‘‘সততা, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে আজীবন আপোষহীন ছিলেন কফিল উদ্দিন’’

প্রকাশ:| শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর , ২০১৫ সময় ০৯:৫৭ অপরাহ্ণ

কফিল উদ্দিনের স্মরণসভাএকাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে আর্ন্তজাতিক আদালতে তোলার দাবি জানিয়েছেন সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের সিনিয়র সহ সভাপতি ও সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান অবসরপ্রাপ্ত লে.জেনারেল হারন অর-রশিদ বীরপ্রতীক।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সাবেক সংসদ সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা এম কফিল উদ্দিনের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি দাবি জানান। সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

হারুন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তি পাকিস্তান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন বিষয় নিয়ে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছে। এটা উদ্বেগজনক। একাত্তরে গণহত্যার জন্য পাকিস্তানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে। নইলে আর্ন্তজাতিক আদালতে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।

হারুন আরও বলেন, সততা, নীতি-আদর্শের প্রশ্নে আজীবন আপোষহীন ছিলেন কফিল উদ্দিন। মুক্তিযুদ্ধ সহ দেশের সকল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক আন্দোলনের বলিষ্ট সংগঠক ছিলেন তিনি। কফিল উদ্দিনের মত নেতা বর্তমান সময়ে বিরল। একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারের দাবিতে আমৃত্যু তিনি আন্দোলন করে গেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার সূচনাপর্ব দেখে গেলেও তিনি বিচারের শেষ পরিণতি দেখে যেতে পারেননি।

একই অনুষ্ঠানে সিপিবি’র প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. শাহ আলম বলেন, সাধাসিধে সহজ-সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত ছিলেন কফিল উদ্দিন। গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রশ্নে ছিলেন অত্যন্ত দৃঢ়চেতা সংগ্রামী নেতা। তিনি যা বিশ্বাস করতেন তাই করতেন। বর্তমান সময়ে তার মত গণমুখি রাজনীতিবীদের বড়ই অভাব।

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন বলেন, রাজনীতিকে যারা ব্যবসা হিসেবে মনে করেন কফিল ভাই তাদের দলে ছিলেন না। তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মহানগর শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম মন্টু।

সংগঠনের নেতা আরিফ মঈনুদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরামের বিভাগীয় সদস্য সচিব বেদারুল আলম চৌধুরী বেদার, উত্তর জেলার সভাপতি ড. মাহমুদ হাসান ও দক্ষিণ জেলার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো. ইদ্রিস।


আরোও সংবাদ