সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গির নাম বাংলাদেশের হাতে

প্রকাশ:| সোমবার, ১৭ নভেম্বর , ২০১৪ সময় ০৯:৪৯ অপরাহ্ণ

জঙ্গিরা ভারতের বর্ধমানে বিস্ফোরণসহ দু–একটি ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন কয়েকজন জঙ্গির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশকে দিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে এনআইএর প্রতিনিধিদল।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক চলার সময় বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের হাতে নামগুলো দেয়া হয়।

বর্ধমানের খাগড়াগড়ের ওই বিস্ফোরণের ঘটনায় বাংলাদেশি জঙ্গি গোষ্ঠী জড়িত কিনা, তা জানতে দু’দিনের সফরে সোমবার ঢাকায় আসে এনআইয়ের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, তারা কয়েকটি নাম দিয়েছেন। সেগুলো ভারতীয় না বাঙালি তা নিশ্চিত নয়। কারণ একেকজন জঙ্গির ১০০ নামও থাকে। তবে এগুলো এখন যাচাই করা হবে।

মনিরুল বলেন, জেএমবিসহ অন্য জঙ্গিরা যাতে এপাশে (বাংলাদেশ) বা ওপাশে (ভারত) মাথাচাড়া দিতে না পারে, আশ্রয় নিতে বা ঘাঁটি গাড়তে না পারে, সেজন্যও আলোচনা হয়েছে।

এর আগে দুপুরেও প্রতিনিধিদলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্বরাষ্ট্রসচিবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

দুপুরের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রসচিব মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের বলেন, ভারতের এই ঘটনায় এনআইএ মনে করেন দুষ্কৃতকারীরা ভারতের লোকও হতে পারে, বাংলাদেশেরও হতে পারে। এ বিষয়ে তারা সহযোগিতা চেয়েছেন। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কামাল উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটি তাদের (এনআইএ) সঙ্গে তথ্য আদান–প্রদান করবে।

গত ২ অক্টোবর বর্ধমানে বোমা বিস্ফোরণে শাকিল আহমেদ ও সুবহান মণ্ডল নামের দু’জন নিহত এবং আবদুল হাকিম নামের একজন আহত হন। তারা জেএমবির সদস্য বলে প্রাথমিক তদন্তে এনআইএ জানতে পেরেছে। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া প্রধান সন্দেহভাজন শেখ রহমাতুল্লাহ ওরফে সাজিদ নারায়ণগঞ্জের ফরাজীকান্দা এলাকার বাসিন্দা বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে।

এরপর নারায়ণগঞ্জের ফরাজীকান্দার নিজ বাড়ি থেকে সাজিদের বড় ভাই সন্দেহে মোনায়েম হোসেন ওরফে মনাকে আটক করে র্যা ব। পরে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি যাচাইবাছাই করার জন্য তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে আইনি হেফাজতে রাখার জন্য মামলা হয়। ওই মামলায় তার দু’দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করে আদালত।

ভারতীয় গণমাধ্যমে বলা হয়, এনআইএর প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ ও নদীয়া জেলায় ইসলামি রাষ্ট্র গড়ার ছক এঁকেছিল জেএমবি। বিস্ফোরণে জড়িত ১২ জনের চারজন বাংলাদেশের। –