সবুজ নিসর্গ হারিয়ে যেতে মন চায়

প্রকাশ:| শনিবার, ১১ মার্চ , ২০১৭ সময় ১১:৩৫ অপরাহ্ণ

সবুজ নিসর্গ হারিয়ে যেতে মন চায়। পাহাড়ি টিলায় উঁচুনিচু সারি সারি সবুজ চা বাগান। মেয়েরা মাথায় ঝুড়ি বেঁধে চা তোলে। প্রতটি চা বাগানে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন প্রাকৃতিক দৃশ্য। চিরাচরিত নিয়মে নারী চা শ্রমিকদের সবুজ চা সংগ্রহের মনোরম দৃশ্য আর তাদের ঘামঝরানো মেহনত আগন’কের হৃদয় ব্যাকুল করে তোলে।
চা পাতা সংগ্রহকারী শ্রমিকের কর্মব্যস্ত দৃশ্য। পাখির কলতান। লাল মাটির সবুজ পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথে যত যাই আরো যেতে ইচ্ছে করে।
এমন সব চিত্র চোখে পড়বে ফটিকছড়ির ১৭টি চা বাগানে বেড়াতে গেলে। তাই ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে আসতে পারেন ফটিকছড়িতে। চা বাগানের সম্পদ ও শ্রমিক-কর্মচারীদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষী রয়েছে। ফেনী থেকে বেড়াতে আসা ভ্রমণপিয়াসী মো. তমিজ উদ্দিন বলেন, আমি জানতাম না ফটিকছড়িতে চা বাগানে রয়েছে। এত সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে অবাক লাগছে। চট্টগ্রাম থেকে রামগড় চা বাগানে বেড়াতে আসা পর্যটক অধ্যাপক মামুন আর আমি সময় পেলে চা বাগানে ঘুরতে আসি। চা বাগানের দৃশ্য আমাকে বারবার নিয়ে আসে এখানে।
প্রায় ২ শ বছর পূর্বে বৃটিশ শাসনকালে শৌখিন ব্রিটিশরা এদেশে চা শিল্প গড়ে তোলে। সেই সুবাদে পাহাড়বেষ্টিত বৃহত্তর ফটিকছড়িতে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম কর্ণফুলী চা বাগানসহ ১৭টি চা বাগান গড়ে উঠেছে। এইসব চা বাগানকে কেন্দ্র উত্তর চট্টগ্রামের বৃহত্তর বাণিজ্যকেন্দ্র নাজিরহাট পর্যন্ত রেললাইন গড়ে ঊঠেছিল। এছাড়াও উদালিয়া চা বাগানে রয়েছে চা গবেষণাগার।
চা বাগানে হরিণ, বনবিড়াল, বনমোরগ, খরগোশ, সাপসহ অনেক দুর্লভ প্রাণীর দেখা মিরতে পারে। বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত ঘেঁষে আরেক অপরূপ দর্শনীয় স’ান রামগড় চা বাগান। এই বাগানের চতুর্দিকে রয়েছে পাহাড়ি বনাঞ্চল, ঢাকা-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক। সীমান্তবর্তী হওয়ায় বাগানের অপরূপ মনোরম দৃশ্য পথিকের মন সহজেই কেড়ে নেয়।
ছোট-ছোট খাল-ছড়া, লেক চা-রাবার বাগান, গাড়িটানা-ভুজপুর-নাজিরহাটসড়কে ভুজপুর হালদা রাবার ড্যাম আকর্ষণ করে ভ্রমণপিপাসুদের। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর কর্ণফুলী চা বাগান ফটিকছড়ি থানা সদর থেকে ৫ কিমি পূর্বে লেলাং ইউনিয়নে অবসি’ত। আর ভুজপুর থানার পূর্ব পাশে হালদা নদীর পাড় ঘেঁষে অবসি’ত কৈয়াছড়া চা বাগান। এই বাগান দুটির পাশে বৃহত্তর দুই পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সীমান্ত। খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি ও সেমুতাং গ্যাসক্ষেত্র ঘেঁষে নারায়নহাট ইউনিয়নে অবসি’ত ইস্পাহানি গ্রুপের নপচুন চা বাগান। বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন সংস’ার নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়ক ঘেঁষে দাঁতমারা রাবার বাগান, গহিরা-হেয়াকো সড়ক ঘেঁষে তারাখো রাবার বাগান, চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়কের পাশে কাঞ্চননগর ও রাঙামাটিয়া রাবার বাগান অবসি’ত হওয়ায় ভ্রমণপিপাসুদের নজর সহজেই আকৃষ্ট হয়।
পেড্রোলো গ্রুপের মালিকানাধীন হালদা ভ্যালি ও রামগড় চা বাগানের সিনিয়র ব্যবস’াপক মো. জাহাংগীর আলম বলেন, চা চাষ একটি শৌখিন চাষাবাদ ও ব্যবসা। বাগান ম্যানেজারের বাংলোগুলো শৌখিনভাবেই তৈরি। বলতে গেলে একটি ম্যানেজারের বাংলো এক একটি পর্যটন কেন্দ্র। এসব দেখতে প্রতিদিন অনেক দর্শনার্থী এখানে ভিড় করে। তিনি বলেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এসব পর্যটনস্পট ভ্রমণপিয়াসীদর জন্য আরো মোহনীয় করে গড়ে তোলা যেতে পারে।
থাকা-খাওয়া : ফটিকছড়ি সদরে রয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের বিশাল বাংলো। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমতিক্রমে এখানে থাকা যায়। চা বাগানে থাকতে হলে সংশ্লিষ্ট চা বাগানের অনুমতিক্রমে ব্যবস’া হতে পারে। ফটিকছড়ি, নাজিরহাট, হেয়াঁেকাতে রয়েছে বেসরকারি পর্যায়ে আবাসিক হোটেল।