্জন আওয়ামী লীগের: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ:| রবিবার, ২৩ জুন , ২০১৩ সময় ১১:০৩ অপরাহ্ণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশের যতটুকু অর্জন তার অবদান আওয়ামী লীগের।hasina3 (1)_5541_0

জনগণের সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় এলে ভারতের সঙ্গে মামলাতেও জিতে সমুদ্রসীমায় পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি উন্নত, মর্যাদাসম্পন্ন জাতি হিসেবে ২০২১ সালে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করা হবে।

আওয়ামী লীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। অনির্ধারিত আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের সদস্য আমীর হোসেন আমু এবং তোফায়েল আহমেদ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৪৭ সালে পাকিস্তান হওয়ার পর থেকে পাকিস্তানীদের শোষণ ও মাতৃভাষার ওপর আঘাতের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হয়। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ভাসানীকে সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলে থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সম্পাদক হন।”

তিনি বলেন, ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন ষড়যন্ত্রকারীরা নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে চক্রান্তের মাধ্যমে পরাজিত করে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত করেছিল। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন সেই বাংলাদেশকে আবার নতুন করে স্বাধীন করার জন্য আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই দেশের নাম বাংলাদেশ সেটাও উচ্চারণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আইয়ুব খানের রক্তচক্ষু, ট্যাংক উপেক্ষা করে তিনি বাংলাদেশের নাম উচ্চারণ করেন। তিনি সমস্ত বাংলাদেশ ঘুরে ঘুরে নিউক্লিয়াস গঠন করেছিলেন মানুষকে স্বাধীনতার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করার জন্য।”

“তিনি যেখানে বক্তৃতা করতেন সেখানেই গ্রেফতার হতেন। গ্রেফতার, জুলুম নির্যাতনে তিনি থেমে যাননি। তিনি স্বাধীনতার লক্ষ্যে দৃঢ় চিত্তে অটুট থেকে ছয় দফা ঘোষণা করেন। পাকিস্তানী স্বৈরশাসকরা তাকে নিবৃত্ত করার জন্য তার বিরুদ্ধে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দেয়া হয়। পরে এই তথাকথিত মামলা বাংলার মানুষের দুর্বার আন্দোলনের চাপে প্রত্যাহার করতেও বাধ্য হয় পাকিস্তানি স্বৈরশাসক। বাংলার ছাত্র জনতা তাদের প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করে।”
এই দেশের নাম বাংলাদেশ সেটাও উচ্চারণ করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
শেখ হাসিনা বলেন, “ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম’। সেই সময় তিনি যে নিদের্শ দিতেন সমগ্র জাতি সেই নিদের্শ মেনে চলতো। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পরও পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা আওয়ামীলীগকে সরকার গঠন করতে দেয়নি। তখন বাংলার মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে।

শেখ হাসিনা বলেন, “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ দিলেন। চুড়ান্ত স্বাধীনতার সংগ্রামের জন্য বাঙালিকে প্রস্তুত হতে বললেন। তার নির্দেশে পাকিস্তানের শাসন অচল হয়ে গেল। এ কারণে ২৫ মার্চ ইতিহাসের বর্বর গণহত্যা শুরু করে পাকিস্তানী সামরিক শাসকরা। বঙ্গবন্ধু সেদিন রাতেই স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন। টেলিগ্রাম, টেলিপ্রিন্টার, এবং তৎকালীন ইপিআর এর মাধ্যমে মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে সারা দেশের মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করে। ৩ কোটি মানুষ বাস্তুহারা হয়। ১ কোটি মানুষ ভারতে আশ্রয় নেয়। বন্ধু প্রতিম দেশগুলো সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। নয় মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জিত হয়।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার পর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সে সময় যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ পুর্নগঠন করা সহজ ছিল না। কোন খাবার ছিলো না, বাহন ছিলো না, বন্দর অচল ছিলো, ৩শ রেল-ব্রিজ ভাঙ্গা ছিলো, ২৭৪ সড়ক সেতু ধ্বংস ছিলো। এই বিধ্বস্ত অবস্থায় দাঁড়িয়ে মাত্র সাড়ে ৩ বছরে সেইসব মেরামত করা, যানবাহন কেনা, বিধ্বস্ত একটি দেশ কে নতুন করে গড়ে তোলার সমস্ত কাজ করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।”

বাংলাদেশ এভাবে সাড়ে ৩ বছরে ঘুরে দাঁড়াবে কেউ কল্পনা করতে পারেনি- এ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি যারা বাঙ্গালির বিজয় মেনে নিতে পারেনি তারাই নতুন একটি রাষ্ট্রের অভূতপূর্ব অগ্রগতি মেনে নিতে পারেনি। তারাই ১৫ আগস্ট রাতে আবারও আঘাত হানে বাঙালির ওপর। সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। ছোট্ট রাসেলকেও হত্যা করে।”

১৯৮১ সালে আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দেশে ফিরে আসলে তৎকালীন শাসক জিয়াউর রহমান ৩২ নম্বর গিয়ে দোয়া-মোনাজাত পর্যন্ত করতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দীর্ঘ ২১ বছর দেশের মানুষ জনগণের সরকার পেয়েছিল, জনকল্যাণের সরকার পেয়েছিল। দেশ আবার উন্নয়নে ধারায়, দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জনের ধারায় এগিয়ে যাওয়ার মুহূর্তে ২০০১ সালে বিএনপি জামায়াত-ক্ষমতায় এসে সবকিছু শেষ করে দেয়। নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর প্রক্রিয়ায় বিএনপি-জামায়াতের সশস্ত্র কর্মীরা নির্বিচারে আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মীদের হত্যা, গণধর্ষণ, গণনির্যাতন চালায়।”

২০০৮ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর আবারও দেশকে উন্নয়নের ধারায় নিয়ে গেছে মহাজোট সরকার- এ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা বলেছিল, বঙ্গবন্ধু খুনীদের কখনও বিচার হবে না, তাদের শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়েছিল, তা আবার শুরু করা হয়েছে। যে মাশার্ল ল অডিন্যান্সের মাধ্যমে সংবিধানের পরিবর্তন করে নানা কালা কানুন জাতির ওপর চাপানো হয়েছিল তা সংশোধন করে সংবিধানকে আবারও স্বমর্যাদায় পুন:প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।”

আওয়ামী লীগ যখনই সরকারে এসেছে তখনই এদেশের মানুষ কিছু পেয়েছে- এ কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “আন্তর্জাতিক যত সমস্যা ছিলো তারও নিরসন করেছে আওয়ামী লীগ। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে পানিচুক্তির মাধ্যমে গঙ্গার পানির নায্য হিস্যা নিশ্চিত করা হয়েছিল, শান্তিচুক্তির মাধ্যমে সংঘাতপূর্ণ এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। এবার জনগণের ভোটে আবারও নির্বাচিত হয়ে মায়ানমারের সঙ্গে মামলায় জিতে সমুদ্রসীমায় অধিকার প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ভারতের সঙ্গেও মামলায় জিতে সমুদ্র সীমায় পূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

তিনি বলেন, “দীর্ঘ সংগ্রাম আর ত্যাগের পথ পড়ি দিয়েছে বলেই আওয়ামীলীগ সরকারে থাকলে দেশের উন্নয়ন হয়, অন্যদের সংগ্রাম, ত্যাগের অভিজ্ঞতা নেই বলে তারা জাতির উন্নয়ন করতে পারে না। আওয়ামীলীগ চায় একটি মর্যাদাসম্পন্ন, উন্নত জাতি হিসেবে ২০২১ সালে বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতে।”