সবাই মিলে কক্সবাজারকে ইয়াবা মুক্ত করতে

প্রকাশ:| রবিবার, ৭ মে , ২০১৭ সময় ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

সেলিম উদ্দিন, ঈদগাঁও (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: কক্সবাজারকে ইয়াবা মুক্ত করতে সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, কক্সবাজারের একটি বদনাম রয়েছে। এখান থেকে ইয়াবা সরবরাহ করা হয়। যে কোনভাবে ইয়াবা বন্ধ করতে হবে। ইয়াবা সরবরাহের সাথে জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।
শনিবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়ামে আয়োজিত বিশাল জনসমুদ্রে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় মাদকের ভয়াবহতা উল্লেখ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক এক একটি পরিবারকে ধ্বংস করে। জীবনের চরম ক্ষতি করে। তাই প্রতিটি সন্তানকে মাদক মুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস রুখে দিতে হবে। কোনভাবে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস চলতে পারে না।
কক্সবাজারে পর্যটন উন্নয়নের বড় বড় মেগা উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, তার বর্তমান সরকার এর লক্ষে কাজ শুরু করেছেন। কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়ক উদ্বোধন, কক্সবাজার বিমান বন্দরে আন্তর্জাতিক ফøাইটে অবতরণ, কক্সবাজারে বিশ্বের তৃতীয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ষ্টেডিয়াম স্থাপন, মেডিকেল কলেজ সহ ধারাবাহিক উন্নয়ন কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে সহায়ক হবে।
তিনি কক্সবাজারের মহেশখালী বিদ্যুৎ কেন্দ্র, টেকনাফে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, এক্সক্লোসিভ ট্যুরিষ্ট জোন, নাফ ট্যুরিজম পার্ক নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘুমধুম পর্যন্ত রেল লাইন প্রকল্পের কাজ, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে চার লাইনে উন্নয়নের কাজ শুরু করা হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশে মানুষ না খেয়ে গৃহহারা থাকবে না এমন স্বপ্ন দেখতেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু। তাই তার স্বপ্ন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের প্রতিনিটি মানুষের জন্য ঘর এবং তাদের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করতে সরকার বন্ধ পরিকর।
বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের আমলে কক্সবাজারে নিহত ৬ নেতাকর্মীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে দেশে সন্ত্রাস ও অরাজকতার সৃষ্টি করে। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মামলা দিয়ে হয়রানি করে। বাংলা ভাই শায়েখ আব্দুর রহমান তারই প্রমাণ। তিনি সোনাদিয়ায় সমুদ্র বন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে মহেশখালী দ্বীপকে জিডিটাল দ্বীপ ঘোষনা করেনি। কক্সবাজারে আমরা সমুদ্র গবেষনা ইনষ্টিটিউট করেছি। এর মাধ্যমে সমুদ্রের জাহাজ, মৎস্য প্রাণী সম্পর্কে ধারণা পাবো।
তিনি আরো বলেন, খালেদা জিয়া ক্ষমতায় থাকার সময় গঙ্গার পানির ব্যাপারে কিছুই করতে পারেনি। তিনি (খালেদা জিয়া) ক্ষমতায় না থাকলে ভারত বিরোধি হয়ে যায়, আর ক্ষমতায় গেলে ভারতের সাথে আপোষ মিমাংশ করেন। এটিই তাদের নীতি।
২০১২ সালে রামু বৌদ্ধ বিহারে হামলার জন্য জামায়াত বিএনপিকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রামুতে বৌদ্ধ মন্দিরে হামলা কারা করেছে এটা এখন প্রমাণিত। বিএনপি জামায়াতের হাতে মসজিদ, মন্দির ও গীর্জা কিছুই নিরাপদ নয়। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন হয়। ভিক্ষাবৃত্তিকে অসম্মানকর মাধ্যম উল্লেখ করে বাংলাদেশকে ভিক্ষুক মুক্ত করার ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী।
নৌকার পক্ষে ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, আওয়ামীলীগ উন্নয়নের দল। আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসলে উন্নয়ন হয়। নৌকা মার্কাটি জনগনের মার্কা। নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। নৌকায় ভোট দেয়ার কারণে ধারাবাহিক উন্নয়ন হচ্ছে। তাই যত গুলো নির্বাচন আসবে, সব নির্বাচনে নৌকায় ভোট দেয়ার আহবান জানান।
কক্সবাজার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এডভোকেট সিরাজুল মোস্তফার সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আওয়ামলীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গণর্পূত মন্ত্রী মোশারফ হোসেন, পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পৌছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কক্সবাজার বিমান বন্দরে বোয়িং বিমানের বাণিজ্যিকভাবে চলাচলের উদ্বোধন করেন। পরে সকাল ১১টার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক হয়ে ইনানী পৌছেন এবং সেখানেই ২৮ কিলোমিটার পেয়েন্টের মেরিন ড্রাইভ সড়কের ফলক উন্মোচন করেন।