সব অভিযোগ ভিত্তিহীন -ইউনূস সেন্টার

প্রকাশ:| সোমবার, ৯ সেপ্টেম্বর , ২০১৩ সময় ১০:২৫ অপরাহ্ণ

yunus centre_53199.pngশান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও গ্রামীণব্যাংকের সাবেক এমডি ড. মুহাম্মদ ইউনূস আয়কর ফাঁকি দিয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে-মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইউনূস সেন্টার বলেছে, যে সব অভিযোগ এনে মন্ত্রিসভা মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ভিত্তিহীন।

আজ সোমবার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পর রাতে এক বিবৃতিতে সেন্টারের পক্ষ থেকে এই প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। নোবেলজয়ী ইউনূস এই সেন্টারের প্রধান।

ব্যাখ্যায় বলা হয়, নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আয়কর ‘ফাঁকি’ দিয়েছেন এরকম কোন কথা এন. বি আর বলেনি। এনবিআর বলেছে তিনি আয়কর অব্যাহতি চেয়েছেন এবং আইন অনুসারে এনবিআর সে আয়কর অব্যাহতি দিয়েছেন। এখানে আইনের কোন বরখেলাপ হয়নি। তিনি আইন ভঙ্গ করে কোন কাজ করেননি।

ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, এনবিআর তার প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছে যে সুপ্রীম কোর্টের রায় অনুসারে প্রফেসর ইউনূস একজন পাবলিক সার্ভেন্ট। পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে তাঁকে বিদেশে থেকে কোন আয় গ্রহণ করতে হলে, পুরস্কার গ্রহণ করতে হলে, বিদেশে ভ্রমণ করতে হলে তাঁকে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। অথচ কোন সময় তিনি সেটা করেননি। এতে তিনি আইন ভঙ্গ করেছেন।

আজ মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক শেষে জানানো হয়, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকাকালে ড. ইউনূস পূর্বানুমতি ছাড়াই বিদেশ সফর, ওয়েজ আর্নারের আওতায় আয়কর অব্যাহতি সুবিধা গ্রহণ, আয়কর রিটার্নে যথাযথ তথ্য প্রদান না করাসহ বিধি বহির্ভূতভাবে যেসব সুবিধা নিয়েছেন এর বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা সাংবাদিকদের জানান, গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে একটি তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে গত বছর ২ আগস্ট মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। এবং এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। আজকের (সোমবার) মন্ত্রিসভায় এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

‘বিস্তারিত প্রতিবেদনটি এনবিআর জনসমক্ষে প্রকাশ করবে’ জানিয়ে সচিব বলেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকাকালে ড. ইউনূস যথাযথ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন, বিভিন্ন দেশ থেকে পুরস্কার, সম্মাননা ও রয়্যালটি নিয়েছেন এবং ওয়েজ আর্নারের আওতায় এসব পুরস্কার ও সম্মাননার ক্ষেত্রে তিনি কর অব্যাহতির সুবিধা নিয়েছেন।

তিনি জানান, ড. ইউনূস ২০০৪ সালের জুন থেকে ২০১১ পর্যন্ত সাত বছরে ১৩৩টি বৈদেশিক প্রতিষ্ঠান থেকে সম্মানী, ১০টি প্রতিষ্ঠান থেকে পুরস্কার ও ১৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে রয়্যালটি বাবদ মোট ৫০ কোটি ৬১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৮৮ টাকা করমুক্ত আয় হিসেবে আয়কর নথিতে উল্লেখ করেছেন। এর বিপরীতে তিনি আয়কর অব্যাহতি সুবিধা নিয়েছেন ১২ কোটি ৬৫ লাখ ৪৬ হাজার টাকা ৩৯৭ টাকা।